ঈদ-ই- মিলাদুন্নবী উপলক্ষে তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের বাণী

আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০১৯
0

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সঃ) উপলক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক বাণী দিয়েছেন।

তারেক রহমান তার বাণীতে বলেছেন, “মহান আল্লাহ বিশ্ব জগতের রহমত স্বরূপ হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-কে এই জগতে প্রেরণ করেন। সৃষ্টি জগতের আলোকবর্তিকা প্রদর্শনকারী করুণাধারা ধরাপৃষ্ঠে আবির্ভাবের দিন। বিশ্বনবীর আবির্ভাবে পৃথিবীতে মানুষ ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জগতের মুক্তির সন্ধান পায় এবং নিজেদের কল্যাণ ও শান্তির নিশ্চয়তা লাভ করে এবং জগতের সমস্ত পঙ্কিলতা, কুসংস্কার, অন্যায়, নৈরাজ্য, অবক্ষয় ধীরে ধীরে অপসৃত হতে শুরু করে।

মহানবী (সঃ) মানব জাতির জন্য এক আলোক অনুসরণীয় আদর্শ। নিজ যোগ্যতা, সততা, মহানুভবতা, সহনশীলতা, কঠোর পরিশ্রম, আত্মপ্রত্যয়, অসীম সাহস, ধৈর্য্য, সৃৃষ্টিকর্তার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসে মানবজাতিকে উদ্বুদ্ধ করা, নিষ্ঠা ও অপরিসীম দুঃখ যন্ত্রনা ভোগ করে তাঁর উপর অবতীর্ণ সর্বশ্রেষ্ঠ মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের বাণী তথা তওহীদ প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগ দুর করে অত্যাচার ও জুলুম-নির্যাতন বরণ করে সত্য ও ন্যায়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে বিশ্বকে আলোয় উদ্ভাসিত করেছিলেন। সেই সময় কদাচারে লিপ্ত আরবীয় সমাজে মহান আদর্র্শের সুষমা দিয়ে তিনি তাদের একটি আদর্শ জাতিতে পরিণত করেছিলেন। অনাচারে লিপ্ত সমাজকে সকল পঙ্কিলতা দুর করে শান্তির সুশীতল ছায়াতলে এনে দিয়েছিলেন। সমাজে অবহেলিত, নির্যাতিত, বঞ্চিত ও দু:খী মানুষের সেবা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, পরমত সহিষ্ণুতা, দয়া ও ক্ষমাগুণ, শিশুদের প্রতি দায়িত্ব এবং নারী জাতির মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সঃ) এর আদর্শ অতুলনীয় এবং তাই তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হিসেবে অভিষিক্ত।

আমি আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের নিকট প্রার্থনা করি মহানবী (সঃ) এর শিক্ষা, আদর্শ ও ত্যাগের মহিমা আমরা সবাই যেন নিজেদের জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারি। আমরা যদি রাসুল (স:) এঁর বাণী ও আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে পারি তাহলে বর্তমান দু:সময়ের ঘন অমানিশা দূরীভূত করে হারানো অধিকার ফিরে পেতে সক্ষম হবো।

আমি পবিত্র মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
আমি শেষ নবী সাইয়েদুল মুরছালিন হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর জন্য অসংখ্য দরুদ ও তাঁর প্রতি সালাম জানাই।
আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার বাণীতে বলেছেন, “পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী, এক মহামানবের জন্ম দিন। ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (স:) উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করছি। তাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

ঈদ-ই-মিলাদুন্নবীর দিনটি সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বমানবের নিকট এক আলোকিত বিস্ময় হযরত মোহাম্মদ (সঃ)। তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন সমগ্র পৃথিবীর জন্য আল্লাহ’র রহমত হিসেবে। পরম সত্যের সন্ধানে নিজেকে নিয়োজিত রেখে তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুয়াত লাভ করেন। কঠোর সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে তিনি তাওহিদের বাণী সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেন। অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব, অনুপম আচরণ, সৃষ্টির প্রতি অগাধ প্রেম ও ভালবাসা, অতুলনীয় বিশ্বস্ততা, সীমাহীন দয়া ও ক্ষমার জন্য তিনি মানবজাতির এক অনুকরণীয় আদর্শ। আল্লাহ তা’আলা পবিত্র মহাগ্রন্থ আল-কোরআন মহানবী (সাঃ) উপর অবতীর্ণ করেন, যা মানব জাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসাবে ইহলৌকিক ও পরলৌকিক মুক্তির যাবতীয় নির্দেশাবলী অনুসরণের মাধ্যমে মানুষকে পরিপূর্ণ ও মর্যাদাশীল করে তোলে। আমরা যেন সবাই নিজেদের জীবনে তাঁর আদর্শ ও কর্মজীবন অনুসরণ করে সত্যিকার মোমিন-মুসলমান হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারি, এই জন্য আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিনের নিকট মুনাজাত করি।

আমি শেষ নবী সাইয়েদুল মুরসালিন হযরত মোহাম্মদ (সঃ)‘র প্রতি সালাম জানাই। ”

LEAVE A REPLY