দেশের মানুষের কষ্টই শেখ হাসিনার কাছে রসিকতার উপাদান

আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০১৯
0

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যর সমালোচনা করে বলেন, ‌‌” ১৬ নভেম্বর শনিবার শেখ হাসিনা বললেন, ‘পেঁয়াজ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি, গণভবনে আজ পেঁয়াজ ছাড়া সব রান্না হয়েছে।”
এই অনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষ কষ্ট বা সংকটে পড়লে সেটা হয় উনার রসিকতার উপাদান।

আজ দুপুরে কে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, দেশের জনগণ জানতে চায়, কোনো কিছুর দাম বাড়লেই যদি সরকারপ্রধান পরামর্শ দেয়, “ওটা ছাড়াই চলতে”, তবে ঔষুধের দাম বেড়ে গেলে রোগীকে তাঁর পরামর্শ কি হবে ?

দেশের ইতিহাসে তো বটেই পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আত্মর্যাদাহীন সরকার আর দ্বিতীয়টি নেই। এই আত্মর্যাদাহীন সরকারের সঙ্গে একমাত্র মিল পাওয়া যায় স্বাধীনতা হারানো দেশগুলির সরকারের। বশংবদ সরকার। আমাদের বর্তমান সরকারটির অবস্থাও এখন তেমনি দাঁড়িয়েছে। জনগণ যতই অভিযোগ করুক, উদ্বেগ প্রকাশ করুক, সমস্যা ও সংকটের কথা বলুক, প্রতি ক্ষেত্রেই তাদের উদাসীন মনোভাব স্বাধীন দেশটাকে আজ অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দিয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে পেঁয়াজ নিয়ে সংকট, সব ইস্যু নিয়েই বালখিল্যতা কিংবা ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপি কিংবা অযথা বিরোধীদলকে জড়িয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর নির্লজ্জ প্রচেষ্টা এই সরকারকে জনগণকে ঘৃনার পাত্রে পরিণত করেছে। গুম, খুন অপহরণের ভয়ে মানুষ মুখ খুলছেনা, এজন্য সরকার যদি নিজেদের সফল মনে করে তাহলে সেই পুরোনো প্রবাদটির কথাই মনে পড়ে, ‘পাগলের সুখ মনে মনে’। এই সরকার যে জনগণের সমস্যা বুঝতে পারেনা, কিংবা বুঝতে পারছেনা এর বড় প্রমান বর্তমানের পেঁয়াজ সংকট। সরকারী দলের লোকজনের সিন্ডিকেটের কারসাজিতে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়ানো হচ্ছে এর দাম। আওয়ামী লীগের ভেল্কিবাজরা প্রতিদিন বিপুল পরিমান টাকা জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। শুধু পেঁয়াজ নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম এখন আকাশচুম্বী। পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে চালসহ অন্যান্য ভোগ্য পণ্যের দাম। পত্রিকার খবর অনুযায়ী গত দুই মাসে আট ধাপে সিন্ডিকেট লুটে নিয়েছে ১৫০০ কোটি টাকা। জনদুর্ভোগ ও আওয়ামী লীগ পরস্পর হাত ধরাধরি করে চলাফেরা করে।
গত আড়াই মাস ধরে পেঁয়াজের দাম ডাবল সেঞ্চুুরি থেকে ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ছুঁই ছুঁই করে বিশ্ব রেকর্ড করেছে। ১৬ টাকার পেঁয়াজ এখন ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ-রসুনের এই কৃষিপ্রধান দেশে মানুষকে আজ মিডনাইট সরকারের বাজার সিন্ডিকেটের খপ্পরে পড়ে হালি দরে পেঁয়াজ কিনে খেতে হচ্ছে ! সঙ্কট সমাধানের পথে না গিয়ে সরকার পেঁয়াজ সঙ্কট নিয়ে দেশে বিদেশে রসিকতায় মেতেছে।
প্রধানমন্ত্রী মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্য উপাদান নিয়ে নিত্য নতুন রঙ-ঢঙের কথা বলেই যাচ্ছেন। গত ৪ অক্টোবর ভারত সফরে গিয়ে মনে হয় বাংলাই ভুলে গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। পেঁয়াজ সঙ্কট নিয়ে তিনি হিন্দি ভাষায় রসিকতা করে বলেছিলেন: ’ম্যায়নে কুক কো বোল দিয়া, আব সে খানা মে পেঁয়াজ বান্দ কারদো….। হিন্দি বোলচাল দিয়ে সেই অনুষ্ঠানে ভারতীয়দের খুব হাততালিও পেলেন। তারপর আরো কয়েক দেশ ঘুরে দেশে ফিরে ২৯ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “পেঁয়াজ না খেলে কী হয় ? পেঁয়াজ ছাড়া আমি রান্না করি। পেঁয়াজ নিয়ে এত অস্থির হওয়ার কী আছে, আমি জানি না।”

LEAVE A REPLY