খালেদা জিযার মুক্তির দাবী ১০১ বিশিষ্ট চিকিৎসকের বিবৃতি : ‌’জেলকোড অনুযায়ী ব্যক্তিগত চিকিৎসক পাবেন খালেদা জিয়া ‘

আপডেট: মার্চ ২২, ২০১৯

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’র অসুস্থতায় উদ্বিগ্ন ও সুচিকিৎসার দাবীতে ১০১জন চিকিৎসকের বিবৃতি প্রায় এক বছর দেড় মাস অতিক্রম হতে চলেছে বাংলাদেশের তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের ইতিহাস ও ভোটের রাজনীতিতে জনপ্রিয়তায় বিশ্ব ইতিহাসে ক্রমাগত পরাজয়হীন সর্বোচ্চ ২৩ টি আসনে বিজয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী, গণমানুষের  নেত্রীও দেশনেত্রী খ্যাতবিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাষ্টমামলায় নিম্ম আদালতে সাজা দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে নির্জনকারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই সালেরই ৩১ অক্টোবর নিম্ম আদালতের ৭বছরের সাজা হাইকোর্ট বাড়িয়ে দেয় ১০ বছরে। এর মাত্র এক দিন আগে আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট মামলা নামে আরো একটি মামলায়৭ বছরের সাজা প্রদান করে। এ ছাড়াও ২০১৪ সালের নির্বাচন ও তার আগেপরের রাজনৈতিক আন্দোলন কেন্দ্রিক তার বিরুদ্ধে আরো কয়েক ডজন মামলানানা স্তরে প্রক্রিয়াধীন আছে। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ জোর দাবী করছেনএই দুটি সাজা প্রাপ্ত মামলা ছাড়াও আর সকল মামলা মিথ্যা, বানোয়াট,প্রহসনমূলক, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতও প্রকৃত বাস্তবতায় সাজারক্ষেত্রে প্রমাণহীন। বিগত দশকে দেশে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার সীমাহীনদুর্নীতি, ব্যাংক কেলেঙ্কারী ও অর্থ লোপাটে সরকারের সকল কর্তৃপক্ষেরকার্যত নীরব থাকার প্রেক্ষিতে দেশের জনগণও বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের এই দাবীকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসাবে চিহ্নিত করছে। সকলেই জানেন এই বর্ষিয়ান ও অসুস্থ রাজনীতিবিদের রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে রাজনৈতিক দুবৃত্তায়ন ও স্বৈরাচারের কষাঘাতে বিক্ষত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্বৈরতন্ত্রকে রুখে দাঁড়াবার গণ-আন্দোলনে সফলনেতৃত্ব দিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে। ’৯১ সালে রাজনীতিতেও সংসদে নবাগত হিসাবে প্রধানমন্ত্রী হয়ে স্বৈরতন্ত্রের ছত্রছায়ায় মহীরূহহয়ে বেড়ে ওঠা সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলার চরম বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমনকরে রাষ্ট্র জীবনের সকল ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান জাতিকেঅস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার এক সঙ্কুল অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। অর্থনৈতিকউন্নতির সূচনা করে জাতীয় আয়ের প্রবৃদ্ধিতে বহু দশকের অচলায়তন ভেঙ্গেযুগান্তকারী নতুন অর্থনৈতিক যুগের সূচনা তিনিই করেন। তাঁর তিনদশকের ভূমিকা বাংলাদেশকে আজ এক ঈর্ষাজনক উন্নতির অভিযাত্রায় শামিল
করেছে। আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থপতি, রূপকার ও চালকতিনিই। সেই মানুষটির সাথে কারাগারে নিদারুণ, অমানবিক ও মানবেতর আচরণকরা হচ্ছে বলে শুরু থেকেই অভিযোগ উঠছে নানা মহল থেকে। জানা যায়তাঁকে একটি সূর্যালোকহীন, নির্জন, স্যাঁতসে্যঁতে পুরোনো ওবসবাস অযোগ্য ভবন-বহুদিন ধরে যেটি রক্ষণাবেক্ষণহীন ও সাধারণ কয়েদিদেরজন্যেও কয়েক বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সকল বন্দিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়াহয়েছে তেমনি একটি স্থানে মধ্যযুগীয় কায়দায় বন্দি করে রাখা হয়েছে।ডিভিশন দেওয়া হলেও জানা গেছে যে তাঁর বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্রওঅত্যন্ত নি¤œমানের ও ব্যবহার অযোগ্য। একজন অসুস্থ মানুষ হিসাবে তাঁরখাদ্য-খাবারের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ তাঁর এই বন্দিঅবস্থাকে বিভৎস নির্যাতনের প্রতীক; দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধকালীনকনসানট্রেশন ক্যাম্পের সাথে তুলনীয় বলে মনে করছেন। তাঁর পরিবারের অন্যান্যদের মত তাঁকেও শারিরীক ও মানসিকভাবে নির্যাতনকরে এক শোচনীয় পরিনতির দিকে ঠেলে দেওয়াই প্রকৃত উদ্দেশ্য সে বিষয়েজনমনের সন্দেহ প্রকট হচ্ছে বলে খবর আসছে। ধারণা করা যেতে পারে যে এইপরিবেশে একজন সুস্থ মানুষেরও নানা মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ারঝুঁকি বেড়ে যায়।সেক্ষেত্রে তাঁর মত আগে থেকেই বয়সজনিত নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্তএকজন বর্ষিয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর করাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিকজীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা সাধারণ মানুষকেও বেগমখালেদা জিয়ার কারাবাসের শুরু থেকেই গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল। এইপিচ্ছিল স্যাঁতসে্যঁতে পরিবেশে যে কোন সময়ে পড়ে গিয়ে তাঁর হাঁটু,উরুসন্ধি, হাত ও মেরুদন্ডের হাড় ভাঙ্গাসহ মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডেআঘাতজনিত পক্ষাঘাত রোগ ঘটার আশঙ্কা করা হয়েছিল। নির্জন, নিঃসঙ্গ,নিরাপত্তাহীন পরিবেশের কারণে নিদ্রাহীনতা, উদ্বেগ, বিষন্নতাসহ নানামানসিক রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ার সম্ভবনা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। বিরূপ,নিপীড়নমূলক পরিবেশ ও অস্বাভাবিক মানসিক চাপের ফলে তাঁর আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পুরোনো, পরিত্যক্তদূষণযুক্ত ভবনের বিষাক্ত পরিবেশে তাঁর মারাত্মক ঔষধ-প্রতিরোধী জীবানু দ্বারা ফুসফুসের সংক্রমন বা নিউমোনিয়ার সম্ভবনা বেশ প্রবল হয়ে উঠতে পারে।এ ছাড়াও ধারণা করা হয় যে এই সূর্যালোকহীন স্যাঁতসে্যঁতে পরিবেশেতাঁর ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালশিয়ামের শুন্যতা দেখা দিতে পারেযা’ তাঁর হাড়ের জন্যে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এই বয়স ওস্বাস্থ্যগত অবস্থায় ব্যাক্তিগত পরিচর্যার বিষয়টি সুচিকিৎসার স্বার্থেই শুরু থেকেই গুরুত্ববহ হয়ে ওঠেছিল। সকল মহল এ বিষয়ে একমত ছিলযে, এ ধরনের শারীরিক অসুস্থতায় কেবলমাত্র পারিবারিক ও ব্যাক্তিগতউদ্যোগেই যথাযথ সেবা পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব। কারাগার বিশেষ
করে পুরোনো, পরিত্যক্ত দূষণযুক্ত ভবনে স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও জীবন সবই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে। বাস্তবে ঘটেছেও তাই।বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই কারাগারের বসবাসঅযোগ্যতা ছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার কোনই সুযোগ-সুবিধা নেই।হেফাজতে সাম্প্রতিক বছরকালে সাড়ে ছয় শতাধিক মৃত্যুর খবর ইতোমধ্যে নানাবিধ শংকা বাড়িয়েছে। আজকে বিএনপি, তার অঙ্গ-সংগঠনের অগণিতনেতাকর্মীর সাথে সাথে লক্ষকোটি দেশবাসী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সংবাদে দুঃখ, ভারাক্রান্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে অসুস্থতার কারণে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে নানা মামলার হাজিরায় নিতে নাপারায় বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়টি সকল সন্দেহঘুচিয়ে পরিষ্কার হয়ে পড়েছে। সরকারও বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে তাঁরনিজস্ব পছন্দের ৪-সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড দিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জটিল নানারোগে ভুগছেন। ইতোপূর্বে তাঁর দুই হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিছুদিন আগে তিনি লন্ডনে চোখের অপারেশনও সম্পন্ন করেছেন। বয়স ওনানা জটিল রোগের কারণে তিনি কোন সাধারণ রোগী নন। চিকিৎসকদের পরিভাষায় তিনি একজন বিশেষ পরিচর্যা সাপেক্ষ রোগী (চধঃরবহঃ রিঃয ঝঢ়বপরধষঈধৎব ঘববফং)। সে হিসাবে সুচিকিৎসার স্বার্থে তাঁর একান্ত ব্যাক্তিগত পরিচর্যার সকল সুবিধা নিশ্চিত করা সকল সভ্য, গণতান্ত্রিক ওমানবিকতাবোধসম্পন্ন জাতির কর্তব্য। প্রকৃত ও যথাযথ সেবার অভাবে, ক্রমান্বয়ে তিনি ঘাঁড়, মেরুদন্ড ওনানাবিধ ¯œায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর এইদীর্ঘকালীন রোগ অবস্থা কেবলমাত্র দীর্ঘকাল তাঁর চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ওনিয়োজিত ব্যাক্তিগত চিকিৎসকদেরই ভালোভাবে জানা আছে। নতুন কোনচিকিৎসক দলের পক্ষে তাঁর সম্পূর্ণ অবস্থা এক নজরে ও এক নিমেষে অনুধাবনও নির্ণয় করা একেবারেই অবাস্তব কল্পনা। গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে, বেগমখালেদা জিয়ার কোন সাজাই চূড়ান্তভাবে নিস্পত্তি হয় নাই। তাই তিনি যেপ্রকৃত অপরাধী ও সন্দেহাতীতভাবে দন্ডভোগের যোগ্য বিষয়টি এখনই জোরদিয়ে বলা যায় না। দেশের প্রচলিত আইন ও নানা দেশের আইনে বিচারেওমানবিকতার মাত্রা যোগ দিতে বিচারের এইরূপ পর্যায়ে সকল সন্দেহভাজনেরই জামিন পাওয়ার অধিকার রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে সন্দেহভাজনের জামিনের বিষয়টি আরও বিবেচনার যোগ্য হয়ে ওঠে।সরকারের নানা কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই বেগম খালেদা জিয়ার যথাযথ ওসুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে বলে দেশ ও বিশ^বাসীকে আস্বস্থ্য করার চেষ্টাকরে আসছেন। বেগম খালেদা জিয়ার অনিচ্ছা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি ও নানা প্রকারে এই এক বছরের অধিককালে যে উদ্যোগ ও কর্মকান্ড গ্রহণ করেছে তা’ যে বিন্দুমাত্র কার্যকর ওফলপ্রসূ হয়েছে তার কোন গ্রহণযোগ্য প্রমাণ আজও তারা দেশ ও
বিশ^বাসীর কাছে সরকার উপস্থাপন করতে পারেননি। বরং সাম্প্রতিককালেসরকার নিয়োজিত চিকিৎসকদল তাঁর স্বাস্থ্য বিষয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশকরেছেন তাতে এক বছর পূর্বে ব্যক্ত সকল অনুমান ও শংকা অক্ষরে অক্ষরে সত্য বলেপ্রমাণিত হয়েছে। ফলে সরকারের সুচিকিৎসার দাবীকে সাম্প্রতিকমেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট বিন্দুমাত্র সমর্থন করছে না। এই মেডিকেলবোর্ডের লিখিত প্রতিবেদনে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে শংকা ওপূর্বানুমিত ক্রমাবনতির ধারণার শতভাগ পক্ষে বেগম খালেদা জিয়ারশারীরিক ও রোগ অবস্থার মারাত্মক অবনতির চিত্র তুলে ধরেছে। বেগম খালেদা জিয়ার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করায় ও নানানতুন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় তিনি অন্যের সাহায্য ছাড়া উঠে দাড়াবার,হাত-পা নাড়াচাড়া করা ও কোন কিছু ধরার ক্ষমতা হারানো ছাড়াও নড়াচড়া ওচলা ফেরার শক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন। ব্যথার কারণে বিছানাতেও তিনিস্বস্থিবোধ করছেন না। এ ছাড়াও মেডিকেল বোর্ড তার কিডনি, হৃদপিন্ড,ভিটামিন-ডি এর অভাব, ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য গুরুতর ও জটিলব্যধিসমূহের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কোন ধারণা করতে না পারায়তাঁকে পুনরায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি করারপরামর্শ দিয়েছেন।এই রিপোর্টের প্রেক্ষিতে অনেকের যে পূর্ব বিশ^াস ছিল, বেগম খালেদাজিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রশাসনিক তৎপরতার বিষয়টি এক রকম লোক দেখানো,হঠকারিতামূলক ও জনবিভ্রান্তি সৃষ্টির সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রচেষ্টাতা’ প্রমাণিত হতে চলেছে। দীর্ঘ এক বছরের অধিক সময়কালে সরকারেরগৃহিত ব্যবস্থা ন্যূনতম কার্যকর না হলে এই একই কর্মকান্ডে সম্মতি বাসাড়া দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত তা’ সহজেই অনুমেয়। ফলে নানা সময়ে বেগমখালেদা জিয়া সরকারের অনুরোধ মেনে নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেলবিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও এই মারাত্মক অবনতির প্রেক্ষিতে তাকে এইঅনুরোধ জানানো কতটা সমীচিন তা’ ভেবে দেখা দরকার। সরকার প্রায়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়কে বিদেশেরসমতুল্য দেশের সর্বশীর্ষ ও খ্যাত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচয়দিয়ে থাকেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক-সেতুমন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবমেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসকবৃন্দ তাঁদের দক্ষতা-সক্ষমতারপ্রশংসনীয় পরিচয় দিলে ও ভারতের বিশ^-নন্দিত কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃদেবী শেঠি চিকিৎসার তদারকি করলেও জনাব ওবায়দুল কাদেরকে উন্নতচিকিৎসার জন্যে তাঁর, তার পরিবার, শুভ্যানুধায়ী ও সরকারের ইচ্ছা ওপৃষ্ঠপোষকতায় সিংগাপুরের মাউন্ট এলিজাবেৎ হসপিটালে স্থানান্তরিত করাহয়। এই পরিসরে গুরুতর ও মারাত্মক ক্রমাবনতির প্রেক্ষিতে বেগম খালেদাজিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে দেশের একটি উন্নত সুযোগ সম্বলিতপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করে সরকার যে তাঁরনাগরিকদের প্রতি শুধু ডবল স্টান্ডার্ড বা দ্বি-মুখী নীতির পরিচয় দিচ্ছেন
তাই নয় বরং অমানবিকতা, হীনমনষ্কতা ও অশুভ ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাচ্ছেনবলে জনমনে স্থির ধারণা জন্ম নিচ্ছে। একজন দেশ-প্রেমিক, প্রাক্তনপ্রধানমন্ত্রী ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের প্রতি এই অমানবিকআচরণ দেশ ও বিশ^বাসীকে বাংলাদেশের সরকার ও মানবিক পরিস্থিতি বিষয়েনেতিবাচক ধারণা দিতে বাধ্য। উপযুক্ত স্বাস্থ্য সেবা সংবিধান বলে একটি মৌলিক অধিকার এবং এ বিষয়েবন্দি-অবন্দি নাগরিক অবস্থা নির্বিশেষে সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।বিশেষ করে বন্দি অবস্থায় সকল দায় সরকারের উপর বর্তায়। জানা যায় যে জেল-কোড অনুযায়ী যে কোন বন্দি তার বিশেষ স্বাস্থগত চাহিদার কারণেপছন্দের চিকিৎসকের সেবা পাওয়ার অধিকার রাখেন। বেগম খালেদা জিয়ারঅসুস্থতার বিষয়ে সরকার সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রকাশে চরম ব্যর্থ হয়েছেবলে নানা মহলের বিশ^াস প্রবল হচ্ছে। পাশাপাশি ধারাবাহিক বিষয়াবলীজনমনে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়, জীবন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎনিয়ে নানা পক্ষের ব্যাপক ও বহুমুখি ষড়যন্ত্র ও অভিসন্ধি বিষয়ে গভীর উৎকন্ঠাজন্মানোর সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে, সরকার বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিসহানুভূতিশীল ও তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে যতœবান প্রমাণ করতে হলেতাঁর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক দলের ভূমিকা আর উপেক্ষা করা সমীচিন নয়।বিষয়টি উপেক্ষা করলে সকল পরিণতিতে সরকারের দায়ী হবার প্রমাণ মিলবেএবং তা’ না করে বেগম জিয়ার ইচ্ছায় সাড়া দিলে দায় লাঘব হবে। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও মানবিক কর্মী হিসাবে আমরা গভীর উদ্বেগপ্রকাশ করছি এবং প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ দিয়ে তাঁররোগ লাঘবে মানবিক ভূমিকা পালনের জন্যে সরকারের কাছে আবেদনজানাচ্ছি অনতিবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকেদেশের একটি উন্নত সুযোগ সম্বলিত হাসপাতালে ভর্তি করেসুচিকিৎসা ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির দাবীজানাচ্ছি।উক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- অধ্যাপক ডাঃ বায়েছ ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডাঃসিরাজউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক ডাঃমবিন খান, অধ্যাপক ডাঃ মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মতিউর রহমানমোল্লা, অধ্যাপক ডাঃ এ এস এম এ রায়হান, অধ্যাপক ডাঃ ফিরোজা বেগম,অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ খাদিজা বেগম,অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম ফজলুল হক, অধ্যাপক ডাঃ শাহাবুদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃসাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মঈনুল হাসান সাদিক, অধ্যাপক ডাঃআজিজ রহিম, অধ্যাপক ডাঃ আশরাফ উদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ গোলামমঈনউদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ মওদুদ হোসেন আলমগীর, অধ্যাপক ডাঃ মনিরহোসেন, অধ্যাপক ডাঃ তসলিম উদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ সেলিমুজ্জামান,অধ্যাপক ডাঃ চৌধুরী মোঃ হায়দার আলী, অধ্যাপক ডাঃ শাহাবউদ্দিনতালুকদার, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ, অধ্যাপক ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির,অধ্যাপক ডাঃ সৈয়দ মারুফ আলী, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ইদ্রিস আলী, অধ্যাপক
ডাঃ আব্দুল হান্নান, অধ্যাপক ডাঃ নূরুন নাহার, অধ্যাপক ডাঃ মেহেরুননেসা, অধ্যাপক ডাঃ মেহরীন, অধ্যাপক ডাঃ রহিমা খাতুন, অধ্যাপক ডাঃসেলিনা বেগম, অধ্যাপক ডাঃ এখলাসুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুললতিফ, অধ্যাপক ডাঃ সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ গফুর, অধ্যাপক ডাঃএম করিম খান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আব্দুল লতিফ, অধ্যাপক ডাঃ মোঃআজিজুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জিয়াউর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃহানিফ, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ শাহ আলমতালুকদার, অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আমিনুল হক, অধ্যাপক ডাঃ মোঃহাবিবুর রহমান, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জাফরুল্লাহ, অধ্যাপক ডাঃ মোঃফিরোজ কাদের, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ ওমর আলী, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আশরাফহোসেন, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ তোফায়েল আহমেদ, অধ্যাপক ডাঃ মোঃআনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ কামরুল আহসান, অধ্যাপক ডাঃ রুহুলআমিন, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মেজবাউদ্দিন, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ দেলওয়ারহোসেন, অধ্যাপক ডাঃ কে জেড জলিল, অধ্যাপক ডাঃ মুজিবুর রহমানহাওলাদার, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ কুদ্দুসুররহমান, অধ্যাপক ডাঃ জাহিদুল হক, অধ্যাপক ডাঃ হাসিবুল হোসেন,অধ্যাপক ডাঃ মনজুর মোরশেদ সহ ১০১জন চিকিৎসক।