নারায়ণগঞ্জ এসপির কারনে প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ প্রশাসন!

আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০১৯
0

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : আপাতত নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের তৎপরতা কমেছে। গত কয়েকদিন তাদের তৎপরতায় নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী এমপি শামীম ওসমান শিবিরে।

বেশি আলোচনায় আসে পুলিশ আকস্মিকভাবে কোন প্রকার কারণ ছাড়া দুইদিন শহরের জলকামান ও সাজোঁয়া যানের মহড়া দিয়ে। আবার প্রভাবশালী আলোচিত এসপি জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ (পিপিএম বিপিএম (বার) নিজে গাড়িবহর নিয়ে মহড়া দিয়েছেন।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে কোন এসপিকে এ ধরনের মহড়া দিতে দেখা যায়নি বলে শহরবাসী জানিয়েছে।
বিষয়টি একদিকে আতঙ্ক অন্যদিকে কৌতুহলের সৃষ্টি করেছিল নগরবাসীর মধ্যে। তবে উচ্ছসিত হয়ে উঠে ওসমান পরিবার বিরোধী শিবির। সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইতে থাকে পুলিশ সুপারের তৎপরতা নিয়ে। যদিও জেলা পুলিশের কর্মকান্ডকে সমর্থন যুগিয়েছিল নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সন্ত্রাসী মীরুর বিরুদ্ধে মামলা, আওয়ামীলীগ নেতা শাহ নিজামের বিরুদ্ধে জিডি, ওসি মঞ্জুর কাদের বদলী, আওয়ামীলীগ-যুবলীগের কয়েক নেতার মোবাইলের ভয়েস রেকর্ডিং সব মিলিয়ে কিছুটা চাপে ছিল শামীম ওসমান শিবির।

কিন্তু ক্রীড়া সংগঠক ও শামীম ওসমানেরে শ্যালক তানভীর আহমেদ টিটুকে মাদকের সঙ্গে জড়ানোর ঘটনায় নড়ে চড়ে বসে ব্যবসায়ি সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গন। ফলে গনেশ উল্টে যায়। প্রশ্ন বিদ্ধ হয় পুলিশ সুপারের কার্যক্রম।
প্রতিবাদ সভা করে আল্টিমেটাম দেয় নারায়ণগঞ্জের চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতৃত্বে ৪৯টি ব্যবসায়ি সংগঠন। প্রতিবাদ বিবৃতি দেয় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ৭ অধিনায়কসহ ৮ খেলোড়ার। টিটুর বিষয়টিকে দলমত নির্বিশেষে কেউ-ই ভালো ভাবে নেয়নি।

সবারই একই কথা শুধু মাত্র উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে এবং শামীম ওসমানের শ্যালক হওয়ার কারণে টিটুকে মাদকের সাথে জড়ানো হয়েছে। টিটুর বিষয়টি নিয়ে যখন ব্যবসায়ি ও ক্রীড়াঙ্গন উত্তেজিত ঠিক তখনই শামীম ওসমান তার নেতকর্মীদের জরুরীভাবে ডেকে পাঠান। শনিবার তিনি ফতুল্লার বাংলা ভবনে সভা করেন।

তিনি নেতাকর্মীদের ধৈর্য্য ধরার আহবান জানিয়ে বলেন, অন্যায় ভাবে বা বিনা করণে কারো উপর হাত বা ঝামেলায় ফেলার চেষ্টা করা হলে এক সেকেন্ডের জন্য ছাড় দিবেন না তিনি। পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে শামীম ওসমান বলেন, মশা মারতে কামান দরকার নেই। পোশকধারী কোন সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাস করতে দেয়া হবে না। কথিত চায়ের দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে চাঁদাবাজি চলবে না। শামীম ওসমান বলেন, ‘কথা বলার দিন শেষ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’।
কর্মী সভায় নেতাকর্মীরা চিৎকার করে বলেন, এটা গাজীপুর নয় নারায়ণগঞ্জ। নারায়ণগঞ্জকে গাজীপুর হতে দেয়া হবে না। অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ নারায়ণগঞ্জে এসে ফতুল্লার কেন্দ্রীয় শ্রমিকলীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন ‘দাড়ি টুপি আলা কোন চাঁদাবাজ, শ্রমিক নেতা নারায়ণগঞ্জে থাকবে না। এক পর্যায়ে এসপির চাপে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের আগে কাউসার আহমেদ পলাশ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

মজার বিষয় হলো সেই কাউসার আহমেদ পলাশ এখন এসপির পাশে পাশে থাকে। আবার শোনা যাচ্ছে এসপি প্রধান অতিথি আর কাউসার আহমেদ পলাশ প্রধান বক্তা। ১৬ এপ্রিল শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল চাষাড়া শহীদ মিনারে। রহস্যজনক কারণে ১৬ এপ্রিলের তারিখ পরিবর্তন করে আগামী ১লা মে সমাবেশ করার ঘোষনা দেয়া হয়েছে। প্রশ্ন জাগে, পুলিশ সুপার কি রাজনৈতিক নেতা?। তিনি শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হয়ে বক্তব্য দিবেন। যা নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে কোন এসপি করেনি।

এদিকে ব্যবসায়িদের প্রতিবাদ সভা চলাকালীন জেলা পুলিশ জলকামান ও সাজোয়া যানের মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও শনিবার শামীম ওসমানের কর্মী সভা ঘিরে পুলিশের কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। অনেকটা লেজ গুটিয়ে নেয়ার মত ঘটনা দেখেছে নারায়ণগঞ্জবাসী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের ভুমিকা কি হয় তা দেখার অপেক্ষায় নারায়ণগঞ্জবাসী।

LEAVE A REPLY