না’গঞ্জের সাংবাদিকদের নিয়ে এসপি হারুনের আক্ষেপ

আপডেট: ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : ‘চাঁদাবাজি’ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একটি কমন অভিযোগ। নানা কারণেই একজন সাংবাদিক বা সাংবাদিক সংগঠনের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ উঠে। কখনও সত্যিকার অর্থে আবার কখন সাংবাদিকের কলম থামাতে এ ধরণের অভিযোগ তোলা হয়।
তবে এবার নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন জেলার সদ্য বিদায়ী বিতর্কিত পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ। তার অভিযোগ তিনি নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের জন্য কিনা করেছেন?। এই নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকরা কক্সবাজারে যাবে-তার সব ব্যবস্থা তিনি করে দিয়েছিলেন। এ ঘটনাটি এতদিন চাপা থাকলেও গত ২৪ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই এ বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন একটি স্বনামধণ্য ইংরেজি দৈনিকের একজন প্রতিবেদক।
এসপি হারুনের নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের নিয়ে এই আক্ষেপের কথা ইংরেজি দৈনিকটির সেই প্রতিবেদক তার ফেজবুক পেজে তুলে ধরেছেন। তার সেই স্ট্যাটাস ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এখন নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকদের মুখে মুখেও এসপি হারুনের সেই আক্ষেপ ঘুরে ফিরে আসছে। প্রশ্নও উঠেছে কারা সেই সাংবাদিক যাদের তিনি কক্সবাজার পাঠাতে সব ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। অথচ এসপি সাহেবের বিপদের দিনে তার পাশে দাঁড়াননি।
পাঠকদের জন্য ইংরেজি দৈনিকের সেই সাংবাদিকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস হুবুহু তুলে ধরা হলো।
ওই সাংবাদিক গত ২৪ ডিসেম্বর তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন- ‘ মজার কথা লিখতে ভুলে গেছিলাম! গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ কাঁপানো, জনপ্রিয় এসপি হারুন ভাইয়ের সাথে দেখা। তিনি আমাকে ধন্যবাদ দিলেন। বলেন, “আমি জানি আপনি বা আপনার পত্রিকা আমার বিরুদ্ধে কিছু লেখেননি! ” আমি তো অবাক। ভাই নিউ এইজও পড়েন! জানি পড়েন নাই (নিউ এইজে এসপি হারুেেনর বিরুদ্ধে সংবাদ ছাপা হয়েছে)। আমার সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেননা। যাইহোক এবার শুরু হলো তার দুঃখের গল্প। বল্লেন, আমি সাংবাদিকদের জন্যে কি না করেছি। এই নারায়ণগঞ্জের সাংবাদিকরা কক্সবাজারে যাবে সব ব্যবস্থা আমি করেছি। আজ কেউ পাশে দাঁড়ালো না। আমি বল্লাম, সাংবাদিকরা বড্ড খারাপ। তবে আপনি সাংবাদিক পালছেন, তাই বিপদে কেউ নাই। সকল মতাদর্শের সাংবাদিকদের সাথে পেশাদার সম্পর্ক থাকলে আপনি এতো উপরে উঠতেন না।
ইংরেজি দৈনিকের সেই প্রতিবেদকের লেখার সূত্র ধরে শুরু হলো এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধান, কোন সাংবাদিকদের ও কোন সাংবাদিক সংগঠনকে তিনি কক্সবাজার যাবার ব্যবস্থা করেছেন?। খোঁজ নিয়ে জানা, গেলো চলতি বছর নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব থেকে কক্সবাজার কিংবা কোথাও ফ্যামেলীডে অনুষ্ঠিত হয়নি। অর্থাৎ বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব সংশ্লিষ্ট নয়। এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাহলে অন্য কোন সংগঠনকেই এসপি হারুন কক্সবাজারে যাবার সব ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তার দাবি অনুযায়ী।
এসপি হারুন তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। তিনি টাকার জন্য পারতেন না এমন কোন কাজ নেই। একই সঙ্গে তিনি বিকৃত রুচির মানুষও ছিলেন। এসপি হারুনের টার্গেট ছিল টাকা কামানো। তিনি সেটি করেছেন এবং তার করতে গিয়েই ১১ মাসের মাথায় তাকে নারায়ণগঞ্জ ছাড়তে হয়েছে কলঙ্কের তীলক মাথায় নিয়ে। তার মতো একজন মানুষিক রোগির কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে সাংবাকিদের ওই সংগঠনটি কোন ভাবেই সুবুদ্ধির পরিচয় দেয়নি। কারণ এসপি হারুন মানুষকে জিম্মি করে টাকা কামাতেন। তার মানসিক রোগের আরেকটি উদাহরণ হলো, সোনারগাঁওয়ে খেলার মাঠে রেফারীকে মারধর। হারুন চলে যাওয়ার পর সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মজার বিষয় হচ্ছে যেসব গুণধর সাংবাদিক ভাইয়েরা এই ভিডিও হারুন নারায়ণগঞ্জে থাকাকালীন গোপন রেখেছিলেন, তারাই হারুন চলে যাওয়ার পর সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল করেছেন। আবার এরাই হারুনের টাকায় কক্সবাজার গেছেন। কথিত রয়েছে, রেফারিকে খেলার মাঠে মারধরের ভিডিও প্রকাশ না করতে এসপি হারুন ওই সময়ও দেড় লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি সাংবাদিক সংগঠনের প্রশ্ন, এসপি হারুনের কাছ থেকে ডেনোশন নিয়ে ওই সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা যে কক্সবাজারে গেছেন সেজন্য কী সংগঠনের সব সদস্য দায়ি? না তা নয়। কারণ যারা সংগঠন পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন তারাই নির্ধারণ করেন কাদের কাছ থেকে ডেনোশন নেবেন?। তবে ডেনোশন দাতা সতর্কতার সঙ্গেই বাছাই করা প্রয়োজন, যাতে পরবর্তীতে কোন কথা না উঠে।
সাংবাদিকদের একটি পক্ষকে কক্সবাজারে পাঠিয়ে এসপি হারুন তাদের কলমকে থামাতে চেয়েছিলেন। যারা এসপি হারুনের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে এ ধরণের কাজ করেছেন তারা নিঃসন্দেহে ধিক্কারের পাত্র। তবে পাশাপাশি এমন সাংবাদিকও এ জেলায় রয়েছে যারা কখনও অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। যারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার সাহস রাখেন। কিন্তু এসপি হারুনের কালো টাকায় কক্সবাজারে যাওয়া সাংবাদিকরা হয়তো ভুলে গেছিলেন যে তাদের জেলাতেই শতভাগ পেশাদার এবং আপোষহীন সাংবাদিকদেরও বসবাস।
সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ : ‘ যে ব্যক্তি সহযোগিতা করে খোটা দেয় তার কাছ থেকে সহযোগিতা না নেওয়াই শ্রেয়।’

LEAVE A REPLY