খালেদা জিয়ার হাত-পা বেঁকে গেছে: বিএনপি

আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০১৯
0

দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোসহীন নেত্রী চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটছে। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী পায়ে হেঁটে আদালতে যাওয়া বেগম জিয়ার হাত-পা এখন বেঁকে গেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রিজন সেলে বন্দি থাকায় হাত-পায়ের ব্যথা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে, জয়েন্টগুলোতে প্রচন্ড ব্যথার কারণে নিজে উঠে দাঁড়াতে পারছেন না, সোজা হয়ে বসতেও পারছেন না।

এমনকি নিজের হাতে তুলে খেতেও পারছেন না। স্বাস্থ্যের এতোটাই অবনতি হয়েছে যে, তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পঙ্গু হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর স্বাস্থ্যের অবনতিতে চরমভাবে উদ্বিগ্ন। জনগণের সেন্টিমেন্ট অবজ্ঞা সরকার দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীর জীবনকে নিঃশেষ করে দেয়ার সকল আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছে। তাঁর চিকিৎসার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়া হয়েছে।

এই সরকার অন্ধ প্রতিহিংসার বশে বেগম খালেদা জিয়াকে ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতেই তাঁর সুচিকিৎসা প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

তাঁর ন্যায্য প্রাপ্য জামিনে সরাসরি বাধা দেয়া হচ্ছে। নগ্নভাবে আদালতের ওপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে অসত্য সংবাদ পরিবেশন করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা এক ভয়াবহ ও সুদুরপ্রসারী চক্রান্তের বর্ধিত প্রকাশ। মিথ্যা মামলায় দেশনেত্রীকে কারাবন্দী করে মধ্যরাতের নির্বাচনের সরকারপ্রধান শুধু ন্যায়বিচারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেননি, তিনি গণতন্ত্রের ক্ষতি করলেন, ক্ষতি করলেন বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষার।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সত্তায় প্রাতিস্বিক বৈশিষ্ট্যে স্বৈরাচারী তামসিক জাড্য আবার ক্ষমতা ধরে রাখতে বিশেষ শক্তির প্রতি নিরভিমান আনুগত্যে বাংলাদেশের আত্মশক্তিকে নিস্তেজ করে যাচ্ছেন। এই সরকার বাংলাদেশকে দাস শিবিরে পরিণত করছে।

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাহস, সততা ও দৃঢ়তা দিয়ে প্রত্যক্ষ অন্যায় ও অবিচারকে মোকাবেলা করছেন। অত্যাচারী অন্যায়ের রাজত্বে বেগম খালেদা জিয়া এক নির্ভিক কান্ডারী। গণতন্ত্র ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রখর প্রবক্তা দেশনেত্রী বেগম জিয়া অনুভবে, চিন্তায়, বিশ্বাসে, বাক্যে, আচরণে একদিকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা, অন্যদিকে গণতন্ত্র পূণ:রুদ্ধারে এক অকুতোভয় সিপাহসালার।

সুতরাং দেশনেত্রীকে গায়ের জোরে বন্দী করে বিপর্যস্ত করাটাই শেখ হাসিনার প্রধান লক্ষ্য। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনার টালবাহানায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হলে আপনার স্বনির্মিত দু:শাসনের শৃঙ্খল ধুলোয় লুটোপুটি খাবে। তাই তাঁকে নিয়ে কোন মিথ্যাচার-অপপ্রচার ও কুৎসা না রটিয়ে আজই মুক্তি দিনে। জামিনে কোন বাধা দিবেন না। তাঁর পছন্দমত হাসপাতালে তাঁকে সুচিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দিন।

LEAVE A REPLY