কর্মজীবী মায়েদের সুখবর দিচ্ছে সরকার

আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০১৯
0

কর্মজীবী মায়েদের জন্য সুখবর। তাদের শিশুসন্তানকে নিয়ে কর্মক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে দায়িত্বপালনের সুবিধার্থে দেশের সব জেলা উপজেলা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ভবনে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ডে কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হবে। ছয়মাস থেকে শুরু করে আট বছরের শিশুদের ওই কেন্দ্রে রাখা যাবে।

বিনামূল্যে পরিচালিত সরকারি, ভর্তুকি দিয়ে সরকারি, বাণিজ্যিক এবং অলাভজনক ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এই চার ধরণের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র থাকবে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিশু সেবাকারির অনুপাত হবে ৪:১ জন। যার মানে চারজন শিশুর দেখভালের জন্য একজন লোক থাকবেন। কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন ছাড়া কোন শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করাই যাবে না। কোন দণ্ডিত অপরাধী শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনের নিবন্ধন ও নিবন্ধন সনদ পাবেন না। করলে অর্থ ও কারাদণ্ডের বিধান থাকছে। এই সংক্রান্ত একটি আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। যা শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন ২০১৯ নামে অভিহিত হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব শেখ রফিকুল ইসলাম আইনটি প্রণয়নের কথা স্বীকার করে বলেন, এই বিষয়ে এখনও কিছু বলতে পারব না। তিনি মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। জানা গেছে, আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, দেশে কর্মজীবী ও পেশাজীবী মায়েদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মায়েদের শিশু সন্তানের দিবকালীন নিরাপদ ও প্রতিষ্ঠানিক পরিচর্যার চাহিদাও বাড়ছে সমানে। পক্ষান্তরে যৌথ পরিবার প্রথা বিলুপ্ত প্রায় এবং একক পরিবার বাড়ছে হু হু করে।

সেই ক্ষেত্রে শিশুদের পরিচর্যায় সেবাকারির অভাবও দেখা দিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন সুশৃঙ্খল ব্যবস্থপনা এবং প্রদেয় সেবার গুণগতমান ণিশ্চিত করতে একটি আইনি কাঠামো থাকা সময়ের দাবি। ইতোমধ্যে আইনের একটি খসড়া প্রস্তুত করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শিশু দিবাকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আইনে বিস্তারিত কিছু না রেখে এক লাইনে বলে দেওয়া হয়েছে তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।

খসড়া আইনের চতুর্থ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, দিবাযত্ন কেন্দে ভর্তি হওয়া শিশুর কেন্দ্রে অবস্থানকালীন সার্বিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি হবে। শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিশ্চিত করতে হবে। আইনের তৃতীয় অধ্যায়ের শেষাংশে বলা হয়েছে, সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের পরিচালককে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ যে কোন নির্দেশ প্রদান করতে পারবে।

নিবন্ধনের কোন শর্ত ভঙ্গের কারণে কোন নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দিবাযত্ন কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিতে পারবে। আইনের চতুর্থ অধ্যায়ে বলা হয়েছে তৃতীয় অধ্যায়ের শেষাংশে যে শর্তের কথা বলা হয়েছে তা প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে তা করতে না পরলে নিবন্ধন বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিবাযত্ন কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য প্রবেশ পথে ও অভ্যন্তরে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। ওই ক্যামেরা সার্বক্ষনিক চালু রাখতে হবে।

এই বিধান প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল করে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড করা হবে। নিবন্ধন ছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করলে, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড এবং অনধিক দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা একই সঙ্গে দুইটি দণ্ড দেওয়া হবে। একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে, সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড এবং সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা একই সঙ্গে উভয়দণ্ড আরোপ করা হবে। খসড়া আইন অনুসারে নিবন্ধন সনদ অফিসের দর্শনীয় স্থানে প্রদর্শন করে রাখতে হবে। না রাখলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড আরোপ করা হবে।

যতদিন প্রদর্শন না করা হবে ততোদিন প্রতিদিনের জন্য দৈনিক এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হবে। কর্তৃপক্ষ কিংবা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কোন কর্মকর্তা বা পরিদর্শককে পরিদর্শন কালে দিবাযত্ন কেন্দ্রের যাবতীয় রেকর্ড দেখাতে অস্বীকার করলে, পরিদর্শন কাজে অসহযোগীতা করলে তা সরকারি কাজে বাধা বলে বিবেচিত হবে। সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার জন্য দেশের দন্ডবিধিতে যে শাস্তির উল্লেখ রয়েছে তা আরোপ করা হবে।

নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের যে কোন আইন ও বিধিসিদ্ধ নির্দেশনা অমান্য করলে অমান্যকারি এক লাখ টাকা অর্থদন্ড এবং ছয় মাসের কারাদন্ড অথভা একই সঙ্গে দুইটি শাস্তি আরোপ করা হবে। এই আইনের বিধানাবলী বঙ্গের অপরাধসমূহ ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮ এর বিধান অনুযায়ী আদালতে সম্পন্ন হবে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র কেন্দ্রের শিশুসংক্রান্ত বিষয়ে সংঘঠিত অপরাধ বিষয়ে দেশে প্রচলিত প্রযোজ্য অন্য যে কোন আইনের অধীনে যথাযথ আদালতে বিচার হবে।

আইনের বিধানবলী ভঙ্গের কারণে কোন শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে আপীল করতে হবে। আপীলের শুনানী করবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের শিশু ভর্তির জন্য নির্ধারিত ফি এবং মাসিক সেবামূল্য প্রদান করতে হবে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের নিবন্ধন পাওয়ার জন্য প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও উন্নত চরিত্রের অধিকারি হতে হবে।

আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও আয়কর প্রদানকারি হতে হবে। বিধিবিধানে উল্লেখিত পরিমান বৈধ স্পেস বা ভবন থাকতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনার বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। আদালতে দণ্ডিতরা এই কেন্দ্র পরিচালায় নিবন্ধন পাবে না। সকল দিবাযত্ন কেন্দ্রে স্তনপানের জন্য উপযুক্ত স্থান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে।

শিশুর চিকিৎসা, পরিচর্যা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সুরক্ষা, বিনোদন, শিক্ষঅ, এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নির্ধারিত মান অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে। কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো, শিশু আনুপাতিক পরিসর, সেবা প্রদানকারির বয়স বিধির আলোকে নির্ধারিত হবে। কেন্দ্রের পরিবেশ শিশু বান্ধব হতে হবে। পর্যাপ্ত আলোবাতাসের সুব্যবস্থা থাকতে হবে। কেন্দ্রে শিশু ও সেবাকারির অনুপাত হবে ৪:১। আর্থাৎ প্রতি চারজন শিশুর জন্য একজন সেবক সেবিকা থাকবে। উল্লেখ্য দেশে বর্তমানে ১৭৯টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে।

LEAVE A REPLY