না’গঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার প্রভাব : বাড়ি ছাড়া এক মায়ের আর্তনাদ

আপডেট: এপ্রিল ২৫, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সিটির বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকার ফরিদা বেগমের স্বামী ১৩ বছর পূর্বে মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর চার ছেলে ও দুই মেয়েকে নিতে স্বামীর দোতলা বাড়িতেই বসবাস করছিলেন তিনি। কিন্তু গত দুই বছর পূর্বে তৃতীয় ছেলে তানভীর আহমেদ সোহেল প্রতারণার মাধ্যমে মা ও অন্যান্য ভাই-বোনদের বঞ্চিত করে বাবার পুরো সম্পত্তি লিখিয়ে নেন নিজের নামে। সোহেলকে সহযোগিতা করেন মেঝো ছেলে সাব্বির আহমেদ হিমেলের সাবেক স্ত্রী কেন্দ্রীয় যুব মহিলালীগ নেত্রী শারমিন আমির। নেপথ্যে কাজ করছেন উক্ত এলাকার নাসিক ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল।
সকলে মিলে বৃদ্ধা ফরিদা বেগমকে বাড়িছাড়া করার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, তার মেয়ে মুন ইসলাম শাকিল, মেঝো ছেলে সাব্বির আহমেদ হিমেলের স্ত্রী রুমা।
এ সময় বৃদ্ধা ফরিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে তাকে এবং বঞ্চিত ভাই-বোনদের। র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে পুতুল ও বোনের মেয়ে টিউলিপের সাথে সখ্যতা আছে বলে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে যুব মহিলা লীগের নেত্রী শারমিন আমির। পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলেও কোন সহায়তা করেননি এবং মামলাও গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ ফরিদা বেগমের।
সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে ফরিদা বেগমের মেয়ে জানান, প্রতারণা করে ভাই সোহেল আহমেদ তাদের সম্পত্তি লিখে নিয়ে মা ও তাদের সকলকে বাড়িছাড়া করার পায়তারা করছেন। বাড়িতে ঢুকতে চাইলে মায়ের হাত-পা কেটে দেবেন বলে শাসান সোহেলের স্ত্রী সায়মা আহমেদ। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের লোকজন ও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদের সাথে সখ্যতা আছে বলে হুমকি প্রদান করে হিমেলের সাবেক স্ত্রী শারমিন আমির। বর্তমানে বাড়ির নিচতলায় মেঝো ভাইয়ের সাথে থাকছেন তার মা। সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে নানাভাবে অত্যাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে তানভীর আহমেদ সোহেল বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমার মা ও ভাই নিচ তলায় থাকেন। ৭ শতাংশ বাড়ির সাড়ে ৪ শতাংশ আমার নামে আর বাকিটা জাপান প্রবাসী আমার বড় ভাইয়ের নামে। বড় ভাই আমাকে দেখাশোনা করতে বলেছে। আমি চাইলে তো সবাইরে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারি কিন্তু আমি তো সেটা করি নাই। এ বিষয়ে তদন্তে পুলিশ এসে সব দেখে গেছে। তারা যেসব অভিযোগ করেছে তা আগামীকালের মধ্যে সব প্রমানসহ টের পাইয়ে দেবো।
এ বিষয়ে নাসিক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলালের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনের নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে সোহেলের মা মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছিল। আমি তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। মা ওই বাড়িতে থাকবে এবং তাকে কোন রকমের হুমকি বা অত্যাচার যেন না করা হয় সে বিষয়েও সোহেলকে বলে দিয়ে আসছি। তবে এরপর তারা আর আমার সাথে যোগাযোগ করেনি। মায়ের উপরে কোন কিছু নাই। তিনি যদি অত্যাচারের শিকার হন তাহলে আমাকে অভিযোগ দিতে বলেন, আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

LEAVE A REPLY