নানা প্রতিকূলতায় সংকটের মুখে দেশের সর্ববৃহৎ স্বরূপকাঠির ভাসমান কাঠ বাজার

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৯
0

রাহাদ সুমন,বিশেষ প্রতিনিধি:
এক সময়ে সুন্দরীকাঠের বিশাল বাজার হিসাবে পরিচিত পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) এখন দেশীয় গ্রামীণ কাঠের সর্ববৃহৎ ভাসমান বাজার। বিক্রির জন্য গোল কাঠ নিয়ে পিরোজপুর জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার কাঠুরেরা আসেন এই বাজারে আর সেই কাঠ স্থাণীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে নৌ-যোগে চলে যায় রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ভাসমান এ কাঠ বাজারে প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার কাঠ বিকিকিনি হয় বলে জানা গেছে।
সীতলা খালে জেগে ওঠা চরের কাঠের ভাসমান বাজারের শ্রমিক সমিতির সভাপতি মিন্টু বলেন, ৯০’র দশকে বন্ধ হয়ে যায় বাগেরহাটে সুন্দরী কাঠের সরকারীভাবে টেন্ডার দেওয়া। ফলে থমকে পড়ে দেশ সুন্দরীকাঠ ব্যবসার স্বরূপকাঠির এই বিশাল বাজারটি। কালের বিবর্তনে দেশীয় কাঠের ব্যবসা শুরু করে এখানকার ব্যবসায়ীরা। যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় দেশের সর্ববৃহৎ ভাসমান কাঠের বাজারে।
কাঠ ব্যবসায়ী ওমর আলী জানায়,স্বরূপকাঠীতে প্রায় বিষ হাজারেরও বেশি মানুষ এ ব্যবসার সাথে ওতোপ্রতো ভাবে জড়িত। উপজেলার সীতলা খাল, কালিবাড়ি খাল ও পঞ্চায়েতবাড়ি খালসহ এমন কোন খাল পাওয়া যাবে না যেখানে কাঠ ব্যবসা নেই। এমনকি অবৈধ ভাবে কাঠ ব্যবসায়ীদের দখলে রয়েছে বিসিকের একমাত্র খালটিও। সীতলা খালের চরে গড়ে ওঠা ভাসমান বাজারটিই স্বরূপকাঠির সব থেকে বড় কাঠ ব্যবসা কেন্দ্র। এ ব্যবসার মাধ্যমে এখানেই ব্যবসায়ী ও শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় দশ হাজারের বেশি মান্ষু জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।
ব্যবসায়ী হারুন মিয়ার অভিযোগ, সড়ক পথে এখানকার কাঠ পরিবহনে ট্রাক লোড পয়েন্টের ব্যবস্থা না থাকায় নৌ-যোগেই কাঠ পরিবহনে বাধ্য ব্যবসায়ীরা কিন্তু নৌপথে পুলিশসহ বিভিন্ন লোকদের চাঁদাবাজী ও পরিবহনে প্রতি সিএফটি কাঠে ৪০ টাকা খরচ দিয়েও কাঠ পৌঁছে দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
স্বরূপকাঠী বন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দেশীয় কাঠের ভাসমান বাজার স্বরূপকাঠির এই কাঠ বাজারটি। অবৈধ চোরাই কাঠ বিক্রির অভিযোগ থাকলেও গোলপাতার নৌকার আড়ালে সুন্দরীসহ বিভিন্ন প্রজাতীর প্রায় দেড় হাজার ঘন ফুট গাছ গত ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল তৎকালিন দায়িত্বে থাকা কোস্টগার্ডের পিও এম এ মান্নান ও স্বরুপকাঠি বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের যৌথ অভিযানে জব্দের পর থেকে এ উপজেলায় চোরাই কাঠের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়।
স্বরূপকাঠিতে একটি ট্রাক লোড পয়েন্ট নির্মাণ করা হলে বাড়বে ব্যবসার প্রসার, কমবে কাঠের মূল্য ও পরিবহন খরচ, বাঁচবে সময়। তাই সরকারের কাছে একটি ট্রাক লোড পয়েন্টের দাবী স্বরূপকাঠির কাঠ ব্যবসায়ীদের।

LEAVE A REPLY