ঈদের আগেই খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি বিএনপির

আপডেট: মে ২৭, ২০১৯
0
file photo

বিএসএমএমইউ হাসপাতালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সেখানে ভর্তির পর এখনো তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, কিছু খেতে পারছেন না, হাত-পা নাড়াতে পারছেন না।

তাকে কারাগারে নেয়ার তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।

আজ সোমবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সরকার খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছে, আর বিএনপি এ নিয়ে অপরাজনীতি করে চলছে। তিনি আরও বলেছেন ‘বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক যে সব সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো পুরাতন সমস্যা’ উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, ‘তার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার হয়েছে আজ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে। এই সমস্যাগুলো মাঝে মধ্যে বাড়ে-কমে। সুতরাং এগুলো নতুন কোনো সমস্যা না। এছাড়া ক’দিন আগে তার জিহ্বা কামড় লেগে একটু ঘা হয়েছিল, তিনি স্বাভাবিকভাবে খেতে পারছিলেন না। এমন মাঝে মধ্যে আমাদেরও হয়। তার সেই সমস্যাও কেটে গেছে।’
তথ্যমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীনরা বেগম জিয়ার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তামাশা করছেন। তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য একটি বেপরোয়া, বেআইনী, মধ্যযুগীয়, জ্ঞানবিজ্ঞানের আলোবাতাসহীন কান্ডজ্ঞানহীন হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রীর মতো। সাবেক ৪ বারের একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুরভাবে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা।

মিডনাইট ভোটের সরকারের গবুচন্দ্র মন্ত্রীদের কাছ থেকে এরকম বক্তব্য আসবে এটাই স্বাভাবিক। তথ্যমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের বক্তব্যে মনে হচ্ছে প্রচ্ছন্নভাবে তারা বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বিনা চিকিৎসায় হত্যার উদ্দেশ্যে নতুন ষড়যন্ত্র করছেন। বিএসএমইউ-তে তো চিকিৎসার পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিই নেই। সেখানে সর্বোচ্চ চিকিৎসা হলে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের চিকিৎসা দিতে কেন সিঙ্গাপুর নেয়া হয় ? তারা কারাবন্দি থাকাবস্থায় স্কয়ার ও ল্যাব এইডে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল কেন ? আমি তথ্যমন্ত্রীকে বলবো-আপনি রোজা-রমজানের দিনেও স্বভাবগত মিথ্যাচার পরিত্যাগ করতে পারেননি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ কেন, ন্যুনতম চিকিৎসা সেবাটুকুও পাচ্ছেন না। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েই দেশনেত্রীকে আজীবন জেলে রাখার কথা বলেছেন তাই বেগম জিয়া তাদের কাছ থেকে সুচিকিৎসা কখনোই পাবেন না। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন-”খালেদা জিয়া কারাগারে যে সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এশিয়া মহাদেশের কেউ এমন সুযোগ পেয়েছে বলে আমার জানা নেই।”

আমাদের বক্তব্য হলো-এশিয়া বা উপমহাদেশের কোন দেশে কোথায় এমন আইন আদালতের ওপর ঘোষনা দিয়ে কর্তৃত্ব স্থাপন করে চার বারের প্রধানমন্ত্রীকে মিথ্যা সাজানো মামলায় জেলে রাখা হয়েছে হত্যার উদ্দেশ্যে কিনা তা জনগণ জানতে চায়। তবে মনে রাখতে হবে আপনাদের ভাগ্যেও এমন সুযোগ-সুবিধা আসতে পারে, তখন হয়তো বুঝতে পারবেন-এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের কারাগারের অবস্থা কি রকম।
সাংবাদিক বন্ধুরা, প্রকৃতপক্ষে বিএসএমইউ হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার নামমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে।

সেখানে ভর্তির পর এখনও তাঁর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তিনি বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না, কিছু খেতে পারছেন না, হাত পা নাড়াতে পারছেন না। তাঁকে কারাগারে নেয়ার তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না, সরকারের প্রধানের প্রতিহিংসার আগুনে কারাবন্দি থাকার কারণেই তাঁর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা তুষের আগুনের মতো সবসময় ধিকিধিকি করে জ্বলছে। বিএনপিসহ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূলের নীতি যতক্ষণ সার্থক না হচ্ছে ততক্ষণ তাঁর এই আগুন নিভবে না।

LEAVE A REPLY