ধ্বংসের ১৬ তম বার্ষিকী : পেতে-রাখা বোমায় ধ্বংস হয়ে টুইন টাওয়ার্স; জড়িত এফবিআই ও ইসরাইলের মোসাদ’

0
32

দেশ জনতা ডেস্ক:
আজ ১১ সেপ্টেম্বরের ঘটনার ১৬ তম বার্ষিকী। ১৬ বছর আগে এই দিনে আমেরিকার নিউ-ইয়র্কে বিশ্ব-বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন-টাওয়ার্স ভবন কথিত ছিনতাই-করা দুই বিমানের আঘাতে ধ্বংস হয় এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনেও হামলা চালাতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয় এ ধরনের আরেকটি বিমান।
মার্কিন সরকার এই হামলার জন্য আলকায়দা ও তার নেতা ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই ঘটনার পর ক্রুসেডের ডাক দিয়ে পরে ব্যাপক নিন্দাবাদের মুখে তার এই আহ্বান ফিরিয়ে নেন।

এই ঘটনার অজুহাতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধর্মান্ধ খ্রিস্টানদের ঐতিহাসিক ক্রুসেডের পরোক্ষ পুনরাবৃত্তি জোরদার করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন। বিশেষ করে মার্কিন সরকার এ ঘটনার কিছু দিন পরই সন্ত্রাসী দল আলকায়দা ও সহযোগী তালেবান গোষ্ঠীকে দমনের নামে আফগানিস্তানে ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়ে সেখানে দখলদারিত্ব কায়েম করে এবং কিছুকাল পর ২০০৩ সালে ইরাকেও একই কাজ করে।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন ১১ সেপ্টেম্বরের ওই হামলা ছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদেরই কাজ। আর এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে পাইলটবিহীন দুই বিমান। ওই বিমানগুলো ছিনতাই করা হয়েছিল বোস্টন বিমানবন্দর থেকে। দৃশ্যত দু’টি বিমান টুইন টাওয়ার্সে আঘাত হেনেছে বলে ভিডিওতে দেখানো হলেও বাস্তবে ওই দুই ভবনে আগে থেকেই বিস্ফোরক পেতে রাখা হয়েছিল এবং ওইসব বিস্ফোরকের বিস্ফোরণেই ভবন দু’টি ধ্বংস হয়ে যায় বলে বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের অনেকেই মত প্রকাশ করে আসছেন।

১১০ তলা উঁচু টুইন টাওয়ার্স ধসে পড়ায় নিহত হয়েছিল প্রায় তিন হাজার মার্কিন নাগরিক এবং তাতে কোনও ইহুদি মারা যায়নি যদিও সেখানে চাকরি করত শত শত ইহুদি। বলা হয় মার্কিন ইহুদিরা নিয়মিত সেখানে যাওয়া-আসা করলেও সেদিন তাদের কেউই সেখানে যায়নি এবং তারা আগ থেকেই সম্ভাব্য হামলার খবর পেয়ে থাকবেন।
মার্কিন ইতিহাস বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা জানেন নিজেরাই গোপনে নিজ দেশে বা মার্কিন স্বার্থের ওপর নানা হামলা চালিয়ে অন্যের ওপর তার দায় চাপিয়ে দেয়ার কাজে ব্রিটিশ ও মার্কিনরা বেশ দক্ষ। এ বিষয়ে সুদীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে মার্কিন শাসক ও শোষকদের।

সুদূর অতীতে ফিলিপাইন ও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর জন্য এ ধরনের কূট-কৌশল প্রয়োগ করেছিল মার্কিন সরকার। কিউবার ওপর হামলা চালানোর অজুহাত দেখাতে গত শতকের ষাটের দশকে একটি মার্কিন বিমান ধ্বংসের পরিকল্পনা নিয়েছিল মার্কিন সরকার ও গোয়েন্দা বিভাগ। কিন্তু বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এবং পাল্টা সোভিয়েত হামলার-আতঙ্কের কারণে ওই ষড়যন্ত্র বাতিল হয়ে যায়।
খ্রিস্টিয় ১৭৭৩ সালে আমেরিকার নিউ-ইংল্যান্ডার গোষ্ঠী রেড ইন্ডিয়ানদের বেশ ধরে একটি জাহাজে ভারতীয় চায়ের বাক্স চড়িয়ে সেগুলো আটলান্টিক মহাসাগরে ফেলে দেয়। প্রথমে সন্দেহ করা হয় যে এটা ছিল মজলুম রেড-ইন্ডিয়ানদের কাজ। পরে ব্রিটিশরা বুঝতে পারে যে এটা ছিল বিদ্রোহী মার্কিন উপনিবেশবাদীদেরই কাজ।

তাই টুইন টাওয়ার ধ্বংসের কাজে আরব বা অন্য কোনো বাইরের শক্তি জড়িত থাকার দাবিকে অনেকেই বানোয়াট বলে মনে করেন। নয়-এগারোর ঘটনার বৈজ্ঞানিক তদন্ত টিমের সদস্য কেভিন ব্যারেটের মতে আফগানিস্তানের গুহায় থাকা লাদেনের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছিল বলে মার্কিন সরকার যে দাবি করে থাকে তা হাস্যকর ও শত শত কারণে অপ্রমাণিত।
আফগানিস্তান সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নীতি-নির্ধারণী এক বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ব্যারেট সম্প্রতি বলেছেন, নয়-এগারোর ঘটনা ছিল ইহুদিবাদীদের একটি অভ্যুত্থান যা ঘটানো হয় ইসরাইলি ও মার্কিন নিওকন তথা নিওকনজারভেটিবদের (নব্য-রক্ষণশীল) সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। আর এতে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর উগ্র ডানপন্থী ও গোয়েন্দা বিভাগও জড়িত ছিল।

গত বছর নয়-এগারোর ঘটনার ১৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইএসআই বা ইউরোপিয়ান সায়েন্টিফিক ইন্সটিটিউটের প্রকাশনা ‘ইউরোপিয়ান সায়েন্টিফিক জার্নাল’ লিখেছিল: অব্যাহত নানা অনুসন্ধানের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে মার্কিন বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ার্স ধ্বংস করা হয়েছিল নিয়ন্ত্রিত ধ্বংস-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন গিরিগিটির মত রং পাল্টালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় বলেছিলেন যে নয় এগারোর ঘটনাকে তিনি সন্দেহজনক বা রহস্যময় বলেই মনে করেন। ২০১৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে তিনি বলেছিলেন: There is no way that a plane could possibly take down these buildings. অর্থাৎ ‘এটা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই যে একটি বিমান এই ভবনগুলোকে কুপোকাত বা ধ্বংস করতে পারে।’

ট্রাম্প গত বছর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাবলিও বুশের ভাই জেব বুশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছিলেন যে, জেব বুশ নয়-এগারোর ঘটনার সম্ভাব্য অপরাধী বা এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি। ট্রাম্প জেব বুশের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার সুযোগ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের লজ্জাজনক ডিগবাজি বা ভোল পাল্টানো দেখে বোঝা যায় যে তিনি গোপন চক্রের মাধ্যমে বিশেষ করে ইহুদিবাদীদের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন।

নয়-এগারোর ঘটনাকে বিকৃতভাবে প্রচার করা এবং এ অজুহাতে মুসলিম বিশ্বের ওপর যুদ্ধ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চাপিয়ে দেয়ার বিষয়টি মার্কিন ইতিহাস ও জাতির বিবেকে অমোচনীয় কলঙ্ক হয়ে বিরাজ করবে চিরকাল।

LEAVE A REPLY