কালিয়াকৈরে গৃহবধূ খুন, স্বামী-সতীনসহ গ্রেফতার-৪

আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০১৯
0

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক পাষন্ড স্বামী তার ৩য় স্ত্রীকে অপহরণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। হত্যার প্রায় আড়াই মাস পর বুধবার স্থানীয় একটি বাগানবাড়ির সেফটি ট্যাংকি থেকে নিহতের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী, তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার ছেলেসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নিহতের নাম ফরিদা খাতুন (৪২)। সে পাবনার আতাইখোলা থানার শ্রীপুর এলাকার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মনসুর আলীর ৩য় স্ত্রী এবং একই থানার শিমুলচারা এলাকার ফজল প্রামানিকের মেয়ে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর খাজারডেক এলাকার মৃত আতাবউদ্দিন দেওয়ানের বাগানবাড়ীর একটি টিনসেড ঘরে ৩য় স্ত্রী ফরিদা খাতুনকে বসবাস করে ওই বাগানবাড়ীর কেয়ার টেকার হিসেবে কাজ করে মনসুর। বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে মনসুর ও ফরিদার মাঝে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। এর জেরে মনসুর বিভিন্ন সময় ফরিদাকে মারধর করতো ও খুন করে গুম করার হুমকিও দিতো। গত ১৮ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ফরিদাকে কৌশলে অপহরণ করে তার স্বামী মনসুর। পরে ফরিদা পালিয়ে অন্যত্র চলে গেছে বলে মনসুর তার শ^শুর বাড়ির লোকজন ও স্থানীয়দের জানিয়ে অপপ্রচার চালায়। মনসুরের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হলে স্বজনরা বিভিন্নস্থানে ফরিদার খোঁজ করতে থাকে। একপর্যায়ে ফরিদার সন্ধান না পেয়ে ফরিদার ছোট বোন হারিছা খাতুন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে মনসুর ও তার প্রথম স্ত্রী রেখা খাতুন তাদের সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যায়।

কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, এ ঘটনায় গত ৪ নবেম্বর কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ মনসুরের দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুন (৪৫) ও তার (রেখার) ছেলে স্বপনকে (২০) গ্রেফতার করে। এসময় স্বপনের কাছ থেকে ফরিদার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার ভোর রাতে ঢাকার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া এলাকা হতে মনসুরকে (৫৭) এবং সকালে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা থেকে ওই বাগানবাড়ীর মালিকের স্ত্রী খোদেজা আক্তারকে (৩৭) গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ফরিদাকে শ্বাসরোধে হত্যার করার কথা ম্বীকার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার সকালে ওই বাগানবাড়ীর একটি সেফটি ট্যাংকি থেকে নিহতের গলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের ছোট বোন হারিছা খাতুন জানান, মনসুর তিন বিয়ে করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি হতো। অপহরণের দিনও ফরিদাকে মারধর করেছে মনসুর। এসময় ফরিদাকে খুন করে গুম করার হুমকিও দেয় সে। ওই দিন রাতে তারা ফরিদাকে অপরহণের পর হত্যা করেছে।

LEAVE A REPLY