আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বিচারক ও আইনজীবীদের অগ্রনী ভ’মিকা পালন করতে হবে। —প্রধান বিচারপতি

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০১৯
0

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আইনজীবীগণ বিচার ব্যবস্থার একটি অন্যতম অনুষঙ্গ। আইনজীবীগণ হচ্ছেন সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার, আর বিচারকরা হচ্ছেন বিচারের মূর্ত প্রতীক। আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিচারক ও আইনজীবীদের সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রনী ভ’মিকা পালন করতে হবে। আইনজীবীগণ বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ। আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া বিচার ব্যবস্থা কিছুতেই অগ্রসর হতে পারে না।

গাজীপুরের জেলা জজের বিচারক সংকটের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, গাজীপুর আদালতে এজলাশের সংকট না থাকলে এখানে আরও বিচারক প্রেরণ করা হবে, যাতে এখানে বিচার কাজ ত্বরান্বিত হয়।

রোববার বিকেলে প্রধান বিচারপতি ২০০৫সালে গাজীপুর আইনজীবি সমিতির কক্ষে জেএমবি’র আত্মঘাতি বোমা হামলার ১৪ বছর উপলক্ষে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয় চত্বরে আলোচনাসভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওইসব কথা বলেন।

গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধরণ সম্পাদক মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্সের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম আবুল কাশেম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম, সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আইনজীবী আজমত উল্লাহ খান, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এসএম সফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জজ আদালতের আইনজীবী ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, পিপি মো. হারিছ উদ্দিন আহমদ, আইনজী সুলতান উদ্দিন, জিপি মো. আমজাদ হোসেন বাবুল, আইনজীবী নুরুল আমিন, দেওয়ান আবুল কাশেম, জেবুন্নেছা মিনা প্রমূখ।

প্রধানবিচারপতি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাজনৈতিক অপশক্তির প্রভাবে দেশে ধর্মান্ধ ও প্রতিক্রিয়াশীল বিভিন্ন চক্রের উদ্ভব ঘটেছে। এরপর নানা পৃষ্ঠপোষকতায় স্বাধীনতা বিরোধী ও জঙ্গীবাদে বিশ্বাসে এই চক্র দেশে বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে। এই চক্রের মূল টার্গেটে হল বিচারাঙ্গন। দেশের বিচারাঙ্গনের বিচারক ও আইনজীবীগণ এই বর্বর চক্রের নির্মম ও মর্মান্তিক হামলার শিকার হয়েছে। মূলত যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বকে বিশ্বাস করেনা। সেই বিপদগামী গোষ্ঠী বারবার বিচার ব্যবস্থার উপর আঘাত করেছে। তারা বিচারক হত্যা করে, আইনজীবী হত্যা করে। তারা জানে না ব্যক্তিকে হত্যা করা যায়, আদর্শকে হত্যা করা যায় না। বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে এবং দেশকে অস্তিতিশীল করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তাদের এই অপপ্রয়াস। তাদের এ অপপ্রয়াসকে রুখে দাড়াতে হবে।

এর আগে রোববার সকালে প্রথমে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ের চত্বরে ওই সংগঠণের সভাপতি এডভোকেট মো: খালেদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: মনজুর মোর্শেদ প্রিন্সসহ জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করেন এবং তাদের সহকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। এ উপলক্ষে একটি শোকর‌্যালী বের করা হয়। দুপুরে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাঙ্গণে এক দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হয়।

গাজীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. এ কে এম আবুল কাশেম, গাজীপুর আদালতের বিচারকবৃন্দ এবং গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ নিহত আইনজীবীদের জন্য স্মৃতি স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর সকালে গাজীপুরের আইনজীবি সমিতির ২নং হলরুমে জেএমবি’র আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। আইনজীবিদের চিরাচরিত কালো পোশাক পরিহিত ছদ্মবেশী জেএমবি সদস্যের আত্মঘাতী হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৪ আইনজীবি মো: আমজাদ হোসেন, মো: আনোয়ারুল আজিম, মো: গোলাম ফারুক, মুহাম্মদ নুরুল হুদা ও ৫ বিচারপ্রার্থী ছাড়াও আত্মঘাতি জঙ্গি শরীয়ত উল্লাহ ওরফে আসাদুল ইসলাম। আহত হন অন্তত ২৫ আইনজীবি এবং আরো অনেকে। এছাড়া একই বছরের ১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান ফটকে আত্মঘাতি বোমা হামলায় ৯ আইনজীবী ছাড়াও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও পথচারি আহত হন। এ ঘটনায় গুরুতর আহতদের মধ্য থেকে এস এম জয়নাল আবেদীন ও এডভোকেট খন্দকার আল-মামুন মাখন পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আইনজীবি কক্ষে বোমা হামলার ঘটনায় ওই সময় ১০টি মামলা হয়। ঘটনার ৮ বছর পর ২০১৩ সালের ২০ জুন অভিযুক্ত ১০ জেএমবি সদস্যের মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন দ্রুত বিচার আদালত-৪।
###
মোঃ রেজাউল বারী বাবুল
গাজীপুর

LEAVE A REPLY