না’গঞ্জের সাইনবোর্ডে আ’লীগ নেতা ও ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন বাহিনীর প্রতিদিন দেড় লাখ টাকা চাঁদাবাজি

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় লিংক রোড সংলগ্ন খাল ভরাট করে বাসস্ট্যান্ড বসিয়ে আ’লীগ নেতা ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন বাহিনী প্রতিদিন দেড় লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করছে বলে বাস চালকরা অভিযোগ করেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাবু নামের এক চালককে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় নাজিমউদ্দিনের ভাই শরীফসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চালক বাবু। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শরীফসহ ৩ জনকে আটক করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ।
লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড এলাকায় লিংক রোড সংলগ্ন খাল ভরাট করে বাসস্ট্যান্ড বসিয়ে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিন। ওই স্থান থেকে অনাবিল পরিবহনসহ বিভিন্ন গণপরিবহনের বাস থেকে প্রতিদিন দেড় লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছে ভাইস চেয়ারম্যান নাজিমউদ্দিনের বাহিনীর। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী বিকেলে বাসচালক বাবু তার বাসের সিরিয়াল নেয়ার সময় চাঁদাবাজ বাহিনী ১ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। বাবু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোঃ শরীফ, রাজ্জাক মোল্লা, রাসেল সাউদ, মোঃ এরশাদ, আবুল খায়ের, ভাগিনা মিজান সহ আরো কয়েকজন মিলে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। পরে আহত বাবুকে শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের জানান, সাইনবোর্ডে চাঁদার দাবিতে চালক বাবুকে মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোঃ শরীফসহ ৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
না’গঞ্জের এসপি হারুনের
হাতে জুয়ার গডফাদারের
ফুলের তোড়া!
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : অবশেষে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এলেন নারায়ণগঞ্জ শহরের জুয়া চক্রের গডফাদার নামে খ্যাত শামীম ওরফে পিজা শামীম। যার আস্তানা থেকে বিগত দিনে কয়েক দফা পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছিল জুয়ারীরা। সম্প্রতি যখন আলোচিত ও সমালোচিত জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জুয়া নিয়ে কঠোরতা অবলম্বন ও শহরের কয়েকটি স্পটে হানা দিয়ে ৪১ জুয়ারীকে গ্রেফতার করেছিল তখনই নন্দিত পুলিশ সুপারের দফতরে ছুটে গেলেন শামীম। এসপিকে তিনি ফুলের তোড়া দিয়েছেন আবার সেই ছবি ফলাও করে প্রচারও করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবি এখন ভাইরাল।
শহরবাসি জানয়েছে, শহরের আমান ভবনে অবস্থিত পিজা শামীমের কোয়াব অফিস বিগত দিনে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। মূলত ওই অফিসের ব্যানারেই সেখানে বছরের পর বছর চলে আসছে জুয়ার আসর। পিজা শামীম কখনও নিজেকে প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান লোক আবার তার বড় ভাই এমপি সেলিম ওসমানের বন্ধু পরিচয় দিয়ে থাকেন। গত বছরের ১০মার্চ পিজা শামীমের জুয়া স্পটে হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় জুয়াড়িরা পালিয়ে গেলেও তাদের ফেলে যাওয়া তাস জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই স্পটটি নিয়ন্ত্রন করে শামীম ওরফে পিজা শামীম। জেলার সাবেক এনডিসি জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র উক্ত অভিযান পরিচালনা করেন। তিনি তখন জানান, এখানে অভিযান চালিয়েছি এবং সতর্ক করেছি। অনেকগুলো তাসকার্ড পাওয়া গেছে এবং এখানে জুয়া খেলা হয় বলে আমাদের কাছে সংবাদ ছিল। পরবর্তী এ ধরনের কোন কিছু পাওয়া গেলে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগের বছর ৯ অক্টোবর একই স্থানে অভিযান চালিয়ে ২১ জুয়ারীকে গ্রেফতার করেছিল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
অপরদিকে পিজা শামীমের মত জুয়ার গডফাদার কি করে এসপিকে ফুল দিলেন এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-২) সাজ্জাদ রুমন বলেন, এসপি মহোদয়কে প্রতিদিন অনেকেই শুভেচ্ছা জানাতে আসেন। সবার ব্যাপারে খোঁজ নেয়া সম্ভব হয় না। তবে এ বিষয়টি খোঁজ নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY