খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য একসঙ্গে রাস্তায় নামার আহ্বান নজরুল ইসলামের

আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০১৯

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ১৯শে মার্চ জয়দেবপুরে আর্মির অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আমরা আর্মির সঙ্গে লড়াই করেছিলাম। ঢাকায় মিছিল হয়েছিল ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, আজকে ৭২ বছর বয়সে আমাকেই সেই কাজ করতে বলেন? না আপনাদেরও দায়িত্ব আছে। তারপরও বলছি, আছি আপনাদের সাথে। শুধু সাথে না, আপনাদের সামনেই থাকবো। চলেন আমরা একসাথে নামি।

আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খা হলে ‘জিয়া আদর্শ একাডেমি’ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ সকল কারাবন্দি নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। তিনি খুবই অসুস্থ। তাকে যদি মুক্ত আলো বাতাসে আনা না যায়।

যদি তার সঠিক চিকিৎসা করা না যায়, তাকে আমরা হারাবো। আর তাকে হারালে আপনার আমার কার কত দাম সেটা আমাদের জানা আছে। তাই তার আন্দোলনের সঙ্গী হাবিব উন নবী খান সোহেলের মতো যারা বন্দি আছেন, তাদের মুক্ত করার জন্য যে লড়াই প্রয়োজন আসুন সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেই।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সরকারকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বৈরাচারী বলে চিহ্নিত করেছে। আমরা যে শহরে বাস করি সেটা দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর। অথচ সরকার দাবি করে উন্নয়ন হচ্ছে। কার উন্নয়ন হচ্ছে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে যারা সবচেয়ে  ধনবান লোক, তারা  যে গতিতে আরও ধনি হচ্ছে সেটা বিশ্বের মধ্যে প্রথম । বাংলাদেশ এক নম্বরে, যে দেশে ধনিরা আরও অনেক দ্রুত ধনি হচ্ছে, আর গরিবরা আরও দ্রুত গরিব হচ্ছে। এইতো বাংলাদেশ। এটাইতো আমাদের উন্নয়নের ধরণ। কিছু লোক ধনি হচ্ছে, তাদের কাছে টাকা আছে, তারা সরকারকে টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। সরকার সেই টাকা দিয়ে বিভিন্ন এজেন্সিকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগায়।

বিশ্বের কোনো স্বৈরাচারি সরকার জনগণের আন্দোলনের মধ্যে টিকে থাকতে পারেনি উল্লেখ করে নজরুল বলেন, ফিলিপিন্সে মার্কোসের দমননীতির বিরুদ্ধে জনগণ যখন রাজপথে ট্যাংকের সামনে শুয়ে পড়েছিল তখনই মার্কোসের পতন হয়েছিল। ওই পরিমাণ সাহস কি আপনাদের আছে? মুখে আছে, যেদিন কাজে দেখাতে পারবেন, সেদিন এই সরকারের পতন হবে।
দলীয় নেতাকর্মীরা ঘরের মধ্যে যে রকম জালাময়ী বক্তব্য দেন তা বাইরে দেখানোর আহবান জানিয়ে এই শ্রমিক নেতা বলেন, আমি স্পষ্ট বলে দিতে চাই, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্যে যেকোনো আন্দোলনের প্রতি আমরাও আগ্রহ আছে।  আপনারা মুখে যেমন বলেন কাজে দয়া করে তেমন দেখান, দেখবেন অনেক বড় আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যবস্থা হবে। সেটা না করা পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার হবে না।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজম খানেরর সভাপতিত্ব প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক  ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী,স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু,কৃষক দলেরর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার,কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন,এম জাহাঙ্গীর আলম,মৎসজীবি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ।