কৃষকদের ধানের ন্যায্য মুল্য প্রদানের আহবান জামায়াতের

আপডেট: মে ১৬, ২০১৯
0

 

ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে পাকা ধানের ক্ষেতে কৃষকদের অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান আজ ১৬ মে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, “পাকা ধানের ক্ষেতে কৃষকদের অগ্নিসংযোগ করার ঘটনায় আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। এ মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা জাতি উদ্বিগ্ন।

চলতি বছর ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসির পরিবর্তে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছে। তারা ধান বিক্রয় করতে পারছেন না। বাজারে ক্রেতা নেই। সরকার ধান ক্রয় এখনো শুরুই করেনি। প্রতিমন ধানে কৃষককে ২/৩ শত টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। সার, পানি সেচ ও কৃষি শ্রমিকদের মজুরি অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় কৃষকগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। চাউলের দাম যে হারে বেড়েছে ধানের দাম সে অনুপাতে বাড়েনি। ভোক্তারা অধিক মূল্যে চাউল ক্রয় করছে। অথচ কৃষক নায্যমূল্য পাচ্ছে না। প্রকার ভেদে এক মন চাউল ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। অপর পক্ষে এক মন ধানের দাম প্রকার ভেদে ৪ শত টাকা থেকে ৫ শত বা সাড়ে ৫ শত টাকা। চাউল ও ধানের মূল্যের এ বিরাট ব্যবধানে রয়েছে চাউলের কলের মালিক ও মজুদদার বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ।

তাদের অত্যধিক মুনাফা অর্জনের কারণেই কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। অপর পক্ষে ভোক্তা সাধারণ জনগণও কমমূল্যে খাদ্য দ্রব্য ক্রয় করে খেতে পারছে না। এ বিষয়টি সরকারকে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করে দেখতে হবে।
সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থাপনার অভাবেই কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ সরকারের সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। বিশে^র সকল গণতান্ত্রিক দেশেই সরকার কৃষক ও ভোক্তা সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে কৃষি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে। দেশে যদি গণতান্ত্রিক সরকার থাকতো, তাহলে এ অবস্থা সৃষ্টি হত না। ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকারের উচিত কৃষকদের ধানের ন্যাযমূল্য দেয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে যদি দেশে কৃষক সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে ধান উৎপাদন বন্ধ করে দেয় তাহলে দেশ অচিরেই খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদ- হলো কৃষি ও কৃষক সমাজ। তাদের স্বার্থের দিকে নজর দেয়া না হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে।
কাজেই উদাসীনতা পরিহার করে কৃষকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ধানসহ কৃষকদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

LEAVE A REPLY