আদালতের নিষেধাজ্ঞা : নিরব নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কার্যক্রমের উপর আদালত কর্তৃক স্থগিতাদেশ জারি হবার পর দলটির দায়িত্বশীলরা নীরব হয়ে যাবার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আগামীতে দলের কার্যক্রমেও ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত এ নিষেধাজ্ঞা আইনি প্রক্রিয়ায় উঠানোর পাশাপাশি যারা দলের কার্যক্রমকে মামলা দিয়ে আটকে রাখতে চায় তাদের ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন নেতাকর্মীরা।
গত বছরের ২৮ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিবসহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় মহানগর বিএনপির কমিটির র্কার্যক্রমে অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাদী পক্ষের আইনজীবীদের অন্তবর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আবেদনের প্রেক্ষিতে দুই দফায় শুনানী শেষে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালত এই আদেশ দেন।
আদালতে মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল এবং তাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন, অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ, অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূইয়া, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম আজাদ, অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অ্যাডভোকেট আশরাফুল আলম সিরাজী রাসেল, অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম শিপলু, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান মোল্লা ও অ্যাডভোকেট আসিফুজ্জামান।
বাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন, অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক, আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী অ্যাডাভোকেট জালালউদ্দিন নগরী ও ব্যারিস্টার মোঃ এনামুল কবির।
গত ১১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র সহকারি জজ শিউলী রানী দাসের আদালতে মহানগরের ১০ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার খান ও একই ওয়ার্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক (পৌরসভাকালীন) বিএনপি নেতা নূর আলম শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ দুইজনই মহানগর বিএনপির সিনিযর সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের অনুগামী হিসেবে পরিচিত।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালকে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর কমিটি আলাদা আলাদ ভাবে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবং গঠনতন্ত্রের বর্ণিত বিধান অনুযায়ী উভয় সংগঠনের অধিক্ষেত্র ও পূর্ব থেকেই বিদ্যমান যা উভয় দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমূহও গঠিত ও পরিচালিত। নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তবাদী দলের অধিক্ষেত্র সহ পাঁচটি থানা যথা ফতুল্লা, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও বন্দর থানার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে বন্দর উপজেলা এবং এই পাঁচটি উপজেলার অন্তর্গত সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

যা তত্ত্বাবধায়ন করেন জেলা কমিটি
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকা নিয়ে গঠনতন্ত্র অনুসারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি গঠিত ও পরিচালিত। এই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ থানার ৮টি ওয়ার্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অন্তর্গত ১০ টি ওয়ার্ড এবং বন্দর থানাধীন ৯টি ওয়ার্ড অর্থাৎ সর্বমোট ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি গঠিত। পৌরসভা থাকাকালীন নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি একইভাবে গঠিত হতো এবং পূর্বে ১নং বাদী বর্ণিত মহানগর কমিটির সভাপতি ছিলেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত ওয়ার পর হতে উপরোক্তভাবেই মহানগর বিএনপি গঠিত। বাংলাদেশের অন্যান্য বৃহৎ রাজনৈতিক দলের ন্যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি একই পদ্ধতিতে গঠিত ও পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নারায়ণগঞ্জ মহানগরের নির্বাহী কমিটি গত ৩০ অক্টোবর ৫ নং বিবাদী মির্জা ফখরুল ইসলাম কর্তৃক অনুমোদিত ১ বিবাদী আবুল কালাম ও ২নং বিবাদী এটিএম কামালকে যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ জনের একটি বেআইনী কমিটি ঘোষণা করা হয়।

যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে। এই বেআইনী কমিটি গঠনকালে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্গত ১-১০নং ওয়ার্ডের কোন নেতাকর্মীকে এই ১৫১ বিশিষ্ট কমিটিতে বাদীপক্ষ সহ কাউকেই পদায়ন করা হয় নাই। উপরন্তু নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির অন্তর্গত ফতুল্লা থানাধীন আলীরটেক ইউপি ও গোগনগর ইউপি এবং বন্দর থানাধীন ৫টি ইউনিয়ন যথাক্রমে মদনপুর ইউপি, ধামগড় ইউপি, মুছাপুর ইউপি, বন্দর ইউপি ও কলাগাছিয়া ইউপি এর নেতাকর্মীকে বেআইনীভাবে উক্ত কমিটিতে অন্তভুক্ত করা হয়েছে যা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এর গঠনতন্ত্রের চরম লংঘন বটে।

যেহেতু বাদীপক্ষ সহ ১-১০ নং ওয়ার্ড এর নেতাকর্মীদের পদায়ন করা হতে বঞ্চিত করার জন্যই সম্পূর্ন অসৎ উদ্দেশ্যে আবুল কালাম, এটিএম কামাল, কাজী মনিরুজ্জামান ও মামুন মাহমুদ বেআইনীভাবে কথিত কমিটি তৈরী করে মির্জা ফখরুলের অনুমোদন নিয়েছে।

মূলত নারায়ণগঞ্জ জেলাধীন নারায়ণগঞ্জ থানার অন্তর্গত সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১-১০ নং ওয়ার্ডগুলোকে বেআইনীভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর এর অন্তর্ভুক্ত হতে কর্তন করে এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত বর্ণিত ইউনিয়নগুলো যেহেতু নারায়ণগঞ্জ মহানগরের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্ণিত ইউনিয়নগুলো যেহেতু নারায়ণগঞ্জ জেলার বহির্ভূত সুতরাং জাতীয়তাবাদী দলের গঠনতন্ত্রের বহির্ভূতভাবে জাতীয়তাবাদী দল নারায়ণগঞ্জ মহানগরের কমিটি ঘোষণা করায় বিগত ৩০ অক্টোবর বেআইনীভাবে ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রার্থী হয়ে বাদীপক্ষ অত্র মোকাদ্দমা দায়ের করিল।

মামলার শুনানী বিষয়ে অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ জানান, বর্তমান নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিটি কেন্দ্র কর্তৃক অনুমোদিত ঘোষিত এবং বৈধ। সেই কমিটিকে কিছু বিশৃংখলাগামী দলীয় কর্মকান্ডের বাইরে থাকা লোকজন একটি মোকদ্দমা দায়ের করেছে। যার কোন আইনত বিধান নেই। সেখানে তারা বলছে এই কমিটি অবৈধ। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে কোর্ট শোকজের ৭ দিনের মধ্যেই আমরা হাজির হয়ে সময় চেয়েছি আমরা লিখিত আপত্তিও দিয়েছি। মামলাটি খারিজের জন্যও আমরা আদালতে আবেদন করেছি এবং তাদের আবেদনের উপরও আমাদের আপত্তির লিখিত আর্জি আদালতে জমা দিয়েছি। আগামী ধার্য্য তারিখে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, এখানে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। শুধুমাত্র তাদের আবেদনের উপর স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল জানান, আমাদের আইনজীবীর ভাষ্যমতে আদালত রাজনৈতিক কার্যক্রমে কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি বরং আদালত বলেছে কেউ কারো মুখোমুখি না হতে এবং যার যার অবস্থানে সে সে থাকতে।

এম আর কামাল
নারায়ণগঞ্জ

LEAVE A REPLY