দুদকে তিন তদন্ত ধামাচাপা দিলেন উপ-পরিচালক তৌফিক : ৭৮টি পাসপোর্ট অফিস থেকে চাঁদা তুলছেন

আপডেট: মে ২৬, ২০১৯
0

বিশেষ প্রতিনিধি:
দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তিনটি পৃথক অনুসন্ধান-তদন্ত ধামাচাপা দিয়ে পরিচালক পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন বহির্গমণ ও পাসপোর্ট অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম খান। একজন সাবেক দুর্নীতিবাজ মহাপরিচালকের সহযোগিতা এবং একজন মন্ত্রীর আশীর্বাদে তিনি এ পদে আসীন হতে চলেছেন বলে জানা গেছে। তবে কোনোরূপ যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত এ কর্মকর্তাকে পরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়ার প্রক্রিয়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন পাসপোর্টের অভিজ্ঞ, সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা।


দুদক সূত্র জানায়, তৌফিকুল ইসলাম খানের তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা। তিনি জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ভাগ্নে বলেও জানা গেছে। তৌফিক নিজেও এক সময় শিবিরের কর্মী ছিলেন বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তবে পাসপোটের্ তিনি ‘মিস্টার ২৫ পার্সেন্ট’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। অবসরে যাওয়া পাসপোর্টের সাবেক মহাপরিচালক মাসুদ রেজোয়ানের সংঙ্গে যোগসাজশ করে পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ২০টি আঞ্চলিক অফিস ওই মাসের আয়ের ২৫ % অর্থ জোরপূর্বক হাতিয়ে নেন তিনি। এ খাত থেকে প্রতিমাসে ‘আয়’ ৫ কোটি টাকা। এমন অভিযোগও রয়েছে, দেশের ৭৮টি পাসপোর্ট অফিস থেকে মাসওয়ারি নিয়মিত চাঁদাও নেন কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাছ থেকে। কর্মচারিদের পুরষ্কারমূলক বদলি, শাস্তিমূলক বদলি, কর্মকর্তাদের বিদেশে পোস্টিং এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রতিমাসে অন্তত ১০ কোটি টাকা আদায় করেন। জামায়াত জোট সরকারের আনুকূল্য পেয়ে তিনি সেসময়ই দুর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে পড়েন। দু’হাতে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। তার এসব ফিরিস্তি তুলে ধরে দুদকে সম্প্রতি আরেকটি অভিযোগ জমা পড়ে। সেটিকে ভিত্তি ধরেই কমিশন পৃথক আরেকটি অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
দুদকে জমা পড়া অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, পাসপোর্টের উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম নামে-বেনামে বিপুল সম্পত্তির অধিকারি। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। অভিযোগের ফিরিস্তি অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে ২টি অ্যাপার্টমেন্ট। উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে ২ নম্বর রোডে ৭ তলা বাড়ি। রামপুরা বনশ্রীর ‘বি- ব্লকে ১২ ইউনিটের একটি ৬ তলা বাড়ি। নিজ জেলা নেত্রকোনায় কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি। তার বিরুদ্ধে দুদকে পৃথক ৩টি অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দুদকের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সহযোগিতায় ধামাচাপা দিয়ে রেখেছেন। অথচ দুদকের ‘ছাড়পত্র’ ছাড়াই মন্ত্রীর আশীর্বাদে পরিচালক পদে পদোন্নতি নিশ্চিত করা হয়েছে। উপ-পরিচালক তৌফিকুল ইসলামের দুর্নীতির অনুসন্ধান সম্পর্কে দুদক সচিব দেলওয়ার বখত এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারির দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দুদকের। উল্লেখিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান ধামাচাপা দেয়া থাকলে উদ্বেগের বিষয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
###

LEAVE A REPLY