না’গঞ্জের নিহত ওমর ফারুকের লাশ আনতে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন স্ত্রী নিহা

আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নিউজিল্যান্ডে শেতাঙ্গ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত নারায়ণগঞ্জ সিটির বন্দরের প্রবাসী ওমর ফারুকের লাশ আনতে নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন তার স্ত্রী সানজিদা জামান নিহা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চলে আসলেই নিউজিল্যান্ড রওয়ানা হবেন তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই লাশ আনার জন্য নিউজিল্যান্ড যাবেন ফারুকের স্ত্রী।

বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে ওমর ফারুক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি তিনি। ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে জীবিকার তাগিদে ২০১৫ সালে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর নিউজিল্যান্ডে। ভাগ্যক্রমে নিউজিল্যান্ডের সিটিজেনশীপও পেয়েছিলেন। সেখানে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজ করতেন ওমর ফারুক। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সবকিছু গুছিয়ে দেশে ফিরে বিয়ে করেন একই এলাকার সানজিদা জামান নিহাকে। বিয়ের কিছুদিন পরই ফিরে যান তিন।

গত ১৬ নভেম্বর ছুটি নিয়ে আবারো দেশে আসেন। কিছুদিন বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে ১৮ জানুয়ারি নিউজিল্যান্ড ফিরে যান তিনি। তার স্ত্রী সানজিদা জামান নিহার বর্তমানে ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সুদূর নিউজির‌্যান্ডে গেলেও তার মন পরে থাকতো তার নিজ বাড়ি বন্দরের রাজবাড়িতে।

দিন শেষে বাবা-মা, বোন ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই কাটতো তার সময়। প্রতিদিন স্ত্রীকে তার নিজের ও তাদের অনাগত শিশুর যতœ নেয়ার জন্য কত কিছুই না বলতেন। অনাগত সন্তানকে নিয়ে দুজন মিলে বুনেছিলেন হাজারো স্বপ্ন। নিজের সন্তানের আগমনকে ঘিরে ছিলো কতনা কল্পনা।

প্রতিদিনের মতো নিউজিল্যান্ড সময় শুক্রবার সকাল ৮টার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন ওমর ফারুক। স্ত্রীকে বলেছিলেন, সাবধানে চলাফেরা করতে, নিজের ও সন্তানের যতœ নিতে। কথা দিয়েছিলেন একসঙ্গে মুখ দেখবেন তাদের অনাগত নবজাতকের।
কিন্তু অনাগত সেই সন্তানের মুখ আর দেখা হলোনা তার। এর আগেই লাশ হতে হলো তাকে। গত শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরের আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গেলে এক শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসীর নৃশংস হামলায় নিহত হন তিনি।
শুক্রবার সকালে কথা শেষে শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে দুই বাংলাদেশির লাশ শনাক্ত হওয়ার খবর জানতে পেরে স্বজনরা যোগাযোগ করেন নিউজিল্যান্ডে। সেখান থেকেই তারা ওমর ফারুকের নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
ওমর ফারুকের মৃত্যুর সংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও এলাকাবাসীদের মাঝে। আগামী জীবন ও জন্মের আগেই পিতার ছায়া থেকে বি ত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দিশেহারা স্ত্রী সানজিদা জামান নিহার।
ফারুককে হারিয়ে স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা অকূল পাথারে পড়েছেন। ওমর ফারুকের লাশ দ্রুত ফিরিয়ে আনাসহ ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন পরিবারের স্বজনরা। তাদের দাবি, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে সংসার চালানোর মতো আর কেউ রইলো না।