ধর্ষণসহ দেশে সহিংসতা খুব বেড়েই চলছে : ৬মাসে ৭শ নারী – শিশু ধর্ষনের শিকার – মহিলা পরিষদ

আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৯
0

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্তমান জাতীয় পরিস্থিতি, অব্যাহত নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদ ও সামাজিক নিরাপত্তার দাবিতে জাতীয় মহিলা পরিষদের এক সংবাদ সম্মেলনে্এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মহিলা পরিষদ লিখিত বক্তবব্যে বলেছে , ‌’ রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চায় অসহিষ্ণুতা ও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে, সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত মানুষের মনে এক ধরনের শংকা তৈরী হয়েছে, সকলের সামনে মানুষকে কুপিয়ে, পুড়িয়ে হত্যা করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। গুম, খুন, বিচার বহির্ভূত বন্দুক যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা আজও কমছেনা। আমরা লক্ষ করছি যে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে কুপিয়ে, সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে হত্যা করো হচ্ছে। নারী ও শিশুর প্রতি ধর্ষণ সহ সকল প্রকার সহিংসতা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার্থীকে শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের যৌন হয়রানির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষক যখন তার স্বীয় দায়িত্ব সততা ও পেশাদারিত্বেও সাতে পালিত করতে যাচ্ছিল তখন শিক্ষার্থী কর্তৃক লাঞ্ছিত অপমানিত করা হচ্ছে।
সবকিছু মিলিয়ে দেশের এক বিশেষ জটিল, সঙ্কটময়, পরিস্থিতিতে আমরা গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি।

দেশের উন্নয়ন বলতে শুধু ভৌত অবকাঠামো বা বার্ষিক গড় আয় বৃদ্ধির বিষয়কেই বোঝায় না, উন্নয়নের কেন্দ্রে থাকে জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, জননিরাপত্তা ও মানবাধিকারের বিষয়গুলো। প্রকৃত গণতন্ত্রই এই সামাজিক উন্নয়নগুলোর নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে যখন জাতীয় বাজেটের আকার প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে, বড় বড় অবকাঠামো মূলক উন্নয়ন প্রকল্প পরিকল্পনায় যুক্ত হচ্ছে, দেশের অগ্রসরমানতা আক্ষরিক অর্থে দৃশ্যমান হচ্ছে সেই সময়েই বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে ও রূপগঞ্জে নির্বাচিত ইউপি সদস্যকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মত ঘটনা এবং এই হত্যাকান্ড বন্ধে সাধারণ জনগণের কেউ এগিয়ে আসছে না, এ সমস্ত ঘটনায় আমরা বুঝতে পারি একদিকে অপরাধীকে বিশেষ করে তরুন প্রজন্মকে একটি মহল আরো অপরাধী করে তুলছে অন্যদিকে সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকা নিয়ে শংকিত। অতি সুকৌশলে ভীতি সংস্কৃতি ধীরে ধীরে আচ্ছন্ন করে ফেলছে আমাদের সাধারণ জনগনকে।
বর্তমানে ক্রমবর্ধমান হারে গণধর্ষণ পুড়িয়ে হত্যা, খুন- ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধসমূহও মানুষের মনে নাড়া দিতে পারছেনা। দুই একটি ঘটনা যখন অতিরিক্ত বিভৎসতায় সংঘটিত হয় যেমন নুসরাতকে শিক্ষক- শিক্ষার্থী- বন্ধু- বান্ধবীর দ্বারা প্রকাশ্যে গায়ে কোরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে বর্বরভাবে হত্যা, শাহীনূরকে পুড়িয়ে হত্যা, বা ফিটনেসবিহীন দুই গাড়ির লাইসেন্সবিহীন দুই চালকের বেপরোয়া গতি শিক্ষার্থীর জীবনকে কেড় নিলে বা বেপরোয়া গতির দুই বাসের মাঝে পরে শরীর থেকে হাত বা শরীরের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন করা হয় তখন বাসে একা তরুনী পেয়ে বাস চালক ও সহকারীদের বিভৎস উন্মত্ততায় মেতে উঠে ধর্ষণ ও হত্যা এই ধরনের ঘটনাগুলো সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরে কিছুদিন তোলপার চলে পরে আবার সব নীরব হয়ে যায়।

গত বছর সরকার ঘোষণা দিয়ে মাদক নির্মুলে নেমেছিলেন। শুরু হয়েছিল বন্দুক যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি। কিন্তু মাদকের ব্যবসা কমেনি। বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ড চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংবিধানের পরিপন্থী।। রিফাত শরীফ হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী নয়নকে বন্দুকযুদ্ধে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হলো। এর ফলে নেপথ্যের অনেক তথ্য,আশ্রয়-প্রশয়দাতাদের আড়াল করা হলো। আমাদের প্রশ্ন তাতে সমাজ কি পরিশোধিত হলো? আসল গড ফাদারদের সমাজে রেখে এভাবে সুশাসন আনা যায়না।আমরা এই ধরনের বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।প্রকৃত অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় না এনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক মানুষ হত্যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান আমরাও চাই কিন্তু তার পদ্ধতি হতে হবে গণতান্ত্রিক যথাযথ আইনমাফিক।

লক্ষ করছি যে প্রতিনিয়ত সারাদেশে গুম, খুন, অপহরনও ঘটে চলেছে। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাস্ট্র মন্ত্রী সোহেল তাজের ভাগ্নে অপহৃত হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ,
লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, প্রায়শঃই চালকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চালকের বদলে সহকারী বা হেলপারের গাড়ি চালানো, গাড়ি চালানোরত অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানো, চলাচলের অনুপযুক্ত রাস্তায় গাড়ি চলাচল, অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তির গাড়ি চালানো, দুই গাড়ির বিপদজ্জনক প্রতিযোগিতা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিংএর অভাব, ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বহীনতা- এইসব কারণে এইধরনের ভযাবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি আমরা লক্ষ্য করছি সমাজের প্রভাবশালীরা বাসের মালিক এবং শ্রমিক নেতাও এইসব কারনে দুর্ঘটনায় মানুষ হতাহত হলে দোষী চালকের শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছেনা, বাস মালিকদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছেনা এবং দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা বিআর টিএর বিরুদ্ধে অনিয়ম- দূর্নীতির অভিযোগকে আমলে নেয়া হচ্ছেনা- সরকারী এই প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহীতার আওতায় আনা হচ্ছেনা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অবিলম্বে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সকল প্রকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানাচ্ছে। পাশাপাশি এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে মানুষের হতাহতের জন্য জবাবদিহীতার আওতায় আনা এবং দু’একটি নয় সকল ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানাচ্ছে।

একটি দেশে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুমিকা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা লক্ষ্য করলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নুসরাত হত্যা মামলায় সার্বিক নির্দেশনা থাকার পরেও আইনশৃ্খংলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওসি মোয়াজ্জেমকে ধরতে ইচ্ছাকৃত দীর্ঘসূত্রিতা করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ প্রশাসনের যথাযথ দায়িত্বশীল নিরপেক্ষ ভূিমকা পালনের দাবি জানাচ্ছে।
আমরা লক্ষ্য করছি খাদ্যে ভেজাল, ঔষধে ভেজাল প্রতিটি প্রয়োজনীয় পণ্যে ভেজাল। একট সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে সরকারকে এখনই গুরুত্বের সাথে নজর দিতে হবে এবং সকলের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বি এসটিআই সহ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনকে আরও সক্রিয়, নিরপেক্ষ আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
এখনও বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পারি দেয়ার জন্য দালালদের খপ্পরে পড়ে সাগ,ের মহাসাগরে অনেক তরুনের মৃত্যু হচ্ছে। মহিলা পরিষদ বার বার দাবি জানিয়েছে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে। মানব পাচারকারীদের, মানব পাচারের সাথে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনেকে বিভ্রান্ত হয়ে মাদকাসক্ত ও জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পরছে। সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতা বিভিন্ন ভাবে চলছে। আজকে দেশের সকল নাগরিককে, নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মৌলবাদ , সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের ভয়াল অভিশাপ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও জবাবদিহীতার আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে একমুখি বিজ্ঞানভিত্তিক, অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, জেন্ডার সংবেদনশীল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশপ্রেম, মানবিক ও মানবাধিকারের মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আজ সময়ের দাবি, যা আধুনিক, যুক্তবাদী, ভবিষ্যতমুখি, ন্যায় ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে জানুয়ারি-জুন, ২০১৯ এই সময়কালে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট ২০৮৩ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৭৩১ টি, তন্মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৫৯২ জন, গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৩ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে, এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জনকে। শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছে ৫৪ জন। যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭০ জন। এসিডদগ্ধের শিকার হয়েছে ১৮ জন তন্মধ্যে ২ জনের এসিডদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধের শিকার হয়েছে ৩৭ জন তন্মধ্যে ৯ জন অগ্নিদগ্ধের কারণে মৃত্যু হয়েছে। অপহরণের ঘটনা ঘটেছে মোট ৬৩ টি এবং নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা ঘটেছে ৩টি। বিভিন্ন কারণে ২৭৬ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে এবং ১০ জনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯৪ জন, তন্মধ্যে হত্যা করা হয়েছে ৪৭ জনকে। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১৭ জন। উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছে ৪৬ জন, তন্মধ্যে উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছে ৯ জন। বিভিন্ন নির্যাতনের কারনে ১০৬ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে তন্মধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনা শিকার ৩৭ জন এবং ১০৩ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে ৭১ টি ও বাল্যবিবাহের প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছে ২৯ টি। এছাড়া অন্যান্যরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে।(সংযুক্তি-১)
নারী ও কন্যাদের উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা নিত্য দিনের খবর হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে ২০১৪-২০১৮ এই সময়কালে ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধিসহ মোট ৫২৭৪ জন নারী ও কন্যা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোট ৩৯৮০ জন তন্মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৪৫ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৪৯ জনকে, এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ৭৩০ জনকে। উত্ত্যক্ত ও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে ১৫৭৯ জন তন্মধ্যে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে ১৪৭৭ জনকে, উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছে ১০২ জন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নির্যাতন করা হয়েছে ৭৬ জনকে, যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫০২ জন। এসব ঘটনায় মাত্র ৩-৪% এর মামলায় সাজা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধী ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে যা নারী আন্দোলনকে ভাবিয়ে তুলেছে। (সংযুক্তি-২)
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত চলতি বছরে ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিশেষ কয়েকটি ঘটনা- (সংযুক্তি-৩)
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে জানুয়ারি-জুন, ২০১৯ এই সময়কালে নারী নির্যাতনের ৯৯২টি ঘটনায় বিবৃতি প্রদানসহ ৮৫৪টি ঘটনায় মোট ১৮৪৬টি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে তন্মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ৪২, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ১০২, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ১০২টি, আইজিপি ১০৩টি, ডিসি ১৫৭টি, এসপি ১৫৭টি, ওসি ১৫৮টি। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য, অধ্যক্ষসহ অন্যান্য মোট ২টি।
জাতীয় নিবার্চন ও উপজেলা নির্বাচনের পর নোয়াখালির সুবর্ণচরের একাধিক নারীকে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হতে হয়েছে। উপজেলার নির্বাচনের পর ৬ সন্তানের জননীকে ধর্সণের ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদানসহ বিচার দাবী করেন। এছাড়া ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাতের যৌন নিপীড়ন ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাধেশ মহিলা পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নুসরাত-কে দেখতে যান। নুসরাত হত্যার ঘটনা বিচারের প্রতিবাদে বিবৃতি ও স্মারকলিপি প্রদান ছাড়াও কেন্দ্র ও বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ সভা/ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক এবং পুলিশ ও প্রশাসনের নগ্ন চেহারা সমাজে নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র দেখে সারাদেশের মানুষ মর্মাহত।
ঢাকা মহানগরের ডেমরায় গত জানুয়ারি মাসে গোলাম মোস্তফা নামক ব্যক্তি দুই শিশুকে হত্যা করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। গত জুন মাসে নওঁগার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নে মা-কে গলা কেটে খুন করে মায়ের লাশের পাশে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মেয়ে-কে ধর্ষণ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পরিষদের মহিলা ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টি (৫০)-কে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তার স্বামীকে হত্যা ও পরে মামলা প্রত্যাহার না করায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বরগুনা জেলার সদর থানাধীন শহরের কলেজ সড়কের ক্যালিক্স কিন্ডার গার্ডেনের সামনে দিনদুপুরে স্ত্রীর সামনে স্বামীকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। নরসিংদীর শিবপুরে প্রতিবন্ধী তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মৃত দেহকে ধর্ষণ করা হয়েছে। একই মাসের শেষ সপ্তাহে চট্টগ্রামে ৯ মাসের শিশুকে তার চাচা ধর্ষণের চেষ্টা করেছে ও নারায়গঞ্জ ঝেলা সিদ্দিরগঞ্জে অক্সফোর্ট হাইস্কুলের ২০জন ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে।
২০১৪ থেকে ২০১৮ এই পাঁচ বছরের মোট ৫২৭৪ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বর্তমান সময়ে জানুয়ারি থেকে জুন, ২০১৯ এই ছয় মাসে ২০৮৩ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
এঘটনাগুলো থেকে বুঝা যায় সারাদেশে নারী ও শিশুদের সহিংসতার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যা অতীতের যে কোন সময়ের বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি একটি বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণা করে সমগ্রজাতিকে এই সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা বিবেচনা করে ঐক্যবন্ধভাবে কাজ করতে হবে।
নারী আন্দোলন মনে করে এ অবস্থা চলতে পারে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ঐক্যবদ্ধভাবে নারী ও কন্যার স্বাভাবিক বিকাশ, নারীর স্বাধীন চলাচল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারী ও কন্যার প্রতি সকল প্রকার নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূল করতে হলে নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলাসহ নারী ও কন্যার প্রতি বিরাজমান পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করতে হবে।
বিভিন্ন ঘটনায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্র ও জেলা শাখা বিবৃতি ও স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধন/প্রতিবাদ সভা/সমাবেশ, তথ্যানুসন্ধান, আইনগত সহায়তা বিষয়ে ফলো-আপ ও পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপরোল্লিখিত ঘটনা ছাড়াও চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন ঘটনায় বিবৃতি ও স্মারকলিপি প্রদানসহ কেন্দ্র ও ঘটনাস্থলের জেলা শাখা প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ করেছে। এছাড়া সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে কেন্দ্র তেকে তৃনমূল পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নারী ও কন্যার উন্নয়নে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রশংসার দাবি রাখলেও তাদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার নারীবান্ধব স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয় নাই। এ বিষয়ে নারী আন্দোলন উদ্বিগ্ন, মর্মাহত, ক্ষুব্ধ। সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে বাল্যবিয়ের ঘটনার মধ্য দিয়ে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। নারী ও কন্যার প্রতি এই ধরণের সহিংসতা নারীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করছে এবং নারীর স্বাধীন চলাচল ও উন্নয়নের ধারার গতি ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ছে। সমাজের মধ্যে নানা ধরণের অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ পরিস্থিতি হিসেবে ঘোষণার দাবী রাখে।
সরকার, নারী ও মানবাধিকার সংগঠন, উন্নয়ন সংগঠন, সকলে পুর্বের তুলনায় আরো সংগঠিতভাবে বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করছে। বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, সহিংস ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, রোকেয়া সদনের মতো পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করা, সরকারের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধরণী পর্যায়ে স্মারকলিপি পেশ, প্রচলিত আইনগুলো সম্পর্কে সচেতন করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া, এলাকাবাসীকে সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতন করা, তরুণ ও পুরুষ সমাজের সাথে দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন ও সহযোগিতার জন্য অ্যাডভোকেসি ও লবি করে কার্যক্রম চলছে। বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক কর্মকা- বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কেন বাংলাদেশে নারী ও কন্যা শিশুর উপর আবার বর্বর সহিংসতা বেড়ে চলেছে? এটা আজ কেবলমাত্র নারী আন্দোলনের নয়, কেবলমাত্র নারী সংগঠনের নয়, সমাজচিন্তক, গবেষক এবং বিশেষ করে সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের তথা রাষ্ট্র পরিচালকদের গুরুত্বের সাথে গভীরভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে মূন্য নহিষ্ণুতার নীতি গ্রহন করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা প্রেক্ষিতে সুপারিশসমূহ:
ক্স নারী ও কন্যার প্রতি যৌন নিপীড়নসহ সকল প্রকার সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।
ক্স পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে পুত্র ও কন্যার সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
ক্স উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যা, এসিড নিক্ষেপের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ক্স উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের আলোকে পৃথক আইন প্রণয়ন করতে হবে।
ক্স নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়, প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে।
ক্স বিচার কাজের সাথে যুক্ত সম্মানিত বিচারকবৃন্দ, আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ সূচিতে নারীর মানবাধিকারের বিষয় অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
ক্স কারো হেফাজতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে ঘটনার শিকার নারী ও কন্যার পরিবর্তে তাকে প্রমান করতে হবে সে এ ঘটনা ঘটায়নি মর্মে প্রচলিত আইনের বিধান সংশোধন করতে হবে।
ক্স ১৮ বছর এর আগে বিয়ে নয় এ বিষয়ে সরকারকে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
ক্স যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সকলকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ক্স নারী ও কন্যার প্রতি নির্যাতন বন্ধে যে আইনগুলো রয়েছে সেই আইনগুলো সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
ক্স পারিবারিক সুরক্ষামূলক আইনগুলোসহ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বিরোধী ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে।
ক্স নারী ও কন্যার প্রতি সকল প্রকার সহিংসতারোধে তরুণ-যুবসমাজকে সচেতনকরণ সাপেক্ষে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুক্ত করতে হবে।
ক্স আন্তর্জাতিক সিডও সনদের অনুচ্ছেদ-২ ও ১৬(১)(গ) এর উপর হতে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
ক্স বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও সম্পদ-সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমঅধিকার দিতে হবে। অভিন্ন পারিবারিক আইন চালু করতে হবে।
ক্স মামলার সাক্ষীদের নিরাপত্তার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ক্স ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং ওসিসির কার্যক্রম দেশব্যাপি প্রচার ও বিস্তৃত করতে হবে।
ক্স নারী ও কন্যার প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের লক্ষ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে নারী-পুরুষের সমতার ধারণা, নারীর মানবাধিকার ইস্যুসমূহ সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ক্স মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পৃথক পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় করতে হবে।
ক্স প্রজাতন্ত্রের সেবা প্রদানের সকল স্তরে পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
ক্স ১৯৭২ সালের সংবিধানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
ক্স মাদকের শিকার ব্যক্তি নয়, মাদকের ব্যবসা যারা করে এবং যাদের মাধ্যমে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে।
ক্স আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মানবাধিকার লংঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা এবং শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
ক্স স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণ হ্রাস করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ ও পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এই লক্ষ্যে লোকাল গভঃ এ্যাক্ট এর প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।
ক্স জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল জনগণের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ও রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
ক্স দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরও সুনিশ্চিত করতে হবে।
ক্স প্রশাসনকে দল নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
ক্স কোন ধরণের অপরাধীকেই রাজনৈতিক আশ্রয়- প্রশ্রয় দেওয়া চলবেনা।
ক্স জবাবদিহিতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিশ্চিত করতে হবে।
ক্স গণতন্ত্রকে স্থায়ী ও ধারাবাহিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য গণতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
ক্স ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষ, সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, পরিবার সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নারী নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক আশ্রয়- প্রশ্রয়, প্রশাসনিক আশ্রয়- প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করতে হবে।
ক্স সংঘটিত মানবাধিকার লংঘনের ঘটনাসমূহের বিচার নিশ্চিত করা সহ দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ক্স যে সকল সীমানা দিয়ে অবাধে মাদক দ্রব্য আসছে সেসব জায়গায় তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

LEAVE A REPLY