কালীগঞ্জে শহীদ ময়েজ উদ্দিনের স্মরণ সভাঃ আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ ও ভাংচুর

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৮

গাজীপুর সংবাদদাতাঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় সোমবার বিকেলে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্ততঃ ২২জন কর্মী-সমর্থক আহত ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ও সাবেক এমপি আখতারুজ্জামানের কর্মী সমর্থকদের মাঝে এ ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীরা এ ঘটনার জন্য প্রতিপক্ষকে দায়ী করেছে।
স্থানীয়রা জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ (বালীগঞ্জ) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য দু’প্রার্থী মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি আখতার উজ্জামানের সমর্থনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতা কর্মীরা দু’টি গ্রুপে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। অধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তারা আরো জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর ও ঐতিহাসিক আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ ময়েজউদ্দিন আহমেদের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। কালীগঞ্জের চুপাইর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সোমবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামীলীগ এ স্মরণ সভার আয়োজন করে। সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় আওয়ামীলীগের দ্বিধাবিভক্ত দু’টি গ্রুপের কর্মী-সমর্থকরা শোডাউন করে আসছিল। সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠাণ শুরুর পর সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় গাজীপুর-৫ (বালীগঞ্জ) আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি প্রতিমন্ত্রী চুমকি এবং কেন্দ্রীয় নেতা আখতারুজ্জামানের কর্মী সমর্থকরা পৃথক পৃথক মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসতে থাকে।
আখতারুজ্জামানের কর্মী সমর্থকরা জানান, সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সমাবেশে আমাদের বিপুল সংখ্যক কর্মী সর্মথকদের সমাগম দেখে প্রতিপক্ষের কর্মী সমর্থকদের ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়ে। এতপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির এপিএস মাজেদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে পলাশ এলাকা থেকে আনা ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আমাদের কর্মী সমর্থকদের উপর অর্তকিত হামলা চালায়। তবে অপর পক্ষের নেতা-কর্মীরা এ ঘটনার জন্য আখতারুজ্জামানের কর্মী সমর্থকদের দায়ী করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, সংঘর্ষকালে প্রতিপক্ষের হামলায় ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সাবেক ভিপি বেনজির আহম্মেদ, জিএস জাকির হোসেন, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আফছার হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মাজেদুল ইসলাম সেলিম (প্রতিমন্ত্রী চুমকির এপিএস)সহ উভয় পক্ষের অন্ততঃ ২২জন কর্মী-সমর্থক এবং পথচারী আহত হয়েছে। আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানা গেছে। হামলাকারীরা ২টি বাস, ৩টি মটর সাইকেলসহ বেশ কয়েকটি ইজিবাইক ও গাড়ি ভাংচুর করে। এ সময় তারা ১টি মোটর সাইকেল পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয়।
এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বকর মিয়া জানান, অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের সর্মথকদের মাঝে বাক-বিতন্ডা ও সামান্য ধাক্ক্াধাক্কি হয়েছে।