জন্মদিনে ভক্তদের শুভেচ্ছায় সিক্ত মাশরাফি

আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৮

জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মাশরাফি ভক্ত বিএম জুয়েল রানা লিখেছেন-‘তোমার বীরত্ব তোমার ব্যান্ডেজ পেচানো হাঁটুতে নয়, বীরত্ব তোমার কলিজায়। হ্যাপি বার্থডে বস।’ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক চৈতি বিশ্বাস লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন নড়াইল এক্সপ্রেস…।’ সাজ্জাত শাহ ও মোস্তাফিজুর রহমান রানার মন্তব্য-‘শুভ জন্মদিন বস।’ মাশরাফির সহপাঠী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৌমেন চন্দ্র বসু লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন অধিনায়ক।’

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজার ৩৫তম জন্মদিনে এভাবেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তার ভক্তরা। মাশরাফি ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর নড়াইল শহরের আলাদাতপুরে নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম ‘পেস বোলার’ হিসেবে খ্যাতি তার। লড়াকু এই ক্রিকেট তারকার নামের সঙ্গে কখনো ‘ঝড়ো ব্যাটিং’ শব্দটিও যুক্ত হয়ে যায়।

এদিকে, মাশরাফির জন্মদিনের পাশাপাশি তার ছেলে সাহেল মাশরাফিরও জন্মদিন ছিল গতকাল। ২০১৪ সালের ৫ অক্টোবর জন্ম নেন মাশরাফি ও সুমি দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান সাহেল মাশরাফি। সঙ্গতকারণে গতকাল (৫ অক্টোবর) ছিল বাবা-ছেলের জন্মদিন। তবে তাদের জন্মদিনে বর্ণাঢ্য কোনো আয়োজন ছিল না।

মাশরাফির জন্মদিন প্রসঙ্গে তার মা হামিদা মর্তুজা বলাকা বলেন, ১৯৮৩ সালের ৫ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে আমার বাবার বাড়ি নড়াইল শহরের আদালতপুরে জন্মগ্রহণ করে মাশরাফি। সেইদিনটি ছিল ‘মঙ্গলবার’। তবে, জন্মের আগে জানতাম না, আমার ছেলে না মেয়ে হবে। ও (মাশরাফি) ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরেই ছেলে সন্তানের মুখ দেখলাম।

মাশরাফির মা আরো বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা ওকে (মাশরাফি) ‘কৌশিক’ বলে ডাকি। পরিবারসহ নড়াইলবাসীর কাছে ‘কৌশিক’ নামেই সমধিক পরিচিত বিশ্ববাসীর ‘মাশরাফি’। তবে, আমাদের কৌশিকের জন্মদিন কখনো ঘটাও করে পালন করা হয়নি। ওর যখন এক বছর বয়স, তখন কেক কেটে জন্মদিন পালন করা হলেও পরবর্তিতে আর কখনো সেই ভাবে পালন করা হয়নি। এখন এতিম ও দু:খী মানুষের মাঝে খাবার, টাকা-পয়সা দেয়ার মধ্য দিয়ে কৌশিকের জন্মদিন পালন করা হয়।

এদিকে, ক্রিকেটে মাশরাফির খ্যাতি বিশ্বজোড়া হলেও ছোটবেলায় ফুটবল আর ব্যাডমিন্টন খেলতেন তিনি। এক সময় শুরু করেন ক্রিকেট খেলা। পড়ালেখা আর খেলাধূলার পাশাপশি বন্ধুদের সঙ্গে দুরন্তপনায়ও মেতে থাকতেন তিনি। চিত্রা নদীতে সাঁতারকাটা এবং আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফল পেড়ে খাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতেন বিভিন্ন সময়ে। বন্ধুদের নিয়ে দিনরাত আড্ডা ছিল তার প্রিয় সঙ্গ। মোটরসাইকেল চালিয়ে প্রিয় নড়াইল শহর ঘুরে বেড়াতেও তার জুড়ি নেই। ২০০৬ সালে নড়াইলের মেয়ে সুমনা হক সুমিকে বিয়ে করেন মাশরাফি।

দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে ও ছেলে সন্তানের জনক তিনি। বাবা গোলাম মতুর্জা স্বপন, মা হামিদা মর্তুজা বলাকা ও ছোট ভাই সিজারসহ স্ত্রী, সন্তান নিয়ে মাশরাফির সংসার।

এদিকে মাশরাফির জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার ভক্তরা ফেসবুকে গত বৃহস্পতিবার (৪ অক্টোবর) বিকেল থেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নড়াইলের মেয়ে বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সালমা খাতুন লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন, প্রিয় মাশরাফি ও সাহেল। জন্মদিনে অনেক অনেক দোয়া ও শুভ কামনা রইল।’ হাবিব রহমান লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন, বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, নড়াইলের গর্ব।’ কাজী ইমরানের মন্তব্য-‘শুভ জন্মদিন।’

বিপ্লব সাহা লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন ক্যাপ্টেন।’ পার্থ ব্যানার্জি লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন কৌশিক।’ তরুণ ভট্টাচার্য লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন মাশরাফি ভাই ও সাহেল ভাতিজা। বাপ-বেটার জন্য শুভ কামনা রইল…।’ জিএস পলাশ লিখেছেন-‘শুভ জন্মদিন ক্যাপটেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, আমাদের কৌশিক; শুভ কামনা সব সময় তোমার জন্য।’ মিকাইল হোসেন লিখেছেন-‘ শুভ জন্মদিন প্রিয় স্নেহাশিষ ছোট ভাই মাশরাফি বিন মুর্তজা কৌশিক। অধিনায়ক বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম। দোয়া ও শুভ কামনা নিরন্তর। তোমার হাতের ছোঁয়ায় ক্রিকেটের জয় হোক নিরন্তর। জয় বাংলা।’ এভাবে হাজারো ভক্ত মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্মদিনে শুভ কামনা করেন।