নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিয়ের প্রলোভনে বাড়ছে ধর্ষণ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের আড়ালে ধর্ষণের মত ঘটনা বেড়ে চলেছে। ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে দেহ লোভী পিশাচরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এর মধ্যে কিছু ঘটনা প্রকাশ্যে আসলেও লোকচক্ষুর লজ্জায় অনেক ঘটনা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আবার অনেক সময় প্রভাবশালীদের দাপটের ফলে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। তবে এসব ঘটনায় সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন বেড়ে চলেছে।
১৫ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘর্ষণের ঘটনার সচিত্র তুলে ধরা হল।
২১ ফেব্রুয়ারী বন্দর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যুবতী (১৯) ধর্ষণ মামলার আসামী রতনকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক রতন বন্দর উপজেলার কামতাল এলাকার বোরহান মিয়ার ছেলে।
জানা গেছে, গত এক বছর পূর্বে বন্দর উইলসন রোড এলাকার একটি মেয়ের (১৯) সাথে বন্ধন গাড়ীতে বন্দর উপজেলার কামতাল এলাকার বোরহান উদ্দিনের ছেলে রতনের (২৫) সাথে পরিচয় হয়। রতন ৩১ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনায় যুবতী মেয়ে ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে। স্থানীয় এলাকায় বিচার চেয়ে না পেয়ে এ ব্যাপারে ধর্ষিতা যুবতী বন্দর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ গত বৃহস্পতিবার রাতে লম্পট ধর্ষক রতনকে তার বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে। লম্পট ধর্ষককে শুক্রবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করেছে।
১৮ ফেব্রুয়ারী রূপগঞ্জ উপজেলার শিমুলিয়া এলাকার পুর্বাচল উপশহরে অবস্থিত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ এর সিপিসি-৩ এর ক্যাম্পে র‌্যাবের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উত্তেজক ও নেশা জাতীয় দ্রব্যে পান করিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত ধর্ষক শাহাদাত র‌্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত শাহাদাতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে র‌্যাব আরো জানান, গত ২/৩ মাস আগে ওই কিশোরীর পারিবারিক দারিদ্রতার সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমন নামের এক যুবক মোবাইল ফোনে কথোপকথন চলতে থাকে। সুমন ও শাহাদাত দুজন বন্ধু। ওই কিশোরী সুমন বা শাহাদাতকে কখনও দেখেনি। এরই মধ্যে শাহাদাত ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জানুয়ারী দুপুরে শাহাদাত নিজে সুমন সেজে কিশোরীকে দেখা করার কথা বলে। পরে ওই কিশোরী দেখা করার জন্য পাশের উপজেলা সোনারগাঁও উপজেলার পেরাব এলাকায় গিয়ে সুমন পরিচয়ে শাহাদাত কিশোরীর সঙ্গে দেখা করে। এক পর্যায়ে ওই কিশোরীকে তাজমহল পিরামিড (রাজমনি পিরামিড) এর হোটেলে নিয়ে রাখা হয়।
এরপর উত্তেজক ও নেশা জাতীয় দ্রব্যে পান করিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত জখম করে। শুধু তাই নয়, ধর্ষক শাহাদাত সুকৌশলে কয়েক জনের সহযোগিতায় ধর্ষণের কিছু অংশ ভিডিও ধারণ করে কিশোরীকে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেয় যে, সম্পূর্ণ ঘটনা গোপন রাখবে।
উল্লেখ, সুমন ও শাহাদাতসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্ট কর্মী, স্কুল ছাত্রী, গৃহবধূকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন করার অভিযোগ রয়েছে।
২২ ফেব্রুয়ারী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ১০ বছরের শিশু কন্যা ধর্ষিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও (চড়পাড়া ) প্রামে এই ঘটনা ঘটে ।
জানা গেছে, শিশুটির মা রাতে তার অসুস্থ স্বামী ও ১০ বছরের শিশু কন্যাকে রেখে স্থানীয় ভাই ভাই স্পিনিং মিলে কাজে চলে যান। এই সুযোগে একই গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী জামির হোসেনের বখাটে ছেলে শাওন (১৮) ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ধর্ষিতার মা ডিউটি থেকে ভোরে বাড়ীতে আসলে ধর্ষিতা শিশুটি কাঁদতে থাকে। মা কারণ জানতে চাইলে মেয়ে কাদঁতে কাদঁতে ধর্ষণের ঘটনা খুলে বলে। পরে ধর্ষিতার মা মেয়েকে নিয়া থানায় এসে নিজে বাদী হয়ে একটি ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণের ফলে ধর্ষিতা শুধু শারীরিকভাবেই বিপর্যস্থ হয়না মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়। এর সাথে ধর্ষিতার পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে ধর্ষকেরা সব সময় প্রভাবশালী হয়ে থাকে, যেকারণে ক্ষমতার দাপটে ধর্ষিতা ও তার পরিবারের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে। আর এভাবে হাজারো ধর্ষণের ঘটনা আড়ালে চলে যাচ্ছে। তাই ধর্ষণের মত ঘটনা প্রতিরোধে আরো কঠোর শাস্তির বিধার করা উচিত।