খালেদা জিয়াকে হত্যা চেষ্টা বন্ধ করে আজই তাঁর পছন্দমত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করুন – বিএনপি

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশনেত্রীকে হত্যা চেষ্টা বন্ধ করে আজই তাঁর পছন্দমত বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করুন। তাঁকে মুক্তি দিন। জনগণের ধৈর্য ও সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। সরকার যেন নিজেদেরকে অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে না দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।
আজ সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‌”আপনারা জানেন,আর চার দিন পরেই মহান স্বাধীনতা দিবস। হাতের মুঠোয় প্রান নিয়ে যিনি এই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে জীবন মৃত্যুকে পরম ভৃত্য করে রনাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অসীম সাহসে, যার ঘোষনায় গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো, সেই বীরউত্তম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী, চার বারের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে বর্তমান গণবিচ্ছিন্ন অবৈধ সরকার।

আজ আর দেশের মানুষের বুঝতে এতটুকু বাকি নেই যে, প্রধানমন্ত্রীকে চরম প্রতিহিংসার বাসনা চরিতার্থ করতে পেয়ে বসেছে। তিনি পরিত্যক্ত অন্ধকার স্যাঁতসেতে কারাগারে ভয়াবহ ও চূড়ান্ত অসুস্থ দেশনেত্রীর যন্ত্রনার ছটফটানি দেখে আনন্দ উপভোগ করছেন।

আজ দিবালোকের মতো পরিস্কার যে,তিনি অকল্পনীয় জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জীবিত দেখতে চান না। চিকিৎসার অভাবে গুরুতর অসুস্থ ৭৪ বছরের একজন নারী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে প্রহসনমুলক বিচারের জন্য কারাগারে স্থাপিত মিডনাইট ইলেকশনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যাঙ্গারু আদালতে টেনে-হিচড়ে প্রায় প্রতিদিনই হাজির করা হচ্ছে। দেশনেত্রীকে চলৎশক্তিহীন করার জন্য তাঁর সুচিকিৎসা করানো হচ্ছে না। আদালতে আনার আগে তিনি অসুস্থতায় থরথর করে কাঁপছিলেন। বার বার বমি করছিলেন।

মাথা সোজা রাখতে পারছিলেন না। মরনাপন্ন অবস্থার মধ্যে টেনে নিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই দেশনেত্রীকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে জোর জবরদস্তি করে হুইল চেয়ারে বসিয়ে হাজির করা হয় ক্যাংগারু কোর্টে। গত পরশু আদালতে এনে বেগম জিয়াকে বসিয়ে রাখার পর তিনি চোখ মেলতে পারছিলেন না। মাথা স্থির রাখতে পারছিলেন না। বারবার মাথা কাত হয়ে যাচ্ছিল। আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরাও তার এই অসুস্থ অবস্থা দেখে বিচলিত হয়ে পড়েন।
সাংবাদিক বন্ধুরা
কতটা অমানবিক নিষ্ঠুর হিংসুক ক্রুর হলে একজন প্রৌঢ় মহিয়সী নারীর ওপর এমন বর্বর নিপীড়ন চালানো সম্ভব হয়। দেশের প্রতিটি সচেতন মানুষ এখন প্রশ্ন করছেন,কোন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ কি এতটা নির্মম-নির্দয় হতে পারেন ? যিনি এটা করছেন, যার নির্দেশে দেশনেত্রীকে হত্যা প্রক্রিয়া চলছে তিনি কি করে নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দেন ?

তিনি কি করে প্রধানমন্ত্রী থাকেন ? প্রধানমন্ত্রীর কথা ও কাজের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। তিনি বলেন-আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, আমার ক্ষমতার দরকার নাই, আবার মিডনাইট নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধ প্রধানমন্ত্রীত্ব ধরে রাখেন। তিনি তো নৃশংসতায় হিটলার-হালাকু খানদের ছাড়িয়ে গেছেন।
তবে ধৈর্য্যরে একটা সীমা আছে। দেশনেত্রীকে হত্যা চেষ্টা বন্ধ করে আজই তাঁর পছন্দমত বিশেষায়িত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করুন। তাঁকে মুক্তি দিন। জনগণের ধৈর্য ও সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। সরকার যেন নিজেদেরকে অশুভ পরিণতির দিকে ঠেলে না দেয়।