কঠোর নিরাপত্তায় চলছে এফডিসিতে ভোটগ্রহণ: শিল্পীদের নির্বাচনে এত পুলিশ কেন, প্রশ্ন সোহেল রানার

আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০১৯
0

কঠোর নিরাপত্তাব্যয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। ২০১৯-২০২১ মেয়াদের এই নির্বাচনে সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

জানা যায়, ব্যাপক আলোচিত এই নির্বাচনকে ঘিরে এফডিসি ও এর চারপাশে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকপর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এফডিসিতে হাজির হয়েছেন মিশা সওদাগর, মৌসুমী, ওমর সানি, রুবেল, জায়েদ খান, ইমনসহ প্রার্থী ও ভোটারেরা। এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে সেখানে।

এদিকে এফডিসিকে তো পুলিশ ক্যাম্প মনে হচ্ছে। এটা নির্বাচন মনে হচ্ছে না শিল্পীদের নির্বাচনে এত পুলিশ থাকবে কেন?’
বাংলাদেশ চলচ্ছিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোট দিতে এসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে এমন প্রশ্ন রাখলেন ঢাকাই ছবির এক সময়ের দাপুটে অভিনেতা সোহেল রানা।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভোট দিতে আসেন সোহেল রানা। ভোট দেয়ার পর তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে শিল্পীরা যাদের ভোট দিয়ে নির্বাচন করবেন, নেতৃত্বে এসে তারা শিল্পীদের নিরাশ করবেন না।

এবারের নির্বাচনে মিশা-জায়েদ প্যানেল করে নির্বাচন করছেন। অন্যদিকে জনপ্রিয় নায়িকা মৌসুমী স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে লড়ছেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী খলনায়ক মিশা সওদাগর। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইলিয়াস কোবরা, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী চিত্রনায়ক জায়েদ খান। তবে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মিশা-মৌসুমীর।

নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমরা সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে চাই। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার আমরা নিয়েছি। আশা করছি উৎসবমুখর পরিবেশে শিল্পীরা তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে আসবেন।

গত নির্বাচনে শিল্পী সমিতির মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬২৪ জন। মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল ক্ষমতা নেয়ার পর এ তালিকা থেকে ১৮১ জন ভোটারের ভোটাধিকার খর্ব করে কেবল সহযোগী সদস্য করা হয়েছে। তারা এবার ভোট দেয়ার অধিকার পাবেন না। অন্যদিকে নতুন করে ২০ জন শিল্পীকে করা হয়েছে ভোটার। যোগ-বিয়োগ শেষে শিল্পী সমিতির ২০১৯-২০২১ মেয়াদের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ৪৪৯ জন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শিল্পী সমিতির কার্যালয়ের বোর্ডে ভোটারদের এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে এবারের নির্বাচন কমিশন।

গত ৫ অক্টোবর ২০১৯-২১ মেয়াদের শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা থেকে জানা যায়, সভাপতি পদে লড়াই করছেন মৌসুমী ও মিশা সওদাগর। সহসভাপতির দুটি পদে রুবেল ছাড়াও প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল ও নানা শাহ। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস কোবরা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আরমান ও সাংকো পাঞ্জা। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অভিনেতা সুব্রতর বিপরীতে কোনো প্রার্থী নেই। আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ইমন। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে একাই রয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়বেন জাকির হোসেন ও ডন। কোষাধ্যক্ষ পদে অভিনেতা ফরহাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। অর্থাৎ সুব্রত, জ্যাকি, আলমগীর ও ফরহাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তাঁরা হলেন- অঞ্জনা সুলতানা, রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, বাপ্পারাজ, রঞ্জিতা, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, মারুফ আকিব ও শামীম খান (চিকন আলী)।

LEAVE A REPLY