ইসলাম মঙ্গল শোভাযাত্রা সমর্থন করে না : আল্লামা শফী

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০১৯
0

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, ‘পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অনুসঙ্গ হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রার যে আয়োজন করা হয় তা ইসলামী শরীয়ত সমর্থন করে না। কোনো ঈমানদার মুসলমান মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে পারে না।’

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন জামেয়া দারুল উলূম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শফী।

বিবৃতিতে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, ‘ষোড়শ শতকে মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বর্তমানের যে বাংলা বর্ষপঞ্জি তৈরি হয় তা ফসল রোপণ এবং কর আদায় সহজ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়। হালখাতা, পিঠা-পুলি বানানোর মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ যেভাবে উদযাপন হয়ে আসছিলো তাতে নতুন নতুন যেসব আয়োজন যোগ হচ্ছে তাতে যেমন ধর্মীয় বিধানাবলীর বিপরীতে অবস্থান নেয়া হচ্ছে। তদ্রূপ আমাদের সংস্কৃতি হুমকিতে পড়ছে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয়তার চেয়ে জাতিসত্তার পরিচয় বড়। আর আমরা লক্ষ্য করছি এসব আয়োজনে ধীরে ধীরে যেভাবে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটছে যা বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্য কখনোই কল্যাণকর হবে না। মানুষের জীবনের কল্যাণ ও মঙ্গল-অমঙ্গল সবকিছুই আমাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তাআলার হুকুমে হয়। পৃথিবীর সব বিশ্বাসীরা এটাই বিশ্বাস করেন। কোনো মূর্তি, ভাস্কর্য, পোস্টার, ফেস্টুন ও মুখোশে মঙ্গল-অমঙ্গল থাকতে পারে না। বাঘ, কুমির, বানর, পেঁচা, কাকাতুয়া, ময়ূর, দোয়েলসহ বিভিন্ন পশুপাখি মঙ্গল আনতে পারে না।

আল্লামা শফী আরও বলেন, ‘এসব বিশ্বাস যেমন ইসলামী শরীয়তবিরোধি চেতনা তদ্রূপ এমন আধুনিক সময়ে মূর্তি-ভাস্কর্য ও জীবজন্তুর ছবিতে মঙ্গল-অমঙ্গল কামনা করা একটি কুসংস্কারচ্ছন্ন ধ্যান-ধারণা।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘প্রতিবছর পহেলা বৈশাখের সকালে বাদ্যযন্ত্রের তালে নানা ধরণের বাঁশ-কাগজের তৈরি মূর্তি, পেঁচার আকৃতি ও মুখোশ হাতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউট থেকে মাত্র ২৮বছর আগ থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রা কিভাবে সার্বজনীন বাঙালি উৎসব ও সংস্কৃতি হতে পারে?’

তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর বলেন, ‘তোমরা যারা আবেগের বশবর্তী হয়ে, ভুল ধারণায় প্ররোচিত হয়ে কিংবা বয়সের কারণে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও গানবাদ্যের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করো তারা নিজেদের বিরত রাখো। যৌবনকাল আল্লাহ তাআলার প্রদত্ত সবচেয়ে বড় নেয়ামত। তোমাদের মূল্যবান সম্পদ ‘তারুণ্য’ যিনি দান করেছেন তাঁর ইবাদতে ও তাঁর সন্তুষ্টিতে তা কাজ লাগাও। জীবন সুন্দর হবে, আত্মিক প্রশান্তি লাভ করবে।’

আল্লামা আহমদ শফী সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে যেভাবে অগ্নিকাণ্ড, সড়ক দুর্ঘটনা, ধর্ষণ ও পাপাচার বেড়ে চলছে এর থেকে পরিত্রাণ পেতে আমাদের উচিত মহান আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তেগফারের মাধ্যমে ক্ষমা প্রার্থনা করা। তাঁর ইবাদাতে মগ্ন হওয়া। নিজেদের আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জনে চেষ্টা-সাধনা করা। কারণ নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি ও পরিশুদ্ধতা ছাড়া শুধু মানবরচিত আইনের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার গজব ও পাপাচার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব না।

LEAVE A REPLY