নামাজ শেষেই বের করে দেয়া হয় মুসল্লীদের

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৯
0

রফিকুল ইসলাম ফরহাদ
২০১০ সালের গুয়াংজু এশিয়ান গেমসের সময় ছিলাম চীনে। ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ করতে হয়েছিল সেখানেই। তবে আমাদের আবাসস্থল শিয়াওবের ড্যাং প্যাং হোটেলের খুব কাছেই যে মসজিদ ছিল তা গুয়াংজু পৌঁছার দুই দিনের মাথায় খুঁজে উঠতে পারিনি। একে তো চীনা বা ইংরেজিতে কাঁচা এবং কাজ নিয়ে আমাদের ভীষণ ব্যস্ততায়। ফলে মসজিদের খোঁজ পায়নি, পড়া হয়নি ঈদের নামাজও।

পরে শিনজিয়ানের (জিনজিয়ান) এক মুসলমান তথ্য দিলেন আমাদের হোটেল থেকে মাত্র দুই মেট্রো স্টেশন দূরেই মহানবী (সা.) এর মামা সাদ বিন আবি ওয়াক্কাসের কবর। সেই কবরের পাশেই তার সাথে আসা আরো ৩৯ সাহাবির কবর। সেখানেই একটি বড় মসজিদ। অবশ্য যেসব বাংলাদেশী সাংবাদিক আমাদের আগে পৌঁছেছিলেন তারা প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহায়তায় মসজিদ খুঁজে বের করেন। ওই সব মিডিয়া কর্মী থাকতেন আমাদের থেকে দূরে। তাই কয়েক মাস আগে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল কভার করতে গিয়ে আগেই পণ করেছিলাম কোনোভাবেই ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদের নামাজ মিস করা যাবে না।

প্রবাসী বাংলাদেশীদের তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজ পেয়ে গেলাম মসজিদের। রাশিয়ার মাটিতে ঠিকমতো ঈদ উদযাপনের জন্য আমি সেন্ট পিটার্সবার্গ যায়নি মরক্কো ও ইরান ম্যাচ কভার করতে। তখন অবশ্য বাংলাদেশে পত্রিকা বন্ধ ঈদের ছুটির জন্য।

একসময় রাশিয়ায় প্রচুর মসজিদ ছিল, তা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোয়। পরে কমিউনিস্ট আমলে এবং হাল আমলে অনেক মসজিদ ধ্বংস বা বন্ধ করে দেয়া হয়। নাস্তিক কমিউনিস্টরা সহ্যই করতে পারত না ইবাদত গৃহ। আর এখন পুতিন সরকার মনে করে মসজিদ হলেই সেখানে ইসলামিক স্টেট বা উগ্র কোনো গোষ্ঠীর মিলনমেলা হবে। তাই মসজিদগুলো বন্ধ করে ব্যবহৃত হচ্ছে অন্য কাজে।

একদিন রাশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশীদের আয়োজিত ইফতার পার্টিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। অনুমতি ছাড়াই ছিল এই ইফতার পার্টি। আবার চাইলেও প্রশাসন দেবে না অনুমতি। তাই সবাইকে দলবদ্ধ না হয়ে বরং দু-একজন করে আসতে হয় ভেদেন খা-তে অবস্থিত বাংলাদেশীদের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে। যাওয়ার সময়ও একই কায়দায়। নেতৃস্থানীয় বাংলাদেশীরা বারবার সতর্ক করছিলেন, পুলিশ হানা দিতে পারে। পরামর্শ দেয়া হচ্ছিল, দল বেঁধে বের না হয়ে যেন এক-দু’জন করে ইফতারের পর চলে যায়।

ওই ঘটনার পরই আমি বুঝে গেছি কী অবস্থায় আছেন রাশিয়ার মুসলমানেরা। এর পরও ঈদের নামাজ পড়তে মসজিদের অবস্থান জেনে নিলাম বাংলাদেশীদের কাছ থেকে। আমি যে ভেদেন খা-তে থাকতাম এর প্রায় ‘কাছেই’ মসজিদ। এই ‘কাছের’ দূরত্বে বাস, মেট্রো আর হাঁটা পথ মিলে এক ঘণ্টা লাগে মসজিদে যেতে। বাংলাদেশীরা জানিয়েছিলেন, সকাল ৭টায় শুরু হবে নামাজ।
মসজিদের অবস্থান প্রসপ্রেক্ট মিরাতে। ভেদেন খা মেট্রো স্টেশন থেকে তিন মেট্রো স্টেশন দূরে।
আমি ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে পবিত্র হয়ে রওনা হলাম মসজিদের দিকে। প্রথমে বাসে করে ভেদেন খা মেট্রো স্টেশনে। সেখান থেকে প্রসপেক্ট মিরায় মেট্রো থেকে নেমে খুঁজতে লাগলাম মুসলমানদের। যারা আমাকে নিয়ে যাবে মস্কোর বড় মসজিদে। এ তথ্য বাংলাদেশী বিপ্লব দেন। পেয়েও গেলাম। তাদের মাথায় থাকা চিরাচরিত টুপি দেখে।

অবশ্য এর আগে দাড়িওয়ালা একজনকে মুসলমান ভেবে মসজিদের কথা জিজ্ঞাসা করে বিব্রতই হয়েছিলাম। ওই ব্যক্তি মুসলমান নন। মনে হলো খ্রিষ্টান। যাই হোক মুসলমানদের পেয়ে আমিও তাদের সাথে রওনা হলাম। হাজার হাজার মুসলমান। ছুটছেন মসজিদের পানে।

কিন্তু তাদের এত চাপের পরও রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। চলতে হবে ফুটপাথ দিয়ে। পুলিশের কড়া প্রহরা। এত লোক যে ফুটপাথে জায়গাই হচ্ছিল না হাঁটার জন্য। শেষ পর্যন্ত অন্যদের মতো আমিও ভিড় ঠেলে ঠেলে পেলাম নামাজের স্থান। তবে মসজিদে নয়। মূল মসজিদ থেকে মাইলখানেক দূরে মূল সড়কে। লাখ লাখ মুসলমান সেই সড়কে।

এরা মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশ কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তানসহ রুশ মুসলিম প্রজাতন্ত্র চেচনিয়া, দাগেস্তান, তাতারস্তান, ইংগুসেটিয়া, বাসকোরোস্তানের মানুষ। অন্য দেশের মুসলমানেরাও আছেন। পেলাম আদমের খপ্পরে পড়ে জর্জিয়া থেকে রাশিয়া যাওয়া এক বাংলাদেশীকে।

বেশ ঠাণ্ডা ছিল তখন। ফলে খালি রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। তাই ঠাণ্ডা দূর করতে আমরা কিনে নিলাম ১০০ রুবল দিয়ে জায়নামাজ। রাস্তার পাশে ও আশপাশের উঁচু উঁচু ভবনে তখন অস্ত্রধারী পুলিশের প্রহরা। নামাজ ও খুতবা শেষে মুনাজাত। এরপর সবাই যে যার বাড়ি বা কর্মস্থলের দিকে রওনা হলেও আমি ছুটলাম মূল মসজিদটি দেখতে; এই বিশাল জনস্রোতের বিপরীতে হেঁটে।

আমার সঙ্গীও পেলাম বেশ কয়েকজনকে। কিছুক্ষণ পর পৌঁছলাম মসজিদ চত্বরে। কিন্তু পুলিশের অনুমতি ছিল না মসজিদে প্রবেশের। বরং যারা বের হবেন তাদেরকে তাড়াতাড়ি চলে যাওয়ার কড়া নির্দেশ। এ মসজিদের নাম মস্কোর সেন্ট্রাল মসজিদ। মস্কোতে অবস্থিত চারটি মসজিদের অন্যতম এটি। একেবারে ব্যস্ততম ও বিশাল রাস্তার পাশে এই সেন্ট্রাল মসজিদ। রাস্তার পাশে আবার ট্রাম লাইনও। এত লোক এখানে জমায়েত হওয়া মানে সব রাস্তা বন্ধ। গাড়ি চলতে পারছে না। তাই নামাজ শেষেই মুসল্লিদের তাড়িয়ে দিচ্ছিল নিরাপত্তা কর্মীরা। মসজিদের পেছনেই ১৯৮০ সালের মস্কো অলিম্পিক গেমসের মূল ভেনু বা অলিম্পিক স্টেডিয়াম। স্টেডিয়ামের গায়ে লেখা অলিম্পিক রাশিয়া।

১৯০৪ সালে তাতার মুসলমানেরা এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ২০১৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তুরস্ক সরকারের অনুদানে নতুন রূপের এই মসজিদ উদ্বোধন করা হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধান রজব তাইয়েব এরদোগান ও রুশ প্রধান পুতিন উদ্বোধন করেন মসজিদটি। প্রায় ১০ হাজার মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন সেন্ট্রাল মসজিদে। অবশ্য পুরনো মডেলের মসজিদটি ভাঙা নিয়ে বিতর্ক আছে। শতবছরের পুরনো মসজিদটি ছিল ঐতিহ্যের অংশ। পুরনো নকশার বদলে নতুন মসজিদে আধুনিকতার ছোঁয়া।

পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আমার জেদ, মসজিদে না প্রবেশ করে ফিরব না। নিরাপত্তা কর্মীদের দেখালাম আমার রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড। ওই নিরাপত্তা কর্মী উপস্থিত তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বলল আমার কথা। ওই কর্মকর্তা তাকে উত্তরে জানালেন, ‘আমি যেন আরো দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করি’।

ফলে আমি আইল্যান্ডে থাকা গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেই দুই ঘণ্টা শেষ হওয়ার অপেক্ষায়। আমার সাথে আরো শত শত মুসলিম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মসজিদটি দেখছিলেন। হাত চালাচ্ছিলেন মোবাইলের ক্যামেরায়। কিন্তু তাদের বেশিক্ষন দাঁড়াতে দিচ্ছিল না নিরাপত্তা কর্মীরা। লোহার ব্যারিকেড দিয়ে সবাইকে আটকে রাখা হচ্ছিল; যেন তারা মসজিদে প্রবেশ করতে না পারে। অন্য রাস্তায় ভেতরে থাকা মুসল্লিদের বের করে দেয়া হচ্ছিল। এভাবে ঘণ্টা দেড়েক পর মুসল্লিদের সংখ্যা কমে গেলে আমার ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মিলে। ততক্ষণে বাংলাদেশ দূতাবাসে ঈদের নামাজ পড়া অন্য বাংলাদেশী মিডিয়া কর্মীরা চলে এসেছেন মসজিদে। তাদের উদ্দেশ্য জুমার নামাজ পড়া। উল্লেখ্য, সে দিন ছিল শুক্রবার।

মূল মসজিদ চত্বরে প্রবেশের সময় অবশ্য আর্চওয়ের সবুজ নিরাপত্তা সঙ্কেত নিয়েই প্রবেশ করতে হবে। অন্যদের মতো আমাকেও তা করতে হলো। সেই ভোরে বের হয়েছি আমাকে আশ্রয় দেয়া তিন প্রবাসী রূপন, কৃষ্ণ আর বিপ্লবের বাসা থেকে। ক্ষুধায় ততক্ষণে কাতর। মসজিদ চত্বরে হালকা খাবারের ব্যবস্থা আছে। এই খেজুর, বার্গার, মধ্য এশিয়ার প্লেট সাইজের বড় এবং ইঞ্চিখানেক উচ্চতার রুটি, মুরগির গোশত প্রভৃতি। এই একটি রুটি একজনের পক্ষে এক বেলা খেয়ে শেষ করা সম্ভব নয়।

আমি সেখানে সকালের নাশতার পর্ব শেষ করলাম। এরপর আরেক মুসলমান খাওয়ালেন খেজুর। একপর্যায়ে ভেবেছিলাম মসজিদ দেখা শেষে বাসায় ফিরে গিয়ে আবার আসব জুমা পড়তে। এতে সময় নষ্ট হবে বুঝে মসজিদ চত্বরেই বাকি সময় পার করলাম। জুমার নামাজের অজু করতে হলো লম্বা লাইন দিয়ে। জুমা শেষে বের হওয়ার সময় আবার পুলিশের কড়াকড়ি। রাস্তা দিয়ে নয়, চলতে হবে ফুটপাথ দিয়ে। মসজিদের আশপাশের সব রাস্তাই বন্ধ। আবার প্রচণ্ড ভিড়। ফলে সবার সাথে আমিও ধীরলয়ে রওনা হলাম মেট্রো স্টেশনের দিকে।

বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালে বাকি দিনগুলোতে আর জুমার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়নি ভিন্ন ভিন্ন শহরে থাকায়। সেখানে স্টেডিয়ামের পাশে তো মসজিদ নেই। ফাইনালের আগে আবার পেলাম শুক্রবার। এবার আর জুমা মিস নয় এ নিয়তে বাসা থেকে বের হলাম।

কিন্তু বাস, মেট্রো আর হাঁটা মিলে আমি মসজিদের পৌঁছাতে পৌঁছাতেই নামাজ শেষ। মসজিদের পাশের রাস্তায় মুসল্লিদের ভিড়। এই ভিড় ঢেলে মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য নামাজ ধরতে পারলাম না। পরে দাগেস্তানের এক মুসল্লির ইমামতিতে আমরা ৪-৫ জন জোহরের নামাজ আদায় করে বিশ্বকাপের মূল ভেনু মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে রওনা দিলাম। তখনো রাস্তায় পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতি। মুসলমানদের তাড়াতাড়ি সরিয়ে দিতে পারলেই রাস্তা উন্মুক্ত করা যাবে যান চলাচলের জন্য।

এত মুসলমানের ঢল নামত না তুরস্ক সরকারের অনুদানে গড়া এই মসজিদে। রুশ সরকার মস্কোর মুসলিম অধ্যুষিত স্থানে অবস্থিত মসজিদগুলো জোর করে বন্ধ করে দিয়েছে। কোনোটি বাংলাদেশীরা, কোনোটি মধ্য এশিয়ান মুসলমানেরা নির্মাণ করেছিলেন। আবার ছোটখাটো নামাজ ঘরও ছিল। অথচ নিরাপত্তার অজুহাতে সেগুলো বন্ধ করে দেয়ায় দূরের বড় মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ পড়াটা বেশ কঠিন মস্কোতে অবস্থানরত মুসলমানদের। জানালেন বাংলাদেশী মুসলমান বিপ্লব, মিঠু, হারুনরা। জুমা অনেকেরই পড়া হয় না এত দূরে মসজিদ থাকায়। প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা ব্যয় হয় বাসা থেকে মসজিদে গিয়ে জুমা পড়ে আবার ফিরে আসতে।

২৫১১ বর্গকিলোমিটার বা ৯৭০ বর্গমাইল আয়তনের মস্কোতে ৪-৫ লাখ মুসলমানের বসবাস। মোট জনসংখ্যা দেড় কোটির ওপরে। পুরো রাশিয়ায় প্রায় ২৫ শতাংশ মুসলমান বাস করেন। এমন তথ্য স্থানীয় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের। যদিও ২০১২ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মুসলমানদের সংখ্যা ৬.৫ শতাংশ। স্থানীয় মুসলমানেরা এ তথ্যকে মিথ্যা বলে অভিহিত করলেন।

এত মুসলমানের শহর মস্কোতে মাত্র চারটি মসজিদ নিতান্তই কম। শহরটিতে যেসব মুসলমানকে পেয়েছি, এদের বেশির ভাগই শ্রমিকের কাজ করেন। তাজিকিস্তানের মুসলমানেরা নির্মাণশ্রমিক। কিরগিজ মুসলমানের দেখেছি রেস্টুরেন্টে কাজ করতে। আজারবাইজানের মুসলমানেরা ছোট ছোট দোকান দিয়ে ব্যবসা করেন। নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে পেলাম চেচনিয়া ও দাগেস্তানের মুসলমানদের। মস্কোর রাস্তায় প্রচুর মুসলমান ট্যাক্সিচালক।

আমার ভাগ্যে তিন দিন তিনজন পড়েছিল। একজন তাজিকিস্তানের, অন্যজন উজবেক। তৃতীয় মুসলিম ট্যাক্সিচালকের বাড়ি দাগেস্তানে। আমি মুসলমান এটি জানার পর তারা আমার কাছে ভাড়া বেশ কম নিয়েছিলেন। রাশিয়ায় বাস করা মুসলমানদের এই নিচু শ্রেণীর কাজের জন্য দাগেস্তানের আবদুস সাত্তারের মত, এটা লেখাপড়া কম জানার জন্য।

তিনি জানান, ‘আমি তো একটি প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর।’ কিরগিজস্তানের মুসলমানেরা অবশ্য বেশি সুবিধা পান রাশিয়ায়। তা কিরগিজ সরকারের নীতির কারণে। তবে চেচনিয়ার মুসলমানের ভয় করে সবাই। এটা তাদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানালেন, ‘চেচেনদের মানুষ ভাড়া করে মাস্তানির জন্য’।

চেচনিয়ার যে ক’জন মুসলমানকে পেলাম তারা সবাই রাশিয়ার আক্রমণে মারা যাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট জোখার দুদায়েভের সমর্থক। চেচনিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রমজান কাদিরভ বা তার বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট আখমাদ কাদিরভকে পছন্দ করেন না। এদের নাম উচ্চারণ করতেই মুখ বাঁকা করে বিরক্তি দেখায়। দুদায়েভ ছিলেন স্বাধীন চেচনিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার নেতৃত্বে চেচেনরা যুদ্ধে পরাজিত করেছিল রুশদের। তার মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর চেচনিয়া দখলে নেয় রুশরা; তাও আখমাদ কাদিরভের বেইমানির কারণে। পরে চেচেন স্বাধীনতাকামীদের বোমা হামলায় মারা যায় এই আখমাদ। চেচনিয়ার রাজধানী গ্রোজনিতে এই ব্যক্তির নামে মসজিদ আছে। এই আখমাদের নামে আখমাদ গ্রোজনি ফুটবল ক্লাব আছে। যে দলটি খেলে রাশিয়ার সর্বোচ্চ প্রিমিয়ার লিগে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের সময় কমিউনিস্ট আমলে প্রচুর বাংলাদেশী সেখানে গিয়েছিলেন লেখাপড়া করার জন্য। পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে রাশিয়া হওয়ার পরও বাংলাদেশী ছাত্রদের ভিড় ছিল রাশিয়ায়। আছে এখনো। পুরনো বাংলাদেশীরা ব্যবসা করেন। তাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন অন্য বাংলাদেশীরা। তবে অবৈধ বাংলাদেশীরা আছেন বেশ কষ্টে। নিরাপত্তা কর্মীরা ধরতে পারলে তাদের জেলে ঢোকায়। এরপর ওই ভুক্তভোগী বাংলাদেশীকে দিয়ে দেশ থেকে বিমান ভাড়ার টাকা আনিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। মাঝে প্রচুর বাংলাদেশী রাশিয়া থেকে পোল্যান্ড হয়ে ইউরোপের অন্য দেশগুলোকে চলে যান। এখন সব মিলিয়ে হাজারখানেক বাংলাদেশী আছেন রাশিয়ায়।

সূত্র: নয়াদিগন্ত

LEAVE A REPLY