নারায়ণগঞ্জে তেল পাচারের অভিযোগে মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ প্রত্যাহার

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড গোদনাইল শাখার সুপার (ইনর্চাজ) খান নিজামূল করিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসময় মের্সাস শরিফুল ট্রেডার্স এর লাইন্সেস বাতিল করতে সুপারিশ করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার যুগ্ন সচিব এর নেতৃত্বে একটি টিম বিকালে অডিট করতে এসে বিভিন্ন অনিয়ম পেয়ে মেঘনা গোদনাইল শাখার ইনর্চাজ খান নিজামূল করিমকে এ প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে ডিপোর দ্বায়িত্ব পালন করেছেন লুৎফর রহমান। তিনি জনান, সাবেক ইনচার্জ খান নিজামূল করিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে দুর্ণীতি ও অনিয়মের কারনে।
জানা গেছে, ৩০ জানুয়ারি বিকালে পেট্রোবাংলার যুগ্ন সচিব আলতাব হোসেন এর নেতৃত্বে একটি টিম বিকালে মেঘনা ডিপোতে আসে। এসময় ডিপোর পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে ৪/৫টি ড্রাম করে তেল পাচার হচ্ছে। অডিট অফিসারদের সন্দেহ হলে ড্রাম গুলো আটক করে। পরে মেসার্স শরিফুল টেড্রার্স এর নামে চালান আনলেও অডিট কর্মকতারা ৩০ জানুয়ারি ডিপোর থেকে তেল বিক্রয়ের সকল চালান দেখতে চান। এসময় শরিফুল ট্রেডার্সের নামে ৭টি চালান পান বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অডিট টিম ৩ দিন অবস্থান করে ৩ মাসের শরিফুল ট্রেডার্সের সকল চালানের তথ্য সংগ্রহ করেন।
তাছাড়া নদী পথে তেল পাচার, অনিয়ম করে তেল কম দিয়ে অন্যত্র বিক্রয় করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩১ জানুয়ারি মেঘনা ডিপোর ইনচার্জ খান নিজামূল করিমকে প্রত্যাহার করেন। এদিকে মেঘনা ডিপোর একটি সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ জেলার শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মেসার্স শরিফুল ট্রেডার্স এর মালিক। কিন্তু মেঘনা ডিপো গোদনাইল শাখার শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি আশরাফ শরিফুল ট্রেডার্স পরিচালনা করতে (ভাড়া) চালাতেন।
এই শরিফুল ট্রেডার্সের মাধ্যমে ডিপোর ইনচার্জ ও শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আশরাফ র্দীঘদিন ধরে যোগসাজেসে চট্রগ্রাম থেকে জাহাজ করে আসা চোরাই তেল ডিপোতে তুলে শরিফুল ট্রেডার্সের নামে ২ হাজার, ২ হাজার ৫শ’ লিটার চালান করে প্রতিদিন ৭/ ১০টি ট্যাংকলরী করে ৯ হাজার লিটার তেল ডিপো থেকে পাচার করতো।
এ অনিয়মের সাথে মেঘনা শাখার ইনর্চাজ খান নিজামূল করিম জড়িত। তারা দুই জনে শরিফুল ট্রেডার্স এর মাধ্যমে ছোট ছোট চালান তৈরি করে এ তেল বাহিরে বিক্রয় করে থাকে। এ অপর্কমের মূল হোতা আশরাফ ডিপোর ইনর্চাজ প্রত্যাহার হওয়ার এলাকা থেকে পলাতক রয়েছে। তারা দু’জন প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার তেল ডিপো থেকে পাচার করে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প, কারখানায় সরবারাহ করতেন। যা পেট্রোল পাম্প ও কারখানা গুলোর চালান দেখলে প্রমান হবে।
এদিকে একটি সূত্র জানান, প্রতিদিন শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে তেলবাহি জাহাজ থেকে রাতের আধারে তেল পাচার করে আশরাফ গং। এদিকে আশরাফ এক সময় বিএনপি’র নেতা সামসু পুলিশের সহযোগী ছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় ২০১৪ সালে পর মেঘনা ডিপোর দ্বায়িত্ব নিয়েই ইনচার্জ খান নিজামূল করিমের সাথে যোগসাজেসে অনিয়ম করে তেল পাচার করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। এই আশরাফ এর মাধ্যমেই জেলার বিভিন্ন সরকারী কর্মকতাদের প্রতি মাসে একটি মোটা অংকের টাকা দেওয়া হতো।
ওদিকে এলাকাবাসী জানিয়েছে, এসও এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে আশরাফ ৮/১০ বছর আগেও এত টাকার মালিক ছিলোনা। এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। তাই তার টাকার উৎস কোথায় থেকে এসেছে তা অনুসন্ধান করতে দূর্নীতি কমিশন (দুদক)কের প্রতি আহবান জানিয়েছে এলাকাবাসি।
বর্তমান মেঘনা ডিপো গোদনাইল শাখার ইনর্চাজ লুৎফর রহমান জানান, আমি ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিপোর দ্বায়িত্ব নিয়েছি। সাবেক ইনচার্জ খান নিজামূল করিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে র্দূনীতি ও অনিয়মের কারনে।