দেশে হত্যা ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার হিড়িক চলছে : রিজভী

আপডেট: জুন ৯, ২০১৯
0

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার হিড়িক চলছে।
তিনি বলেন, দেশ-বিদেশের মানুষ জানে বাংলাদেশে চলছে গণতন্ত্রের এক অন্ধকারময় পর্ব। এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন নিরুদ্দেশ করা হয়েছে।

আজ রোববার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, , যেখানে সরকারি অনুমোদন ছাড়া কাকপক্ষিও ঢুকতে পারেনা সেই বিএসএমএমইউতে বোমা সদৃশ্য বোতল উদ্ধারের ঘটনায় তথ্যমন্ত্রী এখন বিএনপি’র যোগসূত্র খুঁজছেন। এইজন্যই বলেছি যে, আওয়ামী নেতারা চরম মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের ষড়যন্ত্র ঢাকতে পারঙ্গম। তথ্যমন্ত্রীরতো ভুলে যাওয়ার কথা নয় শেরাটনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ থেকে শুরু করে বিএনপির আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে সারাদেশে গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা কারা করেছিল, বিহঙ্গ গাড়িতে পেট্রোল হামলা কারা করেছিল যা পরবর্তীতে আওয়ামী নেতারাই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, এস্বীকারোক্তির কথাটা তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করলেন না কেন? এছাড়াও নরসিংদী রোডের বিআরটিসি বাস আজিমপুরে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করে ছিল কারা, এসব করেছিল যারা তারা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ও রাষ্ট্রযন্ত্র -যা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। নারায়নগঞ্জে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবলীগ নেতাদের কিভাবে আটক হয়েছিল, রাবিতে ছাত্রলীগ কিভাবে বোমা হামলার স্বীকারোক্তি কিভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছিল। সুতরাং পেট্রোল -বোমা কালচার আওয়ামী লীগের আবিস্কৃত কালচার, সেটা তথ্যমন্ত্রী এড়িয়ে গেলেও দেশবাসী ঠিকই জানেন। গত বছর নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে গায়েবি মামলা, মৃতব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা, পক্ষঘাতগ্রস্ত ব্যক্তির নামে মামলা, পবিত্র হজব্রতরত ব্যক্তির নামে মামলায় প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ নিজেরা অপকর্ম করে অন্যের উপর দায় চাপায়। বিএসএমএমইউতে পেট্রোল বোমা সদৃশ্য বোতলও ক্ষমতাসীন মহলের ষড়যন্ত্রের অংশ এবং এটা কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এটাও দেশবাসীর কাছে পরিস্কার। সুতরাং জনগনের উপর জবরদস্তি করে মিথ্যা কথার মায়াজাল বিস্তার করা যায় না। মিডনাইট নির্বাচন, নাগরিক স্বাধীনতা হরণ, রক্তপাতের সংস্কৃতি চালু রেখে আওয়ামী নেতাদের প্রাত্যহিক জীবন থেকে সৌজন্যবোধ ও হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছে।

সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, সাধারণ নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে এখন আর কোন আলোচনা নেই। তিনি যখন এ বক্তব্য গণমাধ্যমে রেখেছেন ঠিক সেদিনই যুক্তরাজ্য সরকারের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশে গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের অনিয়ম ও কারচুপির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা বিশ্বাসযোগ্য। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে বাংলাদেশের মানবধিকার, গণতন্ত্র এবং বাকস্বাধীনতা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে। গুম, বিচারবর্হিভূত হত্যা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সংকোচন ঘটেছে। সুতরাং এ যুক্তরাজ্যের এ বিবৃতির পর এ কথা নিসন্দেহে বলা যেতে পারে প্রতিমন্ত্রী সাহেব প্রধানমন্ত্রীর চোখ দিয়ে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের চেহারা দেখছেন। কিন্তু দেশে বিদেশের মানুষ জানে বাংলাদেশে চলছে গণতন্ত্রের এক অন্ধকারময় পর্ব, এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন নিরুদ্দেশ করা হয়েছে, মানুষের বাক-স্বাধীনতা নেই। দেশে হত্যা, ধর্ষণ ও বিচারবর্হিভুত হত্যার হিড়িক চলছে। শুধু মে মাসের প্রথম ৮ দিনেই ৪১ শিশু ধষণের শিকার হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫জন মানুষ বিচারবর্হিভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন। হত্যা, ধর্ষণের এহন গুরুতর অপরাধের ঘটনাগুলো সমাজে, গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড়ের সৃষ্টি হলেও সরকারের টনক নড়েনা। বরং ক্ষমতাসীনদের আস্কারাতেই ক্ষমতাসীনরা শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে। তার একটি বড় প্রমাণ ফেনীর নুসরাত জাহানতে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে মারার সাথে যারা প্রকাশে-অপ্রকাশ্যে জড়িত তাদের একজন ফেনীর সোনাগাজি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। পরোয়ানা থাকার পরও ওই ওসি এখন ধরাছোঁয়ার বাহিরে। অতএব মন্ত্রীরা চাকরি রক্ষার বিবৃতি দিলেও দেশের অবস্থা ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক।

LEAVE A REPLY