আবরার নিহত : প্রথম আলোর কাছে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিশ

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৯
0

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত (১৫) নিহতের ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশক ও সম্পাদক, সাময়িকী কিশোর আলোর সম্পাদক, তথ্য মন্ত্রণালয় সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণের অর্থ দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশক, সম্পাদক এবং সাময়িকী কিশোর আলোর সম্পাদককে দিতে বলা হয়েছে।

কলেজটির সাবেক শিক্ষার্থী ওবায়েদ আহমেদের পক্ষে আজ রোববার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাইজুল্লাহ ফয়েজ এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সচিবকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়াও নোটিশ প্রাপ্তির তিনদিনের মধ্যে দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশক, সম্পাদক এবং সাময়িকী কিশোর আলোর সম্পাদকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণের ১০ কোটি টাকা নিহত নাইমুল আবরার রাহাতের পরিবারকে হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে। তবে, ক্ষতিপূরণ না দিলে প্রয়োজনীয় আইন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর বিকেলে ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের ক্যাম্পাসে দৈনিক প্রথম আলোর সাময়িকী কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হলে আবরারকে মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাহাতের মৃত্যুর খবরে ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে শনিবার ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা সেখান থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভির ফুটেজ প্রদানসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন।

রাহাতের মৃত্যুর খবরে রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক-নিন্দা এবং ‘ছাত্রের মৃত্যুর পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া নিয়ে’ সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সমালোচনার পর শনিবার বিকালে এ ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে কিশোর আলো কর্তৃপক্ষও। কিশোর আলো সম্পাদক আনিসুল হক এক ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করেন।

কলেজের দিবা শাখার ছাত্র আবরারের বাড়ি নোয়াখালী। সে সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের অধিবাসী সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের ছেলে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকত। শনিবার সকালে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। সোনাইমুড়ি (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, লাশ গ্রামের বাড়ি পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে, জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

নিহত আবরারের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে কালক্ষেপণ করে পাশে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীতে ইউনিভার্সাল হাসপাতালে নেয়। সেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে কিছুক্ষণ পর মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আমার ছেলে।

LEAVE A REPLY