ধর্মীয় অসহিষ্ণু দালালদের হুশিয়ারী: ভারতীয় বোধই বেঁধে রেখেছে:‌ রহমান

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৭

গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডের ধর্মীয় অসহিষ্ণু দালালদের হুশিয়ারী ও নিন্দা করেছিলেন মাত্র। তার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে এআর রহমানকে। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর ভারতীয় হওয়া নিয়েও। দেশ জুড়ে এমন অসহিষ্ণুতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছেন অস্কারজয়ী এই সুরকার। তাই সময় থাকতে হিংসার দালালদের সাবধান করে দিলেন তিনি। ধ্বংসলীলায় মেতে ওঠার বদলে ঐক্য টিকিয়ে রাখার পরামর্শ দিলেন। বলেছেন, ‘‌আমি গৌরী লঙ্কেশকে চিনতাম না। গান রেকর্ডিংয়ের মাঝে খবর পাই। সঙ্গীত জগতে মানুষ তো!‌ তাই খবর পেয়ে হৃদয় কেঁপে ওঠে। আমরা গান্ধীজির দেশের মানুষ। তাই এই ধরনের নৃশংসতা মেনে নিতে পারিনি। ভাবতে পারিনি আমার দেশে এমনটা ঘটতে পারে। ধর্ম, ভেদাভেদ ভুলে শুধুমাত্র পারস্পরিক বিশ্বাসকে আগলে বেঁচে রয়েছি আমরা। তাই গোটা বিশ্বের কাছে ভারত একটা উদাহরণ। কিন্তু বর্তমানে কিছু লোক ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে। তা হতে দেওয়া চলবে না।’‌ রহমানের মতে, ‘‌এই মুহূর্তে সরকারে বেশ কিছু ভাল কাজ হচ্ছে। তা নিয়ে গর্ব অনুভব করি। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যাতে আমরা অন্য দেশগুলির মতো না হয়ে যাই। এমনিতেই অনেক জটিলতা রয়েছে।

আমাদের দেশে নানা জাতি, ধর্ম রয়েছে। আমরা সকলেই ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষ। একমাত্র ভারতীয় বোধই আমাদের এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে।

এটাকে নষ্ট হতে দেওয়া চলবে না। মঙ্গলবার রাতে বেঙ্গালুরুর বাড়িতে প্রখ্যাত সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশকে খুন করে রেখে যায় দুষ্কৃতীরা। বিজেপি ও দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদের বিরোধী ছিলেন তিনি।

তাদের সমালোচনায় বিস্তর লেখালেখি করেছেন। তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করায় আঘাত পেয়েছিলেন এআর রহমান। শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‌এই ধরনের ঘটনা ঘটলে ভারত আমার দেশ হতে পারে না।’‌
তার জন্য বিজেপি সমর্থকদের বিস্তর সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। তাই অভিনেতা ও তারকাদের রাজনৈতিক বিষয় থেকে দূরে থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন তিনি।
জানিয়েছেন, ‘‌আমাদের সকলের চুপ থাকা উচিত। সমাজে অনেক কিছুই ঘটে। কিন্তু বিত্তশালী বলে আমাদের ওপর কখনও বিশেষ প্রভাব পড়ে না। দেশের ক্ষমতাশালী শ্রেণী সবসময়ই প্রভাবমুক্ত থাকে। শুধুমাত্র দরিদ্র ও নিরীহ মানুষকেই ভুগতে হয়। তাঁদেরও সমানাধিকার রয়েছে। শুধুমাত্র সুযোগ সুবিধা পৌঁছচ্ছে না বলে তাঁদের খআটো করা উচিত নয়। আমাদের দায়িত্ব ওঁদের খেয়াল রাখা। শিল্পের মাধ্যমেই শান্তির বার্তা দিতে পারেন শিল্পীরা।’‌ দেশ জুড়ে অসহিষ্ণুতা মাথাচাড়া দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এই প্রথম মুখ খুললেন রহমান।