ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কলেজছাত্রী ধর্ষণের মামলা

আপডেট: মে ২৭, ২০১৭

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:  ময়মনসিংহের মুসলিম গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ এক ছাত্রলীগ নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার চার মাস পর ধর্ষিতার বাবা কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর কবিরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে মুসলিম গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ওই ছাত্রী (১৭) ময়মনসিংহ শহরের সানকিপাড়া নতুনপল্লী এলাকায় বোনের বাসা থেকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় মুসলিম গালর্স স্কুল এন্ড কলেজের দক্ষিণ পার্শ্বের সড়কে পৌঁছলে ভালুকা উপজেলার সিডস্টোরবাজার হবিরবাড়ি এলাকার মাইন উদ্দিন মন্ডলের ছেলে আলমগীর কবির (২৪), মোর্শেদের ছেলে তুষার (২৬) ও মোখলেছসহ (২৫) অজ্ঞাত আরো দুই/তিনজন অপহরণ করে সাদা রঙের কালো গ্লাস সংযুক্ত মাইক্রোবাসে তুলে পশ্চিম দিকে নিয়ে যায়। ওই ছাত্রীকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে আসামি আলমগীর কবির খুন জখমের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও রক্তাক্ত জখম করে। পরে যেখান থেকে অপহরণ করেছিল সেই স্থানে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। ছাত্রীটি তার বান্ধবীদের সহায়তায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। মামলার প্রধান আসামি আলমগীর কবির এর আগেও একদিন ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ভালুকা উপজেলার কাচিনা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম মিস্টার আলমগীর কবির, তুষার ও মোখলেছের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২/৩জনের বিরুদ্ধে গত ১৫ মে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
বাদী মো. রফিকুল ইসলাম মিস্টার সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এখন তার বিবাহিত বড় মেয়েকে অপহরণ ও ধর্ষণের হুমকি দিচ্ছে। এনিয়ে ধর্ষিত কলেজ ছাত্রী ও তার পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ শহরের ২নং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক আহমেদ জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই মেয়ের ডাক্তারি পরীক্ষার রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব সাংবাদিকদের জানান, ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ পেয়েছি। অচিরেই হবিরবাড়ি ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেয়া হবে। জেলা সাধারণ সম্পাদক সরকার মো. সব্যসাচী সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগ সত্য হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকব্যবস্থা নেয়া হবে। ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।