কথিত শ্রমিক নেতা ইসমাইলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ কমিটি নিয়ে বিরোধ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ও সমালোচিত কথিত শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন তার দীর্ঘদিনের সহচর মাহমুদ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম সহ তাদের অনুগামী নেতাকর্মীরা।
তারা এ অভিযোগ তুলে ইসমাইলের নেতৃত্বে গঠিত টেক্সটাইল গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন থেকে পদত্যাগ করেছেন। এদিকে অ্যাডভোকেট ইসমাইলের দাবি ৯ বছর তারা জেলা কমিটির পদ আকড়ে ছিলেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২ মাস আগেই জেলা কমিটি গঠনের কারণে তারা পদচ্যুত হয়েছেন। মহানগর কমিটিতেও তারা পদ পাননি। যেকারণে ক্ষুব্দ হয়ে তারা এ ধরনের প্রপাগান্ডা চালাচ্ছেন।
জানা গেছে, শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইলের দীর্ঘদিনের সহচর মাহমুদ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মার্কসবাদী বুলিবাগিস এড মাহাবুবুর রহমান ইসমাইলের দুর্নীতি ও প্রতারণার প্রতিবাদে শ্রমিকনেতা মাহমুদ হোসেন, সাইফুল ইসলাম, সুমন হাওলাদার, হেলীম সরদার ও মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন থেকে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করলেন সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী।
নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ধোকা দিয়ে ইসমাইল তার ব্যক্তি স্বার্থসিদ্ধির জন্য সর্বশেষ কাউন্সিলে গঠিত কমিটি রেজিষ্ট্রাড অব ট্রেড ইউনিয়ন্স-এ জমা না দিয়ে তিনি তার মন গড়া একটি কাল্পনিক কমিটি জমা দিয়ে সবার অলক্ষ্যে তা যথারীতি অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন। আর সেই শক্তিবলে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর মালিক বলেও দাবী করছেন। যা সংগঠনের নেতা কর্মীদের সাথে চরম প্রতারণা ও বিশ্বাস ঘাতকতার শামিল।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইসমাইল এযাবৎ কালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর দরদী ও শুভাকাঙ্খিসহ গার্মেন্টস মালিকদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা উত্তোলন করলেও সংগঠনের কোন সভাতে কখনোই তার কোন হিসাব দিতেন না। লামছাম কিছু খরচ করে বাকি পুরো টাকাটাই তিনি আত্মসাৎ করেছেন। নেতা কর্মীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনকে তিনি তার ব্যক্তিগত আয় ইনকামের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে ইসমাইলের চরম অসদাচরণ, তুচ্ছ তাচ্ছিল্যতা ও তার বুর্জোয়া-পেটিবুর্জোয়া আচরণের কারণে বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন একটি জাতীয় ভিত্তিক সংগঠন হলেও বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ছাড়া এর অন্য কোথাও কোন অস্তিত্ব নেই। ঢাকা-গাজিপুর ও আশুলিয়ার বহু নেতাকর্মী ইতোমধ্যেই ইসমাইল ও তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন-এর সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
সম্প্রতি মাহমুদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি কারণ দর্শানোর পত্র দ্বারা ইসমাইলের বিরুদ্ধে সংগঠনের নেতাকর্মীদের আনিত অভিযোগ সমূহ খন্ডাতে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হলেও তিনি সেই পত্রের কোন সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। যে কারণে তার মতো একজন মার্কসবাদী বুলিবাগিস, পরবিত্ত লোভী, গঠনতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী, সংগঠনের আমানত খেয়ানতকারী একজন অসৎ ও দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির সঙ্গে সংগঠনতো দুরের কথা ব্যক্তিগত সম্পর্কও রাখা উচিৎ নয়।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আর তাই আমরা বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন এর সর্বস্তরের পদ-পদবীসহ সাধারণ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেছি এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন-এর অপরাপর সৎ আদর্শবান নেতাকর্মীদেরকে শ্রমিক শ্রেনীর বিপ্লবী আদর্শে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে ইসমাইল ও তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন-এর সঙ্গে সকল সম্পর্ক ত্যাগ করার আহবান করছি।
অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, মাহমুদ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম দীর্ঘ ৯ বছর ধরে জেলা কমিটির সভাপতি সেক্রেটারী পদে ছিলেন। ২ মাস আগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি পদে ডিকে রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলআমিন নির্বাচিত হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী মহানগরের সভাপতি পদে নাজমুল হোসেন নান্নু ও সাধারণ সম্পাদক পদে রোকসানা আক্তার নির্বাচিত হন। মাহমুদ হোসেন ও সাইফুল ইসলাম চেয়েছেন আমি যেন তাদেরকে আবারো জেলা কিংবা মহানগর কমিটিতে শীর্ষ পদে রাখার জন্য সুপারিশ করি। কিন্তু আমি সেটা না করায় তারা আমার বিরুদ্ধে ও সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে যা আদৌ সঠিক নয়। এছাড়া তারা মাত্র ৪-৫ জন সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা যে শতাধিক লোকের কথা বলছেন তাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হোক। তারা শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ নিয়েও মিথ্যাচার করছেন।