কর্তৃপক্ষের অবহেলায় গাজীপুরে এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৯
0

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরে পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সুচিকিৎসার অভাবে এক শ্রমিক বুধবার মারা গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিহত ওই শ্রমিকের নাম আব্দুর রব মিয়া (২৬)। সে ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার কামারিয়া গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে।

কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় বানিয়ারচালার এলাকার পলমল গ্রুপের কর্টজ এ্যাপারেলস কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে সুইং আয়রনম্যান পদে চাকুরি করে আসছিলেন আব্দুর রব মিয়া। বুধবার বেলা পৌণে ১২টার দিকে কারখানায় কাজ করার সময় বুকে ব্যাথা অনুভব করে আব্দুর রব হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এসময় সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে কারখানার কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আব্দুর রব কর্তৃপক্ষের কাছে চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার আবেদন করে। আব্দুর রবের ছুটির আবেদন পেয়ে কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার শফিউল আলম আমান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

এসময় ওই কর্মকর্তা ছুটি না দিয়ে কাগজ ছিঁড়ে ফেলে অসুস্থ্য আব্দুর রবকে পুনরায় কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন। কাজে যোগ দেওয়ার প্রায় আধাঘন্টা সময় পর আব্দুর রব আবারো বুকে ব্যাথা নিয়ে অসুস্থ্য হয়ে মাটিতে ঢলে পড়েন। সহকর্মীরা গুরুতর অসুস্থ্য আব্দুর রবকে ধরাধরি করে কারখানা থেকে বের করে স্থানীয় মাওনা চৌরাস্তা এলাকার আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুর রবকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় চিকিৎসার অভাবে আব্দুর রবের মৃত্যু হয়েছে- এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে নিহতের সহকর্মীসহ শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ এদিনের জন্য কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে।

এব্যাপারে গাজীপুর শিল্প পুলিশের শ্রীপুর জোনের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইস্কান্দর হাবিবুর রহমান, কারখানার শ্রমিক আব্দুর রব হৃদরোগী ছিলেন। বুধবার পৌণে ১২টার দিকে কারখানায় কাজ করার সময় তিনি বুকে ব্যাথা নিয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। অসুস্থ্য আব্দুর রবকে প্রথমে কারখানার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পরে কর্তৃপক্ষ তাকে স্থানীয় আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা গুজব কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

LEAVE A REPLY