একুশ শতকের নারী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংগঠকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব’’ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৯
0

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘‘একুশ শতকের নারী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সংগঠকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব’’ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সংগঠনের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম।

সভায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ বলেন বর্তমান সময়ে নারী আন্দোলনের যে ধারা সেটিকে এগিয়ে নিতে বিভিন্নমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কর্মপরিচালনার মধ্য দিয়ে কিভাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কর্মপ্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করা যায় সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। আগামী দিনে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ও জেলা শাখার কাজের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে, কোন কোন ধরণের গ্যাপ রয়েছে সেটি আমাদের চিহ্নিত করতে হবে।

এর জন্য আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন সঠিক ভাবে করলে সেটি আমাদের কে সাহায্য করবে। এই সাংগঠনিক মাসে ঢাকা মহানগর কমিটি যাতে পুরানো দূর্বলতা কাটিয়ে নতুন শক্তি নিয়ে গড়ে উঠতে পারে আসুন আমরা সেদিকে জোর দিই।

সভায় সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রে সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। একুশ শতক কথাটি যে বলা হচ্ছে এটিকে ২০০৮ সাল থেকেই বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সমস্ত কর্মপ্রক্রিয়া প্রণয়নের ক্ষেত্রে মোটাদাগে চিহ্নিত করেছে। তিনি সংগঠনের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিস্তুৃত কর্মকান্ডকে নিজের অভিজ্ঞতায় তুলে ধরতে ১৯৭২ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পাচঁটি দশকে ভাগ করে বিভিন্ন দশকে নারী আন্দোলনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব সরলা দেবী চৌধুরী, মনোরমা বসু, বেগম সুফিয়া কামাল, হেনা দাস, ইলা মিত্র, প্রমুখের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি মহিলা পরিষদের কর্মপ্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল করতে এবং নারী আন্দোলন কে এগিয়ে নিতে প্রতিটি কাজের ফলোআপ, মনিটরিং মূল্যায়ন এবং রেকর্ড রাখার জন্য জোর তাগিদ দেন। টেকসই উন্নয়নের সাথে সকলকে যুক্ত করতে তিনি বলেন প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে একটি ইন্ডিকেটর ঠিক করতে হবে, আধুনিক যুক্তিবাদী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে, কেন্দ্র ও জেলা শাখার মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে, নেটওয়ার্কিং তৈরির ক্ষেত্রকে আরো প্রসারিত করতে হবে, সর্বোপরি সংগঠনকে আরো অন্তর্ভূক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় আসতে হবে। পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ সুযোগ মহিলা পরিষদের রয়েছে, এই সুযোগ কে আরো প্রসারিত করতেহবে।

সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম ডা. মাখদুমা নার্গিস, লক্ষী চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাখী দাশ পুরকায়স্থ ও সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহতাবুনেচ্ছা, সভাপতি রেহানা ইউনূস,বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ঢাকা মহানগর শাখার নেত্রী ও সংগঠক, কর্মকর্তা সহ মোট ৫৫ জন উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রশ্নোত্তর আলোচনা পর্বে পাঁচ জন সংগঠক, কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। সভাটি পরিচালনা করেন সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম।

LEAVE A REPLY