না’গঞ্জে স্কুলের সভাপতি হতে চান আ’লীগ নেতার ভাই : প্রধান শিক্ষককে মারধর

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : স্কুল কমিটির সভাপতি হওয়ার খায়েশে ওই স্কুলেরই প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক মারধরের পরে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে একাধিক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার দাপা আদর্শ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষককে আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ ধরে নির্যাতন ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করেছেন নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষক।
জানা গেছে, ফতুল্লার দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ২০১৭ সালের ২৭ মে থেকে কর্মরত রয়েছেন মোঃ আহসান হাবিব। তিনি এর আগে ঢাকার নয়াবাজার হাম্মাদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। স্কুলটিতে বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন গোলাম মোস্তফা।
নির্যাতনের শিকার প্রধান শিক্ষক মোঃ আহসান হাবিব জানান, স্কুলটিতে সভাপতি হতে চান জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সানাউল্লার ছোট ভাই কৃষি ব্যাংক মতিঝিল শাখায় কর্মরত সিরাজুল ইসলাম। সোমবার ৪ ফেব্রুয়ারী বেলা ৩টার দিকে সিরাজুল ইসলাম তাকে (প্রধান শিক্ষককে) মুঠোফোনে কল করে তার মতিঝিলস্থ কৃষি ব্যাংকে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যায়। এসময় সিরাজুল ইসলাম তাকে (প্রধান শিক্ষককে) সভাপতি বানানোর জন্য চাপ দেয়। সিরাজুল ইসলাম তাকে বলে এমপি শামীম ওসমান ৯ ফেব্রুয়ারী ওমরা শেষে দেশে ফিরবেন। এর আগেই তাকে সভাপতি বানাতে হবে। কিন্তু তিনি এতে রাজী না হওয়ায় সেখানেই তাকে মারধর করে। এসময় তাকে নানা ধরনের হুমকী ও ভয়ভীতি দেখায়। পরে তাকে গাড়িতে করে ফতুল্লায় স্কুলটিরই দপ্তরী ফখরুলের বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দিয়ে সিরাজুল ইসলাম, স্কুলটির শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তরী ফখরুলের ছেলে আব্বাস উদ্দিন, কালাম তাকে বেধড়ক মারধর করে। এসময় তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে একাধিক কাগজে স্বাক্ষর নেয় যার মধ্যে সাদা কাগজও ছিল। তিনি প্রাণভয়ে ওই সকল কাগজে সাক্ষর দিতে বাধ্য হন। পরে তাকে রাতেই ফতুল্লা থেকে তার গেন্ডারিয়াস্থ বাসায় চলে যেতে হুমকী দেয়। অন্যথায় তাকে হত্যা করার পাশাপাশি তাকে বিতর্কিত করা হবে বলেও হুমকী দেয় সিরাজুল ইসলামসহ অন্যরা।
পরে তাদের থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহআলম, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবুল কাশেমের শরনাপন্ন হলে তারা তাকে উদ্ধার করে ফতুল্লা মডেল থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরো জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারীও দপ্তরী ফখরুলের বাড়িতে ডেকে নিয়ে সিরাজুল ইসলাম তার গায়ে হাত তুলেছিল। কিন্তু তিনি লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবুল কাশেম জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন নির্যাতনের শিকার শিক্ষক।
স্থানীয় কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু বলেন, থানায় একটি অনুষ্ঠানে এসে ঘটনাটি আমি শুনেছি। বিষয়টি দু:খজনক। শিক্ষক যদি কোন অন্যায় করেও থাকতেন তার গায়ে হাত তোলার অধিকার কারো নেই। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিৎ।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের বলেন, আমরা এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।