আর্থিক খাত সংস্কারের কাজ চলছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৯
0

আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন ব্যাংকিং খাত। এই খাতে সংস্কারে জোরেশোরে কাজ করছে সরকার। তবে নীতিগত হঠাৎ সংস্কারের ফলে চলমান উন্নয়ন থেমে যেতে পারে। সেজন্য চোরদের সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ ইকোনমিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে প্রয়োজনীয় নীতি ও কৌশল’ শীর্ষক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে সংস্কারের প্রয়োজন আছে এটা আমরা স্বীকার করি। তবে চলমান উন্নয়ন থেমে যাওয়ার ভয় রয়েছে। বর্তমান উন্নয়ন ধরে রেখে সরকার নীতিগত সংস্কারের কাজ করছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি রপ্তানিতে বাজার বহুমুখীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান মন্ত্রী।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বলেন, কয়েক বছর ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ ২৩ শতাংশের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ৩৬ থেকে ৩৯ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন। ব্যাংকের সুদহার, খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি বেসরকারি বিনিয়োগের অন্যতম বাধা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইএনএম নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে আর্থিক খাত। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান অসুস্থ প্রতিযোগিতায় ঝুঁকির মুখে অর্থনীতি। এই সমস্যার সমাধানে শক্তিশালী শেয়ারবাজার বন্ড মার্কেট এবং সরকারি পর্যায় থেকে নীতিগত সংস্কারের কোন বিকল্প নেই।

পিআরআই এর নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা সকলেই জানি আর্থিক উন্নয়নের জন্য রপ্তানি বৃদ্ধি খুবই জরুরি। তবে পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পণ্য বহুমুখীকরণের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর বিশেষ ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান, পিআরআই চেয়ারম্যান ছাত্তার, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ডক্টর সায়মা হক বিদিশা প্রমুখ।

LEAVE A REPLY