ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের ৪ লাশ

আপডেট: জুন ১০, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে সপ্তাহের ব্যবধানে চার লাশের মিছিল দেখা গেছে। ১ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল। সপ্তাহের ব্যবধানে ৪টি খুন ও লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
নিখোঁজের ১৫ দিন পর ৭ জুন মিনু আক্তার (৩৫) নামে নারীর লাশ উদ্ধার ও তার সাবেক স্বামীকে আটক করেছে র‌্যাব-১১। শুক্রবার দুপুরে সোনারগাঁও উপজেলা মুনজিলখোলায় বালু খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ পরে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে মদিনা বেগম উল্লেখ করেন, প্রায় ৪ বৎসর পূর্বে জুনায়েদের এর সাথে কাপড়ের ব্যবসার সূত্র ধরে মিনু আক্তারের পরিচয় হয়। পরিচয়ের এক পর্যায়ে গত ২০১৬ সালে মিনু আক্তারের (৩৫) সাথে জুনায়েদের দ্বিতীয় বিবাহ হয়। মিনু আক্তার জুনায়েদকে বিবাহ করায় উক্ত বিষয় নিয়ে জুনায়েদের সাথে প্রায় ঝগড়া বিবাদ করে মারধর করত এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি সহ প্রাণ নাশের হুমকি দিত। এরপর গত বছর জুনায়েদ মিনুকে তালাক দেয়। তালাক দেওয়ার পরেও সে মিনুর সাথে জোরপূর্বক মেলামেশা করতে চাইলে মিনু তা করতে অস্বীকার করত। তারই প্রেক্ষিতে গত ২১ মে রাত ৩টায় জুনায়েদ আমার মেয়েকে ফোন দিয়ে আমার বাসা হতে তার ভাড়া করা বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। এর পর হতে অদ্যবধি পর্যন্ত আমার মেয়ে বাড়ীতে ফিরে না আসায় আমি জুনায়েদের বাসায় গিয়ে জানতে চাই আমার মেয়ে কোথায় সে বলে মিনু এখানে আসেনি। আমি তাদের বাড়ী থেকে ফিরে আসার পর জুনায়েত ও তার স্ত্রী বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে তাদের বাসায় গেলে বাসায় তালা লাগানো থাকে। তালা ভেঙ্গে বাসা তল্লাশী করে দেখতে পায় ফ্লোরে রক্তে ভরা ও জুনায়েত এর রক্ত মাখা লুঙ্গি এবং মিনুর রক্তমাখা ওরনা পাওয়া যায়। বাড়ির আশেপাশে খোঁজাখুঁজির পর মিনুর মাথার চুল পাওয়া যায়।
৭ জুন নারায়ণগঞ্জে নিখোঁজ স্বর্ণ ব্যবসায়ী নজরুল চৌধুরীর লাশ মিলেছে। বরিশালের উজিরপুরে পরিত্যক্ত পুকুর থেকে শুক্রবার উজিরপুর থানা পুলিশ ভাাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। নজরুল ২৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ সিটির বাবুরাইল এলাকায় বাসা ভাড়া করে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন। বাবুরাইল এলাকায় চৈতী জুয়েলার্স নামক সোনার দোকানের মালিক তিনি।
ছেলে মুন্না চৌধুরী জানান, গত ২ জুন নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং দোকানের স্বর্ণালংকারসহ তার বাবা নজরুল চৌধুরী বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। তার কোনও সন্ধান না পেয়ে তিনি ৩ জুন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ মোবাইল ট্রাকিং করে গত ৪ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জয়শ্রী টাওয়ার এলাকায় অনুসন্ধান চালায়। কিন্তু সেখানেও তাকে না পেয়ে পুলিশ নারায়ণগঞ্জ ফিরে যায়। পরে ৭ জুন উপজেলার মুগাকাঠী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের একটি ছবি নারায়ণগঞ্জ থানায় পাঠানো হলে নিহতের পরিবার ছবি দেখে নজরুল চৌধুরীকে সনাক্ত করেন।
৬ জুন রূপগঞ্জে অজ্ঞাত (৩৫) নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার শিংলাব উত্তর পাড়া ক্যানেল পাড় এলাকায় রকিব মাস্টারের বাড়ির পাশে রাস্তার উপর থেকে ৩৫ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভুলতা ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শহিদুল আলম জানান, লাশের গলায় রশির দাগ সহ জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওই নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
১ জুন শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ১৩ বছরের কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। শনিবার রাতে নবীগঞ্জ খেয়া ঘাটের সামনে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়না তদন্তের জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সদর মডেল থানার এস আই মোস্তাফিজ জানান, রাতে নৌকার মাঝিরা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে সে নদীতে গোসল করতে নামলে ইঞ্জিন চালিত পাখার সাথে বাড়ি খেয়ে সে মারা গেছে। তার শরীরে জখম রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নৃশংস খুনের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি বাড়ছে। দিনের পর দিন এই খুন আতঙ্কে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে ভীবিষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে নারায়ণগঞ্জ এখন মৃত্যুপুরিতে পরিণত হচ্ছে।

LEAVE A REPLY