খাবার লবণ সঙ্কটের গুজব শিল্প লবন সিন্ডিকেটের কারসাজি

আপডেট: নভেম্বর ২০, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : বাংলাদেশে খাবার লবন সঙ্কটের যে গুজব ছড়ানো হয়েছে সেটা শিল্প লবন সিন্ডিকেটের কারসাজি বলে অভিযোগ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা লবন আড়ৎদার মালিক সমিতি। সঙ্কট দেখিয়ে খাবার লবনের বদলে শিল্প লবনের আমদানী করার লক্ষ্যেই এই গুজব ছড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। দেশে বর্তমানে যে লবনের মজুদ রয়েছে সেটা আগামী ৬ মাসেও ফুরানোর কোন সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছেন তারা।

জানা গেছে, সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জের পাইকারী বাজার নিতাইগঞ্জেও লবন বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে। দাম বেড়ে যাবে এ গুজবে ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুর হতে লোকজন দোকানে ভিড় করতে থাকে। নিতাইগঞ্জে ফেসবুকে দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আবদুল করিম নামের এক যুবককে আটক করেছে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। তবে বিক্রেতারা জানান, দাম বাড়ানোর বিষয়টি তাদের জানা নাই। আগের দামেই বিক্রি করছে।

ওসি আসাদুজ্জামান জানান, নিতাইগঞ্জে দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দাম বেড়ে যাবে প্রচারণার পাশাপাশি ফেসবুকেও স্ট্যাটাস দিয়েছে ওই যুবক। সে কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা লবন আড়ৎদার মালিক সমিতির সভাপতি মো: মামুনুর রশিদ বলেন, বর্তমানে লবনের গুজব হয়েছে চিলে কান নেয়ার মতো অবস্থা। বর্তমানে লবনের যে মজুদ রয়েছে সেটা আগামী ৬ মাসে উৎপাদন না হলেও ফুরাবে না। অর্থাৎ আগামী বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত লবনের কোন ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অথচ শিল্প লবনের একটি সিন্ডিকেট মিথ্যা গুজব রটিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা লবন আড়তদার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোতালেব মিয়া স্বপন বলেন, আমরা কক্সবাজার থেকে আনা মোটা লবন বিক্রি করি ৬/৭ টাকা দরে। সেই লবন মিল মালিকরা রিফাইন করে ১৫/২০ টাকা দরে বিক্রি করে থাকে। কিন্তু একটি অসাধু সিন্ডিকেট যারা দীর্ঘদিন ধরে চায়না শিল্প লবন (ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সল্ট) আমদানী করে এনে বাজারজাত করছে তারা চাচ্ছে আবারো চায়না লবন আমদানী করতে। মূলত ওই চায়না শিল্প লবনের সিন্ডিকেট এই ধরনের গুজব ছড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধি হাসিল করতে চাইছে।

উল্লেখ্য ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সল্ট বা গ্লোবাল সল্ট ব্যবহার হয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ওয়াশিং পাউডার হিসেবে। এটি আমদানি করা হয় শিল্প লবণ হিসেবে। আমদানি-নিষিদ্ধ খাওয়ার লবণের ওপর মোট ৮৯ দশমিক ৪২ শতাংশ শুল্ককর এবং শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন ধরনের লবণ আমদানিতে ৩৭ শতাংশ শুল্ককর আরোপিত আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত শিল্প লবণের দাম এতই কম যে এই হারে শুল্ক পরিশোধের পরও প্রতি কেজিতে আমদানি খরচ হয় ৫ টাকা ৬৯ পয়সা। ফলে শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করে তা খাওয়ার লবণ হিসেবে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

অভিযোগ উঠেছে, শিল্প খাতের ধবধবে সাদা এই দানাদার লবনে আয়োডিন মিশ্রিত করে বাজারজাত করা হচ্ছে। শুধু ছোটখাট লবন মিল কিংবা আড়তদারই নয় বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লোকজনও এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগে রয়েছে। কারণ লবনের চালান বাজারজাত করতে পারলেই রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়ার সুযোগ।

বিশেষ করে এক কেজি ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সল্ট বিক্রি করে ওই অসাধু চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা টাকা। লবন নামধারী ওই ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সল্ট বা গ্লোবাল সল্ট তথা সোডিয়াম সালফেট খেতে থাকলে কিডনী ও লিভার নষ্ট ছাড়াও ক্যান্সার আক্রান্তসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে নিতাইগঞ্জের ১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সল্ট বা গ্লোবাল সল্ট বা শিল্প লবনকে দেশীয় লবন বলে বাজারজাত করছে।

এম আর কামাল
নারায়ণগঞ্জ
২০-১১-২০১৯

LEAVE A REPLY