চিত্রনায়ক জসিম: প্রস্থানের দুই দশক

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৮

বাংলা সিনেমার আশির দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা জসিম। সেলুলয়েডে যাত্রা শুরু করেন খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। তারপর নিজের অভিনয়গুনে নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন পর্দায়। তারপর যতদিন বেঁচে ছিলেন সিনেমার নায়ক হিসেবে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন।
জসিম ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর রক্তক্ষরণজনিত কারণে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।

খলনায়ক হিসেবে জসিম দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমায় অভিনয় করেন। সিনেমাটি ছিল বলিউডের সাড়া জাগানো ‘শোলে’ সিনেমার রিমেক। এই সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয় করে নিজের জাত চেনান তিনি। এরপর তিনি ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নায়ক হিসেবে দর্শকের সামনে হাজির হন।

নায়ক হিসেবে তিনি একাধিক নায়িকার সঙ্গে জুটি বেধে অভিনয় করেছেন। এরমধ্যে শাবানা ও রোজিনার সঙ্গে অভিনয় দর্শকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। তবে মজার ব্যাপার হলো শাবানার সঙ্গে তিনি কখনো প্রেমিক, কখনো ভাইয়ের অভিনয় করেছেন।

জসিমের হাত ধরেই বাংলা সিনেমায় প্রথম অ্যাকশান দৃশ্য সংযোজিত হয়। ১৯৭৩ সালে প্রয়াত জহিরুল হকের সিনেমায় অ্যাকশান দৃশ্য যুক্ত করা হয়। সিনেমাটিতে তিনি খলনায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন।

অভিনয়ে আসার আগে জসিম ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেন। দেশ স্বাধীন ও বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কিংবদন্তি এই অভিনেতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। জসিমের প্রতি সম্মান রেখে এফডিসির একটি ফ্লোর তার নামে নামকরণ করা হয়েছে।

ব্যক্তি জীবনে জসিম দুইবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। চিত্রনায়িকা সুচরিতা তার প্রথম স্ত্রী। সুচরিতা অধ্যায় শেষ করে নাসরিনকে বিয়ে করেন। নাসরিন বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্রের নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তর মেয়ে।

আজ এই মহান নায়কের মৃত্যুর ২০ বছর পূর্ণ হলো। বাংলাদেশ আর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র যতদিন থাকবে ততদিন এই বাংলার মানুষ চিত্রনায়ক জসিমকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

এদিকে তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এফডিসির বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির স্টাডি কক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।