দেড় ঘন্টা জীবনের রঙিন স্বপ্নে বিভোর হলেন ১৮৭১ কারাবন্দি

আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৯

ডেস্ক রিপোর্ট:
১৮৭১ জন কারাবন্দিকে স্বপ্ন দেখানোর গল্প বললেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা । কারবান্দিরাও নেচে গেয়ে কিছুটা সময় জীবনের রঙিন স্বপ্নে বিভোর হলেন। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলে আনন্দঘন এই মুহূর্ত। বৃহস্পতিবার চলে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারগারের ভেতরে চলে মাদক বিরোধী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কারাবন্দিদের নিয়ে এ আন্দনঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নারায়ণগঞ্জ জেল সুপার সুভাস চন্দ্র সাহা।

কারাবন্দীদের মাদক দ্রব্য সেবন, বহন, পাচার ও ব্যবসার পথ পরিহার করে সুস্থ জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে। বিকেল ৩ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে জেলা কারাগার ও মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় এক হাজার ৮৭১ কারাবন্দি অংশগ্রহণ করে। জেল কারাগার সুপার সুভাস চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাব্বী মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শামসুল আলম ও গণপূর্ত অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাব্বী মিয়া বলেন, ‘দেশী ও বিদেশী কুচক্রী মহল আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে যুবসমাজকে টার্গেট করেছে।

মাদকের দিয়ে তারা যুবসমাজকে হতাশায় নিমজ্জিত রেখে বিপথগামী করতে চায়। মাদক ব্যবসায়ীদের ছেলে-মেয়েদের নামী-দামী স্কুলে পড়াশোনা করাচ্ছে। তবে অন্যের সন্তানকে মাদক দিয়ে ধ্বংস করছে। মাদক পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়।

কারাবন্দীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নিজের জীবনকে আপনাদের ভালোবাসতে হবে। স্বপ্ন দেখতে হবে। নিজেকে ভালোবাসলে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কাজ থেকে আপনারা দূরে থাকবেন। কারগার অভ্যন্তরে কেউ মাদক ঢুকানোর চেষ্টা করে, মাদক ব্যবসা করতে চায় তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শামসুল আলম বলেন, ‘মাদকের সরবরাহ, চাহিদা ও ক্ষতি হ্রাস এ তিনটি কৌশল নিয়ে কাজ করে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর। মাদকের বিরুদ্ধে সরকার শূণ্য সহশীলতা নীতি অবলম্বন করেছে। একই সাথে মাদসেবীদের সুস্থ জীবনে ফিরে আসার সুযোগও রেখেছেন। আর সেই সুযোগ হিসেবেই জেলখানাগুলোকে সংশোধনাগার হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে।’

জেল সুপার সুভাস চন্দ্র সাহা বলেন, ‘মাদক সর্বগ্রাসী শব্দ। আপনারা (কারাবন্দিরা) আলোর পথে ফিরবেন এটাই প্রত্যাশা করি। সমাবেশ শেষে কারাবন্দীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শুরুতে এতে গান পরিবেশন করেন কারাবন্দী সোহান লাল। এরপর বিভিন্ন শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

এর আগে কারা পরিদর্শক বোর্ডের ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কারা অভ্যন্তরে নির্মিত ‘রিজিলিয়ান্স’ গার্মেন্টসের উৎপাদিত পণ্য বিপণন ও অর্ডার প্রাপ্তির ব্যবস্থা, মহিলা বন্দিদের শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি মিনি স্কুল ও মাদ্রাসা নির্মাণ, মহিলা বন্দীদের পুনর্বাসনের জন্য সমিতির মাধ্যমে বিউটি পার্লার ও বিউটিফিকেশনের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, মাদকের থেকে বন্দীদের জন্য ডাক্তার দ্বারা মোটিভেশন ও সচেতনতা তৈরি, নতুন ছয় তলাবিশিষ্ট বিচারাধীন ভবন ও সেল নির্মাণ কাজসহ কারাগারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

১২ একর জায়গায় নির্মিত নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে ১৮৭১ জন কারাবন্দী রয়েছে। তবে কারাগারের ধারণ ক্ষমতা ৪০০ বন্দীর। নতুন করে কারাগারের জন্য আরো ৪ একর জমি অধিগ্রহণ করার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নয়া দিগন্ত