ক্রসফায়ার সংবিধান সম্মত নয় : নৈরাজ্য ডেকে আনবে- অ্যাডভোকেট সালমা আলী

আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২০
0

আমরা এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ারকে তো সাপোর্ট করতে পারি না। কারণ এটা সংবিধানের আওতার বাইরে ও সংবিধান সম্মত নয়।’ মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সালমা আলী দেশজনতা ডটকমকে আজ সন্ধ্যায় এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন।

”জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের ১৪ জানুয়ারি তারিখের আলোচনায় অভিযুক্ত ধর্ষণকারীদের ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভুত হত্যা করার দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ ‘সংবিধান স্বীকৃত আইনের শাসন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সাথে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক ।

এ ধরনের বক্তব্যে আমি একজন মানবাধীকার কর্মী হিসেবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সকল বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার আহ্বান জানাই ।’ একই সঙ্গে বলবো যে , তারা যদি অপরাধী হয়েও থাকে তবুও তাদের বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। ”

দেশে ক্রমাগতভাবে আশংকাজনক হারে বেড়ে চলা ধর্ষণ প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে গতকাল এক আলোচনায় সংসদ সদস্যদের একাংশের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের অংশ হিসেবে অপরাধটি দমনে ক্রসফায়ারে হত্যার দাবি তুলে ধরা হয়।

একই আলোচনায় অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে এই পন্থার ‘কার্যকারিতা’ তুলে ধরে তারা তা এক্ষেত্রেও প্রয়োগের জোর দাবি জানান।

অপরদিকে বেআইনী এ পদ্ধতির পক্ষে আইনপ্রণেতাদের নিন্দনীয় উৎসাহ ও ঢালাও সমর্থন তুলে ধরে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অশনি সংকেত।

অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন,’ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনসভায় এ ধরণের বেআইনী ও অযাচিত দাবিকে সংবিধানস্বীকৃত ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পথে অপ্রতিরোধ্য অন্তরায়কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দানের প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই ভাবা যায়না। তবে এর থেকে পরিত্রান পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আইনজীবী,এবং বিচারবভিাগ সবাইকে সমন্বয় করে এক যোগে কাজ করতে হবে। ”
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তাদের যে চিত্র তুলে ধরেছেন তাতে বলা হয়েছে ,” পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ২০১৯ সালের জানুয়ারী থেকে ডিসেম্বর ১ বছরে মোট ৪৬২২ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকার হয়েছে মোট ১৭০৩ জন, তন্মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৩৭০ জন, গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৩৭ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭৭ জনকে, ধর্ষনের কারণে আত্মহত্যা করেছে ১৯ জন এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ২৪৫ জনকে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে ৯১ জন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৮৫ জন। এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছে ২৪ জন। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে ৫১ জন, তন্মধ্য অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ১৪৭ জন।

LEAVE A REPLY