গ্রিনলাইন যথেষ্ট বেয়াদবি করেছে: হাইকোর্ট

আপডেট: জুন ২৫, ২০১৯
0

বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার বিষয়ে শুনানিকালে গ্রিনলাইন পরিবহনের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে হাইকোর্ট বলেছেন, আপনারা যথেষ্ট বেয়াদবি করেছেন। আপনাদের আচরণ কোনোভাবেই শোভনীয় নয়।

শুনানি শেষে বাসচাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা কিস্তিতে ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকার মধ্যে বাকি ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ওই অর্থ রাসেলকে দিয়ে ১৫ তারিখের মধ্যে আদালতে অর্থ পরিশোধবিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শুনানিকালে নির্ধারিত সময়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না করায় উষ্মা প্রকাশ করে গ্রিনলাইন পরিবহনের মালিক ও সরকারের উদ্দেশে আদালত বলেছেন, যে লোকটা আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের জন্য ফন্দি-ফিকির করে, সরকার তাকে কীভাবে পেট্রোনাইজ করে আমরা দেখব। কিস্তিতে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

গ্রিনলাইন পরিবহনের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত আরও বলেন, আপনারা যথেষ্ট বেয়াদবি করেছেন। আপনাদের আচরণ কোনোভাবেই শোভনীয় নয়। ক্ষতিপূরণের অর্থ হ্রাস করার কোনো সুযোগ নেই।

আদালতে গ্রিনলাইন পরিবহনের পক্ষে আইনজীবী অজি উল্লাহ, রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী খোন্দকার শামসুল হক রেজা ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার উপস্থিত ছিলেন।

শুনানির সময় ক্রাচে ভর দিয়ে আদালতে উপস্থিত হন রাসেল সরকার। সঙ্গে ছিলেন তার পরিবার।

এর আগে ১০ এপ্রিল বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের উপস্থিতিতে ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৮ এপ্রিল রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের যাত্রাবাড়ী ধোলাইরপাড় প্রান্তে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি বাসের চাপায় পা হারান এপিআর এনার্জি লিমিটেডের গাড়িচালক রাসেল।

গ্রিনলাইন বাসটির চালক কবির বেপরোয়া গতিতে পেছন দিক থেকে মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দেয়। এ সময় বাসের সামনে গিয়ে কবিরের কাছে ধাক্কা দেয়ার কারণ জানতে চান রাসেল।

এর জের ধরে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কবির ইচ্ছা করেই রাসেলের শরীরের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন। দ্রুত সরার চেষ্টা করলেও এক পা বাঁচাতে পারেননি রাসেল।

ঘটনাস্থল থেকে রাসেলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় গ্রিনলাইন বাসের চালক কবির মিয়াকে একমাত্র আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন রাসেলের ভাই আরিফ সরকার।

পা হারানো রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রাসেল রাজধানীর আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিংয়ে বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি ‘রেন্ট-এ-কার’ প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন।

LEAVE A REPLY