জনসমর্থন ও ব্যক্তি ইমেজ সমন্বয়ে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন

আপডেট: অক্টোবর ১১, ২০১৮

সারা দেশে বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন আর সিনিয়র জাতীয় রাজনৈতিক নেতাদের পরিচিতির সমন্বয়ে আগামী দিনের সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ঐক্যপ্রক্রিয়া। নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, ম্যাজিস্ট্রেসি মতা দিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখা, ইভিএম ব্যবহার না করাসহ বেশ কিছু দাবি থাকছে এ আন্দোলনে। থাকবে বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি এবং হয়রানি বন্ধের দাবিও। আন্দোলন-নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এ ঐক্য যাতে সরকার গঠন পর্যন্ত গড়ায় সে প্রক্রিয়াই এখন চলছে।

আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে চলমান ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার ড. কামাল হোসেনের বাসায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করতে জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, যুক্তফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা চলতি সপ্তাহে কয়েক দফা বৈঠকে বসেছেন।

ওইসব বৈঠকে সরকারের পতন এবং রাজবন্দীদের মুক্তিসহ ৫ দফা দাবির বিষয়ে একমত হন নেতৃবৃন্দ। তা ছাড়া নিরাপদ সড়কের দাবি এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবিও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। একসঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন এবং সরকার গঠনের ব্যাপারে তারা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। আজকের বৈঠকে অনুমোদিত হলে আগামী সপ্তাহে জেলায় জেলায় সমাবেশের কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান ঐক্যপ্রক্রিয়ার একাধিক নেতা।

গত রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বাসায় বৈঠক করেন বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতারা। বৈঠকে যুক্তফ্রন্ট নেতাদের মধ্যে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব:) আবদুল মান্নান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার মোস্তফা মহসিন মন্টু, আ ব ম মোস্তাফা আমীন ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরীও।

বৈঠক শেষে আ স ম আবদুর রব জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে এক মঞ্চে থেকে আগামী দিনে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। অন্য দাবিগুলো হচ্ছে নিরাপদ সড়কের দাবি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরসহ সব রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তি। আন্দোলনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একই মামলায় অন্যদের জামিনের পরও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেন জেলে আমরা জানি না। আমরা খালেদা জিয়া ছাড়াও কোটা ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে এবং গায়েবি মামলায় আটক সবার মুক্তি চাই। জনগণ আজ শঙ্কিত। সবাই ঐক্য চায়। এটা সবার চাওয়া। আমরা আগামীতে বসে আন্দোলন কর্মসূচি ঠিক করব।

পরদিন সোমবার বৈঠক হয় জেএসডি সভাপতির উত্তরার বাসায়। বিএনপির প থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, যুক্তফ্রন্টের আ স ম আবদুর রব ও আব্দুল মালেক রতন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিকল্পধারার মেজর (অব:) আবদুল মান্নান, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং তানিয়া রব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঐক্যপ্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত বৈঠক। আন্দোলনের কর্মসূচি ও রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি আজকের বৈঠকে জোটের একটি নামকরণও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত মহাসমাবেশ থেকে সরকারের উদ্দেশে আলটিমেটাম দিয়েছিল জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া। চাপ দেয়া হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের জন্য। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং তফসিল ঘোষণার আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেয়ার দাবি জানানো হয় সেখানে।
নয়াগিদন্ত