নারায়ণগঞ্জে ৩০০ শয্যায় অনিয়ম : তত্ত্বাবধায়কের দুর্নীতিমুক্ত স্ট্যান্টবাজি

আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সিটির খানপুরে অবস্থিত ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রোগীদের মাঝে রয়েছে অভিযোগ। টিকেট কালোবাজারি, দালালের দৌরাত্ম্য, ওষুধ সংকট সহ নানান অনিয়মে জর্জরিত এই হাসপাতাল।
এরই মাঝে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে আসেন ডা. মো. আবু জাহের। যোগদানের পরেই তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে হাসপাতালের সকল অনিয়ম বন্ধের ঘোষণা দেন। অথচ পাঁচ মাস না পেরুতেই চোখের সামনে নানা অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে আছেন। অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করলেও কিছুই করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের প্রধান সরকারি হাসপাতাল হচ্ছে খানপুরে অবস্থিত ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল যা একই সাথে নারায়ণগঞ্জের সর্ববৃহৎ হাসপাতাল। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ একেএম সেলিম ওসমানের নির্দেশে হাসপাতালটিকে ৩০০শয্যা থেকে ৫০০শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলছে। হাসপাতালটিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বেশ সোচ্চার তিনি নিজেই। দালাল ধরিয়ে দিলে পুরষ্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন বেশ কয়েকবার। তবে যথাযোগ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে কোনভাবেই হাসপাতালটিকে দুর্নীতিমুক্ত করা যাচ্ছে না। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জবাসীর।

গত ১০ জুলাই ৩০০শয্যা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন ডা. মো. আবু জাহের। যোগদানের পর হাসপাতালের চিত্র পাল্টে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, আমি হাসপাতালে যোগদানের পরপরই জানতে পারলাম যে এখানে দালালদের তৎপরতা রয়েছে। তাই হাসপাতালে দালাল প্রতিরোধে কাজ করবো। আমি প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেই সাথে হাসপাতালের যারা ডাক্তার রয়েছেন তাদেরকেও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সেবা দানের ক্ষেত্রে ডাক্তারদের কোন গাফিলতি থাকলে সেটা মেনে নেয়া হবে না।

ঘোষণা কয়েকদিন হাসপাতালে বেশ তৎপর ছিলেন তিনি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের শাসিয়েছেন। হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে সহ বেশ কয়েক জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে দেন। যেখানে তাঁর ছবি সহ লেখা আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিমুক্ত

অথচ বাস্তবতায় হলো প্রতিটি ডাক্তারের রুমে চেস্বারের ভিতরে দালালদের উৎপাত। ডাক্তার নিজেই রোগীদেরকে অন্যত্র চিকিৎসা নেওয়ার জন্য হাতে কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছেন। জরুরি বিভাগে ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রোগীকে বসিয়ে রাখছেন।
ডাক্তাররা হাসপাতালে আসছেন নিজেদের মতো করে। ইচ্ছেমত চা বিরতি নিয়ে রোগীদের অপেক্ষা করাচ্ছেন। সব কিছুকে ছাড়িয়ে হাসপাতালের ডাক্তার না এসে অন্য ব্যক্তি দ্বারা চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করাচ্ছেন। অথচ এত দুর্নীতি তত্ত্বাবধায়কের চোখেই পরছে না। দুর্নীতিমুক্ত ব্যানার টাঙিয়েই জেন তাঁর সব দায়িত্ব শেষ।
১০ আগস্ট দুপুরে রোমান নামে যুবক খানপুর হাসপাতালে যায় ডেঙ্গু টেস্ট করানোর জন্য। টিকিট কিনে খানপুর ৩০০শয্যা হাসপাতালের বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. বেগম মরইয়ম জামিলার কাছে দেখাতে যান তিনি। ডা. বেগম মরইয়ম জামিলা তাকে দেখে প্রেসক্রিপশনে দুটি ওষুধ লিখে দেন এবং ডেঙ্গু আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য এনএস-ওয়ান ও সিবিসি দুইট পরীক্ষা লিখে দেন। এসময় তিনি তাকে মেডিনোভার কার্ড দিয়ে সেখানে পরীক্ষাগুলো করানোর জন্য বলেন।
মেডিনোভায় কেন পরীক্ষা করাবো প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে এই পরীক্ষাগুলো ভালোভাবে করানোর মেশিন নেই। মেডিনোভায় ভালোভাবে পরীক্ষা করানো হয় আপনি সেখান থেকে পরীক্ষা করে নিয়ে আসেন।
সাথে সাথে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে প্রমাণ সহ অভিযোগ করলেও কিছুই করার নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন। অথচ ডাক্তারদের দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না বলে স্ট্যান্টবাজি করেছিলেন তিনি।
এর আগে গত ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিজের ছেলের চিকিৎসা করাতে এসে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন দৈনিক যুগান্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রাজু আহমেদ। পা কেটে রক্ত পড়া অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে ৩০০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। ৩০ মিনিট অসহায়ের মত জরুরি বিভাগে অপেক্ষা করেও তিনি ডাক্তারের দেখা পাননি। অসহায় হয়ে বারবার ডাক্তারের জন্য আকুতি মিনতি করেও ডাক্তারের কাছে আনতে পারেননি। এদিকে ছেলের পা দিয়ে রক্ত পড়তে পড়তে অজ্ঞান হবার উপক্রম। কোন উপায়ান্ত না পেয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা করাতে হয় তাকে।

এম আর কামাল

LEAVE A REPLY