এটা শুধু ইশরাকের লড়াই নয়, এটা ধানের শীষের- গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২০
0

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, ‘গত ১৩ বছর এই দেশকে তিলে তিলে ধ্বংস করা হয়েছে। গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। কারো কথা বলার অধিকার নেই। উন্নয়নের ধোয়া তোলা হচ্ছে, কিন্তু জনগণ কোন উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছে না।

ঢাকাকে সব চেয়ে দূষিত ও বসবাসের অযোগ্য করা হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের অবহেলায় আর দুর্নীতির কারণে ঢাকা এখন সারা বিশ্বে দূষিত নগরীর মধ্যে এক নম্বর তালিকায় রয়েছে।’ অত্র এলাকার রাস্তা ঘাটের করুণ অবস্থা দেখে তিনি বলেন, এ এলাকায় আসার পথে দুই পাশের জলাশয়, রাস্তা ঘাটের যে চিত্র দেখেছি তা সত্যি দুঃখ্যজনক।
মঙ্গলবার দুপুরে খিলগাঁও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিমোহনী বাজারে পঞ্চম দিনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরুতে তিনি সাংবাদিকদের এসব বলেন।

এ সরকার বলে বেড়াচ্ছে, তারা উন্নয়ন করেছে, স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে, অমুক সেতু তমুক সেতু নির্মাণ করছে। কিন্তু এগুলো সবই আসলে দুর্নীতির প্রজেক্ট। মেগা প্রজেক্ট তারা করছে, সেখান থেকে লক্ষ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে আরাম আয়েশে তারা ফূর্তি করছে। আর বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকদের দুর্দশা বেড়েই চলেছে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে ত্রিমোহনী থেকে হাজি বাড়ি, মাতবর বাড়ি রোড, মাদ্রাসা রোড, পূর্ব নন্দিপাড়া, নন্দিপাড়া, ছাপাখানা এলাকা হয়ে পূর্ব মাদারটেক, মাদারটেক চৌরাস্তা, দক্ষিণ গোড়ান, মধ্য বাসাবো, উত্তর বাসাবো, দক্ষিণ বাসাবো, সবুজবাগ, মায়া কানন, মুগদা এলাকা গণসংযোগ করেন ইশরাক হোসেন।
এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হবিব, ইউনুস মৃধাসহ স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, শ্রমিক দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গণসংযোগকালে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে পরম আদরে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এসময় মাথায় হাত বুলিয়ে তার সাফল্য কামনা করেন অনেকে। হাজিবাড়ি এলাকার ৭০ বছর বয়সি কুতুবুদ্দিন কাঁচা ধানের শীষ নিয়ে ইশরাক হোসেনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘গত ১২ বছর থেকে আমার প্রিয় ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে পারছি না। এবার ভোটটা দিতে চাই। দোয়া করি আল্লাহ আপনাকে কামিয়াব করুক।’

নন্দিপাড়া ব্রিজের উপর ৬৫ বছর বয়সি করিমুন্নেসা জনস্রোত ঠেলে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের কাছে চলে আসেন। দ্রুত তার হাত জড়িয়ে ধরে বলতে থাকেন, ‘বাবা, দুই হাত তুলে আপনার জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেন আমাদের মনের আশা পূরণ করেন।’

ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এই নির্বাচন আমি ইশরাক হোসেনের লড়াই নয়। এটা ধানের শীষের লড়াই, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। এ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আপনাদের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনবো। আপনারা সেই লড়াইয়ে শরিক হোন। ইনশাল্লাহ ৩০ তারিখে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, একটা ফিল্ড তৈরি হচ্ছে- সেটা হচ্ছে ভোট ডাকাতির ফিল্ড। বাস্তবে কোন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। একতরফা ফিল্ড তৈরি হচ্ছে।
আপনাদের সঙ্গে সরকার ও সরকার দলীয় প্রার্থীরা কি ধরনের আচরণ করছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যদি প্রকৃত ঘটনা বলি, তখনই সরকার দলীয় নেতারা বলেন, বিএনপি অভিযোগের দল, নালিশ পার্টি ইত্যাদি। তাই আমরা আর অভিযোগ বা নালিশ করতে চাই না। আমরা শুধু এটুকু বলতে চাই, জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। আমরা তাদের শক্তি নিয়ে এগয়ে যাবো। মহান আল্লাহ তায়ালা উপরে আছেন। আল্লাহ সব দেখছেন। আর নিচে আমাদের শক্তি জনগণ।

ধানের শীষের পোস্টার কম দেখা যাচ্ছে কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক হোসেন বলেন, আমাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। যারা পোস্টার লাগাতে যাচ্ছে তাদের বাধা দেয়া হচ্ছে। মারধরের পাশাপাশি এমন হুমকিও দেয়া হচ্ছে যে, পোস্টার লাগাতে আসলে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, পোস্টার লাগানো কি অপরাধ? এটাতো কোন অপরাধ নয়। তাহলে কেন থানা পুলিশে দেয়ার হুমকি দিবে? আপনারা জানেন দেশে একটা অপশাসন, সৈ¦রশাসন চলছে। এ অবস্থার অবসানের জন্যই আন্দোলন করছি।

মুগদায় বিএনপি নেতা শামসুল হুদার বাসভবনে বিকাল তিনটা থেকে ৪০ মিনিটের বিরতি শেষে আবার গণসংযোগ শুরু করেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। এখান থেকে উত্তর মুগদার মদিনাবাদ, দক্ষিণ মুগদা, উত্তর মান্ডা, দক্ষিণ মান্ডা এবং মান্ডা পঞ্চায়েত এলাকায় প্রতিটি গলিতে গনসংযোগ করেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী। এখানে আশপাশের বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষের গণজমায়েতে পথ সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।

LEAVE A REPLY