ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক সেমিনার : ক্যালিগ্রাফি আল্লাহর কালামের সৌন্দর্যের প্রকাশ:

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৯
0
SONY DSC

হুজুর গাউছুল ওয়ারা শায়খুল ইসলাম শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানীর (ক.) ৮২তম খোশরোজ শরীফ উপলক্ষে সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে ১০ম জাতীয় ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী, ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক কর্মশালা ও সেমিনার আজ ২ ফেব্র“য়ারি শনিবার দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় জাদুঘরের নলীনি কান্ত ভট্টশালী হলে ১০ দিন ব্যাপী ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী গত ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। এ প্রদর্শনী চলবে ৪ ফেব্র“য়ারি ২০১৯ পর্যন্ত। বেগম সুফিয়া কামাল হলে প্রতিযোগিতা, কর্মশালা ও সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ক্যালিগ্রাফি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহ্সূফী মাওলানা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (মা.জি.আ.)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, অপসংস্কৃতির ফলে যুব সমাজ আজ দিশেহারা ও অবক্ষয়গ্রস্ত। অবক্ষয় ও অনৈতিক পথ থেকে যুব সমাজকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সুস্থ নৈতিকতাধর্মী শিল্প, সংস্কৃতি তাদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। শুধু সরকার একার পক্ষে যুব সমাজকে শুদ্ধাচারের পথে ধরে রাখা যাবে না। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জঙ্গিবাদ, মাদক ও অসুস্থ সংস্কৃতির আগ্রাসন ঠেকাতে ভূমিকা রাখতে হবে। সম্মিলিতি প্রচেষ্টায় নৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী বলেন, সত্য, সুন্দরের পথে আজীবন নিজেকে উৎসর্গীত রেখেছিলেন সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী (ক.)। ইসলামের নান্দনিকতা ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী তাঁর মহত্তর সৃজনশীল উদ্যোগের অংশ যা এখন আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। ক্যালিগ্রাফি আল্লাহর কালামের সৌন্দর্যের প্রকাশ। বর্তমান অপসংস্কৃতির যুগে এসব শিল্প কর্ম শিল্পীদের তুলির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারলে তা অপসংস্কৃতিকে প্রতিহত করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ও সহযোগিতাকারী সকলের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ক্যালিগ্রাফি কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদানে ছিলেন চীনের কোয়াং জিয়াং মি (হাজী নুর দ্বীন) সহ বিশ্বখ্যাত ক্যালিগ্রাফাররা।
সেমিনারে অতিথি ও আলোচক ছিলেন চীন থেকে আগত মিসেস ফাতিমা ইয়াং চো, আলহাজ্ব মো: ইকবাল রিছালপুরী প্রমুখ।
ক্যালিগ্রাফি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন ৬০ জন শিক্ষার্থী। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন ৭০ জনের অধিক শিল্পী। তাদের মধ্যে ১০জনকে পুরষ্কার প্রদান করা হয়। প্রথম- মাহমুদা আক্তার, দ্বিতীয়- তাসলিম ইমাম আল জামি, তৃতীয়- সাইদুল ইসলাম, চতুর্থ- উসামা হক, পঞ্চম- আব্দুল্লাহ আল ওয়াফি, ৬ষ্ঠ- আব্দুস ছাত্তার, ৭ম- মাহমুদুর হাছান, ৮ম- মোহাম্মদ লোকমান হোসেন, ৯ম- মোস্তফা আল তাকবীর মাহিন, ১০ম- কামরুন নাহার আশা। এছাড়া উন্মোক্ত ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

LEAVE A REPLY