আবার সকাল হলো: শিশিরের শব্দ শোনা যায়

আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০১৯
0

দেশ জনতা ডেস্ক:
আশ্বিন গিয়ে কার্তিক মাস এলেও ধানে এখনো পাকা রং ধরেনি। তাই নবান্নের উৎসবও শুরু হয়নি । তবে ভোরের প্রকৃতি জুরে হালকা কুয়াশার প্রলেপ জানান দিচ্ছে আগমনী শীতের।হেমন্তের নবসম্ভার আর কৃষাণীর মুখের হাঁসিকে ম্লান করে কুয়াশার চাদর গায়ে আসবে শীত।হারিয়ে যাবে প্রকৃতির সজীবতা। সবাইকে হৈমন্তী শুভেচ্ছা।

অপরদিকে হেমন্তের মতো সৌন্দর্যরূপ ঋতু থাকায় বাংলা সাহিত্যও দিনদিন সমৃদ্ধি হয়েছে। কবিতা সেজে ওঠেছে নিজস্ব ঢঙে। কবিতার রূপ-রস-গন্ধ ছড়িয়েছে নবান্নে সুরভির মতো। শিউলি, কামিনী, মল্লিকার সৌরভে সুরভিত হয় চারদিক। শিশিরের শুভ্রতায় প্রাণ ফিরে পায় পুরোনো জীর্ণতা।

কিষানীর উঠানের ধুলোর গন্ধ কবিতার শরীরের সাথে মিশে যায় নিপুণভাবে। ফসলি মাঠ আর শীতের হাওয়া দোল দেয় গ্রামের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতায় লিখেছেন-“আজি হেমন্তের শান্তি ব্যাপ্ত চরাচরে,জনশূন্য ক্ষেত্র মাঝে দীপ্ত দ্বিপ্রহরে। শব্দহীন গতিহীন স্তব্ধতা উদার, রয়েছে পড়িয়া শ্রান্ত দিগন্ত প্রসার স্বর্ণশ্যাম ডানা মেলি।”

ছবি রেজাউল বারী

এখানে কবি হেমন্তের বিচিত্র স্তব্ধ রূপ তুলে ধরেছেন। হেমন্তের পথে পথে হেঁটে কবি যে রঙরেখা এঁকেছেন তা সত্যিই কল্পনার বাইরে। হেমন্তের অগ্রহায়ণের মিষ্টি রোদ ডানা মেলে উড়ে যায় শীতের সীমান্তে। কিষানের গোলাভরা ধানে বুক ভরে যায় অন্য রকম সুখে।

আমার আশ্চর্য আনন্দের ভোর কিছুটা শিশির মাখা কিছুটা কুয়াশা হিম বাকিটা কোমল আর্দ্রতায় অবনত নীলের উঠোনে কেউ যেনো লিখে গেছে হেমন্তের নাম, হেমন্ত আমার হেমন্ত।

” প্রকৃতির সাথে মানুষের অস্তিত্বের সম্পর্ক নিবিড়ভাবে মিশে আছে আদিকাল থেকেই। প্রকৃতি ছাড়া মানুষ কল্পনা করা অসম্ভব।

কবিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে হেমন্তের প্রেম, বিরহ, বিদ্রোহ কিংবা লাজুকতার চিত্রকল্প। জীবনানন্দ দাশ তার “আবার আসিব ফিরে” কবিতায় সাহসী ভূমিকা দেখিয়েছেন-
তিনি লিখেছিলেন- “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায় হয়তো মানুষ নয়, হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে, হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।”
হেমন্তবিষয়ক কবিতা বেশ খোরাক জুগিয়েছে সাহিত্য প্রেমীদের। ঋতু ছাড়া কোনো কবিই প্রকৃতির সুস্থ বন্দনা করতে পারেন না।

এখনকার কবিতায় কবি বেশ সচেতনভাবে তাদের কাব্যশৈলী দেখিয়ে থাকেন নানান ভূমিকায়।

হেমন্ত বন্দনার জন্য কবিদেরকে হাঁটতে হয়েছে বহুক্রোশ পথ, অপেক্ষা করতে হয়েছে সময়ের পর সময়, ভাবতে হয়েছে প্রকৃতির নির্দশন নিয়ে।

চিত্রকল্প কিংবা দৃশ্যকল্পের অবতারণাও হয়েছে হাজারো দৃশ্যায়নের পর। লাউয়ের ডগার মতো লিকলিকে শরীরে কবিতা লিখেও কবিগন সমৃদ্ধি করেছেন হেমন্তকে।
“সকাল বেলায় শিশির ভেজা, ঘাসের ওপর চলতে গিয়ে। হালকা মধুর শীতের ছোঁয়ায়,শরীর ওঠে শিরশিরিয়ে। হেমন্ত তার শিশির ভেজা, আঁচল তলে শিউলি বোঁটায়

। চুপে চুপে রং মাখাল,আকাশ থেকে ফোঁটায় ফোঁটায়।”

প্রমকবি জীবনানন্দ দাশ হেমন্তকে নিয়ে তার কবিতায় লিখেছেন-“এদেহ অলস মেয়ে,পুরুষের সোহাগে অবশ,চুমে লয় রৌদ্রের রস,হেমন্ত বৈকালে,উড়ো পাখপাখিদের পালে উঠানে পেতে থাকে কান, শোনে ঝরা শিশিরের ঘ্রাণ অঘ্রাণের মাঝরাতে।”

LEAVE A REPLY