ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ : ৪০ এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ ১০৩ জন ভর্তি

আপডেট: জুন ২৬, ২০১৯
0

ঢাকা মহানগরে এবার আগেভাগেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও আগের তুলনায় বেশি। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জীবাণুবাহী এডিস মশা জন্মের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বেশি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ৮৩৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছর জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের এ সংখ্যা ছিল ৪২৮ জন। গত বছরের মে মাসে যেখানে ৫২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেখানে এবার মে মাসে এই সংখ্যা তিন গুণ (১৫৫ জন)।

এ বছর আক্রান্তদের মধ্যে দু’জন এপ্রিলে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন ৭৩৪ জন এবং বর্তমানে ১০৩ জন ভর্তি আছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক জরিপে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অন্তত: ৪০ এলাকাকে ডেঙ্গুর জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছে। তারমধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ রমনা, বনানী, গুলশান, বারিধারার অভিজাত এলাকাও রয়েছে। রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনে-রাতে মশার উপদ্রব রয়েছে।

এদিকে মশা নিধনে প্রতিবছর বাজেট বাড়ছে। দুই সিটি করপোরেশনের হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নগরে মশা নিধনে বাজেট ছিল ২১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। চারবছরে তা বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশী হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই সিটি মিলে মশা নিধনে বাজেট বরাদ্দ ছিল প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা। কিন্তু পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হয়নি।

বিশেষজ্ঞগণের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ঢাকায়ও শীত মৌসুমে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়া ডেঙ্গু মশা বৃদ্ধির একটি বিশেষ কারণ।

এ ছাড়া, রাজধানীজুড়ে ঘরবাড়ি-সড়ক নির্মাণ কাজ অনবরত চলতে থাকা, বাড়ির ছাদে বা বাসার আঙিনায় গাছ বা ফুলের টব রাখা এবং এসি ও ফ্রিজের ব্যবহার বৃদ্ধিও ডেঙ্গুবাহী মশার জন্মের অনুকূল পরিবেশ সুষ্টি করছে। এ ব্যাপারে জনসচেতনামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।#

পার্সটুডে

LEAVE A REPLY