কাশ্মীরকে কবরস্থানে পরিণত করবেন না: ইউসুফ তারিগামী

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৯
0

‘কাশ্মীরে কবরস্থানের নীরবতা রয়েছে। কাশ্মীরকে কবরস্থানে পরিণত করবেন না। সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’ এমন মন্তব্য করেছেন রাজ্যটির সাবেক বিধায়ক ও সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সদস্য মুহাম্মাদ ইউসুফ তারিগামী। আজ (মঙ্গলবার) গণমাধ্যমে ইউসুফ তারিগামীর ওই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে।

কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সিপিএম নেতা ইউসুফ তারিগামী গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘যারা এরআগে অনুভব করেননি তাদের পক্ষে এটি অবিশ্বাস্য! কাশ্মীরিদের জন্য এটি ভয়াবহ সময়। এটি আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ, এর বিনম্রতা এবং চরিত্রের ওপরে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। জনজীবন পঙ্গু হয়ে গিয়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা কিন্তু সেখানে শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী নেই!’

তিনি বলেন, ‘এরআগেও আমরা রাজ্যে অশান্তি দেখেছি। গত প্রায় তিরিশ বছর ধরে, অর্থাৎ ১৯৮৯ সাল থেকে রাজ্য রক্তপাতের ঘটনা ঘটছে। ধ্বংস হচ্ছে, সহিংসতা ঘটছে। যারা দেশের ঐক্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, আত্মত্যাগ করেছেন, বুলেটের মুখোমুখি হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষ আজ নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। এখানে আরও বিপদ রয়েছে। এ নিয়ে অবিলম্বে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।’

কাশ্মীরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কম থাকা সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ কিনা- এ বিষয়ে ইউসুফ তারিগামী বলেন, ‘আপনারা তিহার কারাগারে কতবার বিক্ষোভ দেখেছেন? কাশ্মীরে এসে নিজে স্বয়ং দেখে যান। আমি কোনও গল্প তৈরি করছি না, আমি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক। গণতন্ত্রের মূলনীতি হলো সরকারকে জবাবদিহি করা। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে, ৩৭০ ধারা ইচ্ছামত বাতিল করা হয়েছে।’

তারিগামী বলেন, ‘কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা ও ৩৫-এ ধারা বাতিলের আগে সংসদে সুষ্ঠু বিতর্ক হওয়া উচিত ছিল। আমাদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। এটা পারস্পরিক সম্পর্ক। কাশ্মীরে শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল সক্রিয় রয়েছে। বাকি রাজনৈতিক দলগুলোকে হাতজোড় করে বসে থাকতে হয়।

এটা সামরিক আইন মতো। আমরা এদেশের মানুষকে অনুরোধ করছি যে খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই আপনারা ঘুম থেকে জেগে উঠুন। এখানে দেশের বাকি অংশের গণতান্ত্রিক শক্তি নিয়ে হতাশা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত আগস্টে গৃহীত সিদ্ধান্ত (৩৭০ ধারা বাতিল) প্রত্যাহার করতে হবে। এটাই আমাদের সংকল্প। আমাদের মামলার বিচারকরা এ দেশের মানুষ। সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পেতে আমরা আশাবাদী।’

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গত ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে সেরাজ্যের বিশেষ সুবিধা সম্বলিত ৩৭০ ধারা বাতিল করে দিয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানে বিভিন্ন বিধিনিষেধের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বহু মানুষকে আটক অথবা গ্রেফতার করা হয়েছে।#

LEAVE A REPLY